ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

বাংলা কিউআর সেবার যাত্রা শুরু করল বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:১৭ এএম

ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে দেশজুড়ে ডিজিটাল ও সমন্বিত পেমেন্ট-ব্যবস্থা ছড়িয়ে দিতে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড বাংলা কিউআর এর মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে বলে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতাউর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পর্ষদ নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ মহসিন মিয়া।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ওবায়দুল হক।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালকদ্বয় মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও মোঃ জহিরুল আলম, প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগীয় প্রধান। সকল শাখার ব্যবস্থাপক, উপশাখা ইনচার্জগণ অনলাইনে অংশগ্রহন করেন।

প্রধান অতিথি মোঃ আতাউর রহমান তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত সকলকে বাংলা কিউআর এর মাধ্যমে পেমেন্ট করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি কিউআরের সুবিধা, ব্যবহার বিধির উপর আলোচনা করেন। এই সেবার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগনকে ব্যাংকিং চ্যানেলের মধ্যে অন্তর্ভূক্ত করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথি পর্ষদ নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোঃ মহসিন মিয়া বলেন এই সেবার মাধ্যমে গ্রাহক দ্রুত, নিরাপদ ও নগদবিহীন লেনদেন করতে পারবে এবং তথ্য যাচাই বাছাই করে লেনদেন করতে পারবে।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ওবায়দুল হক বাংলা কিউআর এর গুরুত্ব ও কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন ছোট বড় সকল ব্যবসায় এই পদ্বতি ব্যবহার করা যায়। নতুন এই ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন।

জ্বালানি তেলের দরপতন হলেও বিশ্ববাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম
ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানো থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরত থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে, যার ইতিবাচক প্রভাবে বিশ্ববাজারে সোমবার (৩ আগস্ট) স্বর্ণের দাম উর্ধ্বমুখী হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী স্পট গোল্ডের দাম দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৫ দশমিক ৭৬ ডলারে পৌঁছেছে এবং মার্কিন ফিউচার গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৫৪ ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি ইয়েনকে সহায়তা দিতে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপের কারণে মার্কিন ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা বৈশ্বিক ক্রেতাদের জন্য সোনা কেনা আরও সুবিধাজনক করেছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন যে সোনার বাজার ইতিবাচকভাবে শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্য ও তেলের বাজার ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে এই বৃদ্ধি কিছুটা সীমিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন যে সোমবারই ইরানের সঙ্গে বৈঠক হবে, যার প্রভাবে তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। যুদ্ধজনিত মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদের হার বাড়াতে বাধ্য করতে পারে বলে মার্কিন-ইরান সংঘাতের শুরু থেকেই সোনার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছিল। সুদের হার বৃদ্ধি নিয়ে গত সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের তিনজন কর্মকর্তা আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করে জানান যে ঋণের খরচ না বাড়ালে মূল্যস্ফীতি তাদের ২ শতাংশ লক্ষ্যের ওপরেই থেকে যাবে। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান সংক্রান্ত বেশ কিছু বড় প্রতিবেদন প্রকাশিত হতে যাচ্ছে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে সোনার দাম এবং মার্কিন সুদের হারের গতিপথ নির্ধারিত হতে পারে।  এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভার ০ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৫৮ দশমিক ১৩ ডলার, প্ল্যাটিনাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৪৯ দশমিক ৩৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ২৯৪ দশমিক ৯২ ডলারে পৌঁছেছে। সূত্র: রয়টার্স
জ্বালানি তেলের দরপতন হলেও বিশ্ববাজারে বাড়লো স্বর্ণের দাম
দেশে সব সয়াবিন তেলেই ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে
বাংলাদেশের বাজারে খোলা ও বোতলজাত-উভয় ধরনের সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষকের পরীক্ষায় ৬০টি নমুনার সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে।  ঢাকার কয়েকটি এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৬০টি নমুনার প্রতি লিটারে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বিশ্বখ্যাত 'জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন এন্ড অ্যানালাইসিস'-এ গত এপ্রিল মাসে এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ হয়। গবেষণায় সয়াবিন তেলে ছয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার (Elsevier) এই গবেষণা প্রকাশ করেছে। গবেষণায় প্রতিটি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গেছে। এতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছাড়াও এর বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কেও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় প্রতিটি নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকদের মতে, খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার প্রবেশ দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।গবেষণাপত্রটি ২০২৫ সালের আগস্টে জমা দেওয়া হয়। পর্যালোচনা শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা গৃহীত হয়। একই মাসে এটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। পরে তা ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় স্থান পায়। গবেষকরা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপ থেকে তিনটি ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল এবং ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার খোলা বাজার থেকে তিন ধরনের নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের নমুনা সংগ্রহ করেন। মোট ৬০টি নমুনা আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। ব্র্যান্ডেড তেলে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি এবং নন-ব্র্যান্ডেড তেলে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণার উপস্থিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নন-ব্র্যান্ডেড তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ ব্র্যান্ডেড তেলের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেশি। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেজগাঁও থেকে সংগ্রহ করা নন-ব্র্যান্ডেড তেলের নমুনায় সর্বোচ্চ পরিমাণ দূষণ পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, শিল্পাঞ্চল এলাকার পরিবেশ, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রে তেল সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় বিক্রি এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এই দূষণের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।  অন্যদিকে ব্র্যান্ডেড তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাওয়ায় গবেষকদের ধারণা, উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং কিংবা পরিবহনের বিভিন্ন ধাপেও প্লাস্টিক কণা তেলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। বাংলাদেশের বাজারে খোলা ও বোতলজাত-উভয় ধরনের সয়াবিন তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের একদল গবেষকের পরীক্ষায় ৬০টি নমুনার সবগুলোতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে।Travel Guides & Travelogues ঢাকার কয়েকটি এলাকা থেকে সংগ্রহ করা ৬০টি নমুনার প্রতি লিটারে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। বিশ্বখ্যাত 'জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন এন্ড অ্যানালাইসিস'-এ গত এপ্রিল মাসে এ গবেষণা রিপোর্ট প্রকাশ হয়। গবেষণায় সয়াবিন তেলে ছয় ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়ার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার (Elsevier) এই গবেষণা প্রকাশ করেছে। গবেষণায় প্রতিটি নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। তবে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তুলনায় খোলা সয়াবিনে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গেছে। এতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি ছাড়াও এর বৈশিষ্ট্য এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কেও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়। গবেষণায় প্রতিটি নমুনায় ছয় ধরনের প্লাস্টিক পলিমারের উপস্থিতি মিলেছে। এর মধ্যে রয়েছে লো-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এলডিপিই), হাই-ডেনসিটি পলিইথিলিন (এইচডিপিই), পলিপ্রোপিলিন (পিপি), পলিইথিলিন টেরেফথালেট (পিইটিই), পলিইউরেথেন (পিইউ) ও নাইলন। গবেষকদের মতে, খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে মানবদেহে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার প্রবেশ দীর্ঘমেয়াদে উদ্বেগের কারণ হতে পারে। গবেষণাপত্রটি ২০২৫ সালের আগস্টে জমা দেওয়া হয়। পর্যালোচনা শেষে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তা গৃহীত হয়। একই মাসে এটি অনলাইনে প্রকাশিত হয়। পরে তা ২০২৬ সালের এপ্রিল সংখ্যায় স্থান পায়। গবেষকরা রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন সুপারশপ থেকে তিনটি ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেল এবং ক্যান্টনমেন্ট, উত্তরা ও তেজগাঁও এলাকার খোলা বাজার থেকে তিন ধরনের নন-ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের নমুনা সংগ্রহ করেন। মোট ৬০টি নমুনা আধুনিক পরীক্ষাগার প্রযুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে গড়ে ৫৩ হাজার ৯২২টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। ব্র্যান্ডেড তেলে গড়ে ৪৮ হাজার ৬৭টি এবং নন-ব্র্যান্ডেড তেলে ৫৯ হাজার ৭৭৮টি কণার উপস্থিত পাওয়া গেছে। অর্থাৎ নন-ব্র্যান্ডেড তেলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের পরিমাণ ব্র্যান্ডেড তেলের তুলনায় প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেশি। গবেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেজগাঁও থেকে সংগ্রহ করা নন-ব্র্যান্ডেড তেলের নমুনায় সর্বোচ্চ পরিমাণ দূষণ পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, শিল্পাঞ্চল এলাকার পরিবেশ, পুনর্ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাত্রে তেল সংরক্ষণ, খোলা অবস্থায় বিক্রি এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যবিধি এই দূষণের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে ব্র্যান্ডেড তেলেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাওয়ায় গবেষকদের ধারণা, উৎপাদন, পরিশোধন, প্যাকেজিং কিংবা পরিবহনের বিভিন্ন ধাপেও প্লাস্টিক কণা তেলের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।
দেশে সব সয়াবিন তেলেই ক্ষতিকারক মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে
খাবারের পেছনেই মানুষের আয়ের ৬০ শতাংশ ব্যয়, কারসাজিতে সিন্ডিকেট
সাধারণ মানুষ তাদের আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই খাবারের পেছনে ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার পেছনে শক্তিশালী মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু সিন্ডিকেট কাজ করে বলে মনে করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘দ্য ফুড প্রাইস চেইন : মার্কেটস, মার্জিনস অ্যান্ড ইন্টারমিডিয়ারিজেস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সিপিডি গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেমিনারে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, কৃষি অর্থনীতিবিদ এম এ সাত্তার মন্ডল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সিপিডি বলছে, খাদ্যের দামের সামান্য ওঠানামা মানেই সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান পড়ে যায়। ৬০ শতাংশেরও বেশি পরিবার তাদের উপার্জনের কমপক্ষে অর্ধেক টাকা ব্যয় করে খাবার কিনতে। আর নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ওই ব্যয় প্রায় ৬০ শতাংশ। মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে যখন মানুষের প্রকৃত আয় কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না, তখন আয়ের একটি বড় অংশ খাবারের জন্য ব্যয় করতে গিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা বিসর্জন দিতে হচ্ছে। উপস্থাপিত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, খুচরা বাজারের দাম বৃদ্ধিকে কেবল উৎপাদন খরচ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। এর পেছনে কাজ করছে শক্তিশালী মধ্যস্বত্বভোগী ও অসাধু সিন্ডিকেট। উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত পণ্যের যে দীর্ঘ সাপ্লাই চেইন, সেখানে কমিশন এজেন্ট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য বিদ্যমান। স্থানীয় পর্যায়ের ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে বড় আমদানিকারক অনেকেই একে অপরের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা বা সিন্ডিকেট তৈরি করে দাম নির্ধারণ করে দেয়। ফলে বাজারে প্রতিযোগিতার অভাব দেখা দেয় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছামতো দাম হাঁকাতে পারে। সেমিনারে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ৪ বছর ধরে মূল্যস্ফীতি আমাদের অর্থনীতির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি মানুষের উপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, খাদ্যের দাম কেনো বাড়ে? আমরা মাঠ পর্যায় গিয়েও দেখেছি এটা খুব সহজ একটা প্রশ্ন না। উৎপাদন, বিপণন, বাজারজাতকরণ আছে। দুর্যোগে উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাজারে অদক্ষতা, মজুতদারি, ঘাটতি, প্রতিযোগিতা আছে। Chemistry কৃষকের কাছ থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের ফারাক সম্পর্কে তিনি বলেন, সরবরাহ শৃঙ্খলে অনেক কিছু থাকে। অনেক অ্যাক্টররা থাকে, অনেক অংশীদাররা থাকে। ফড়িয়া, ব্যাপারী থাকে আরও অনেকেই থাকে। যার কারণে মূল্য ধাপে ধাপে পরিবর্তন হতে থাকে। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে সিপিডির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী ফখরুদ্দিন আল কবীর বলেন, বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির পেছনে শুধু উৎপাদন খরচ নয়, বাজার কাঠামো, মধ্যস্বত্বভোগী, মজুতদারি, সরবরাহ ঘাটতি ও বাজারে আধিপত্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষ এখনও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তার ভাষ্যে, মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। কেবল উৎপাদনের খরচ বাড়ার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বাড়ছে না। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত; এই সময়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ২০২৪-এর তুলনায় এটা কিছুটা কমলেও এখন তা আবার বাড়তির দিকে। খাদ্য মূল্যসূচক বা সিপিআই এর ৫৯ শতাংশই খাদ্যপণ্য। সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবার তাদের মোট ব্যয়ের ৫৯.৮ শতাংশ খাদ্যে ব্যয় করে, যেখানে ধনী ৫ শতাংশ পরিবার ব্যয় করে মাত্র ২৮.৯ শতাংশ। নিম্নআয়ের লোকজনই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণে প্রকৃত মজুরি কমে যাওয়ায় মানুষকে সঞ্চয় ভাঙতে বা ঋণ নিতে হচ্ছে, যা দারিদ্র্যের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। বেতন বাড়লে ভোক্তা সুবিধা পাচ্ছেন না। আজকে যে টাকায় বাজার করতে পারছেন, আগামীকাল সেই পরিমাণ পণ্য তারা কিনতে পারছেন না। জীবনযাত্রার মান ও ব্যয়ের সঙ্গে এক ধরনের কম্প্রোমাইজ করে চলতে হচ্ছে। বাজার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ১০টি নিত্যপণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১০টির মধ্যে ৬টি পণ্যের খুচরা বিক্রেতারা প্রধানত আড়তদারদের ওপর নির্ভরশীল, যা বাজারে একচেটিয়া প্রভাব ও মূল্য অস্থিরতা বাড়াতে পারে। চালের খাদ্য শৃঙ্খলে শুরুতে রয়েছে উৎপাদক। তারপর ব্যাপারী, অটো রাইস মিলার, আরবান আড়তদার ও খুচরা বিক্রেতারা আছেন। মিলারদের কাছে মূল্য অস্বাভাবিকতা বা পার্সেন্টেজ স্প্রেড সবচেয়ে বেশি। সরবরাহ চেইন যত দীর্ঘ, খামার থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধিও তত বেশি মধ্যস্বত্বভোগীরাই মূল্যবৃদ্ধির একমাত্র কারণ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। বাজারে একাধিক স্তর থাকলেও প্রতিটি স্তর যদি দক্ষ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ করে, তাহলে তা প্রয়োজনীয় ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষণায় বলা হয়, খামার পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধির হার- সবুজ মরিচে ১১৬ শতাংশ, আলু ৫০ শতাংশ, পেঁয়াজ ৮৭ শতাংশ, চাল ১০০ শতাংশ, ডাল ৭৮ শতাংশ, বেগুন ৭২ শতাংশ, ডিম ২৫ শতাংশ, গরুর মাংস ১৩ শতাংশ, রুই মাছ ১০ শতাংশ ও মুরগি ২২ শতাংশ।
খাবারের পেছনেই মানুষের আয়ের ৬০ শতাংশ ব্যয়, কারসাজিতে সিন্ডিকেট
স্বর্ণের দামে এবার বড় লাফ
দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।  এবার ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব  জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে  অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে  অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। স্বর্ণের দাম বাড়ানোর হলেও দেশের বাজারে অপরিবর্তিত রয়েছে রুপার দাম। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
স্বর্ণের দামে এবার বড় লাফ
এ.এস.এম. ফিরোজ আলম ও মোঃ আব্দুল হান্নান মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত
মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে এ.এস.এম. ফিরোজ আলম এবং মোঃ আব্দুল হান্নান, এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।  বৃহষ্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৪৯০তম সভায় তাঁদের এ পদে নির্বাচিত করা হয়। তাঁরা উভয়েই ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক এবং দেশের স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান এ.এস.এম. ফিরোজ আলম একজন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী। তিনি বেঙ্গল ট্রেডিং অ্যাসোসিয়েটস (টোকিও)-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক। পাশাপাশি তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক এবং মার্কেন্টাইল ব্যাংক সিকিউরিটিজ লিমিটেড (এমবিএসএল)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া তিনি প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড-এর উদ্যোক্তা ও সাবেক চেয়ারম্যান এবং পটুয়াখালীর কালাইয়ায় প্রতিষ্ঠিত ‘সাহেদা গফুর ইব্রাহিম জেনারেল হাসপাতাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা। আর্থিক খাতের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিনি সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে, মোঃ আব্দুল হান্নান, এমপি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি ব্যাংকের একজন উদ্যোক্তা পরিচালক এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ব্যবসায়িক অঙ্গনে তিনি ডেবস্টার অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড ও মুরাদ অ্যাপারেলস লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এছাড়াও তিনি একাধিক রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্প ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ব্যবসার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। পরিচালনা পর্ষদের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ব্যাংকের নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রাহকসেবা, সুশাসন ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নবনির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যানরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এ.এস.এম. ফিরোজ আলম ও মোঃ আব্দুল হান্নান মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত