
২০২৬ বিশ্বকাপে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি এবং ফিফার নতুন রেফারিং প্রোটোকল নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় উঠেছে। সাবেক ফিফা রেফারি এবং বিশ্ববিখ্যাত গণমাধ্যম আইটিভির বর্তমান নিয়ম বিশ্লেষক ক্রিস্টিনা উনকেল এই টুর্নামেন্টের রেফারিং পদ্ধতিকে একটি বারুদ ভর্তি পাত্রের সাথে তুলনা করেছেন, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে ক্রিস্টিনা উনকেলের এই বিস্ফোরক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে তিনি ফিফার অপরিপক্ব নিয়মনীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্রিস্টিনা উনকেল টুর্নামেন্টের মাঝপথে ফিফার নতুন রেফারিং প্রোটোকল চালুর তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি জানান, ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়ার বিষয়টি সংশোধন করার জন্য ফিফা যে নতুন নিয়ম এনেছে, তার পরিধি বা সুযোগ মাত্রাতিরিক্ত বড় করা হয়েছে, যা এই ধরনের বিশ্বমঞ্চে প্রয়োগ করা একেবারেই উচিত হয়নি। ক্রিস্টিনার মতে, নতুন প্রোটোকলের কারণে ভিএআর শুধুমাত্র কাকে কার্ড দেওয়া হলো তা-ই পরিবর্তন করছে না, বরং মূল সিদ্ধান্তের পুরো ভিত্তিটাই বদলে দিচ্ছে। যেমন, একদিকে হওয়া ফ্রিকিকের সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ উল্টে দিয়ে বিপরীত দলের পক্ষে ফ্রিকিক ঘোষণা করা হচ্ছে—যা মাঠের রেফারির মূল দায়িত্বকে খর্ব করে ভিএআর রুম থেকে ‘রি-রেফারিং’ বা পুনরায় ম্যাচ পরিচালনার শামিল।
এই নিয়মগত বিভ্রান্তির কারণে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মাঝে গভীর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ম্যাচগুলোতে রেফারিং ও ভিএআর সিদ্ধান্তের একপেশে সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে সমর্থকেরা একে ব্যঙ্গ করে 'ভার্জেন্টিনা' নাম দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে ক্রিস্টিনা উনকেল রয়টার্সকে বলেন, পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া বিশ্বকাপের মতো আসরে এমন জটিল প্রোটোকল নিয়ে আসায় ফুটবলার ও ভক্তদের মাঝে ফিফার প্রতি বিশ্বাস সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। একজন অভিজ্ঞ রেফারি হিসেবে নিজের ক্যারিয়ারের উদাহরণ টেনে তিনি যোগ করেন যে, ফুটবল মাঠে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের এমন নজিরবিহীন ক্ষোভ, তীব্র অবিশ্বাস ও হতাশা তিনি তার জীবনে আগে কখনো দেখেননি।
