ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

কাঁঠাল ও কাঁঠালের বিচির উপকারিতা

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:১৭ এএম

বাংলার প্রকৃতির এক অনন্য উপহার কাঁঠাল। এটি আমাদের জাতীয় ফল এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সুস্বাদু খাদ্য। গ্রীষ্মকালে সহজলভ্য এই ফলটি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাঁঠালের পাশাপাশি এর বিচিও অত্যন্ত পুষ্টিকর এবং নানাভাবে খাদ্যতালিকায় ব্যবহার করা যায়।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

কাঁঠালের পুষ্টিগুণ: কাঁঠালে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। এতে বিশেষভাবে পাওয়া যায়

ভিটামিন এ
ভিটামিন সি
পটাশিয়াম
ম্যাগনেসিয়াম
ক্যালসিয়াম
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান
খাদ্যআঁশ

কাঁঠালের উপকারিতা:

১. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
কাঁঠালে বিদ্যমান ভিটামিন সি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দেয়।

২. চোখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
কাঁঠালে থাকা ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করতে সহায়তা করে এবং রাতকানা রোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।Health

৩. হজমশক্তি উন্নত করে
খাদ্যআঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় কাঁঠাল কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং পরিপাকতন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক।

৪. হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
কাঁঠালের পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, যা হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।Nutrition

৫. ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখে
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

কাঁঠালের বিচির পুষ্টিগুণ:

অনেকেই কাঁঠালের বিচি ফেলে দেন, অথচ এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর একটি খাদ্য। কাঁঠালের বিচিতে রয়েছে

  • উদ্ভিজ্জ প্রোটিন
  • জটিল শর্করা
  • খাদ্যআঁশ
  • আয়রন
  • ফসফরাস
  • পটাশিয়াম
  • বি-ভিটামিনসমূহ

কাঁঠালের বিচির উপকারিতা:

১. শরীরে শক্তি জোগায়
বিচিতে থাকা জটিল শর্করা ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে, ফলে দীর্ঘ সময় কর্মক্ষমতা বজায় থাকে।

২. পেশী গঠনে সহায়ক
উদ্ভিজ্জ প্রোটিন পেশী গঠন ও দেহের ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে।

৩. রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়তা করে
আয়রনসমৃদ্ধ হওয়ায় নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে বিচি খাওয়া রক্তকণিকা তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।Anatomy

৪. হজমে সহায়তা করে
খাদ্যআঁশ অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে ভূমিকা রাখে।

৫. হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
ফসফরাস ও ম্যাগনেসিয়াম হাড় ও দাঁতের গঠন মজবুত রাখতে সহায়তা করে।

খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা:
অতিরিক্ত কাঁঠাল খেলে কিছু মানুষের পেটে গ্যাস, অস্বস্তি বা বদহজম হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগীদেরও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে খাওয়া উচিত, কারণ পাকা কাঁঠালে প্রাকৃতিক শর্করার পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। কাঁঠালের বিচি ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়াই উত্তম।

কাঁঠাল শুধু একটি সুস্বাদু মৌসুমি ফল নয়, এটি পুষ্টির ভাণ্ডারও বটে। এর কোয়া যেমন শরীরকে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে, তেমনি বিচিও প্রোটিন ও খনিজের উৎকৃষ্ট উৎস। তাই কাঁঠালের মৌসুমে পরিমিত পরিমাণে কাঁঠাল ও এর বিচি খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে।

সহজেই যেভাবে বানাবেন ব্রয়লার মুরগির স্যুপ
স্যুপের জনপ্রিয়তা তাই কখনো কমে না। ঘরোয়া উপকরণ আর পরিচিত মসলার ছোঁয়ায় সহজেই তৈরি করা যায় অসাধারণ স্বাদের এক বাটি স্যুপ। ব্রয়লার মুরগির কোমল স্বাদ, সবজির সতেজতা আর মসলার সুবাস মিলিয়ে তৈরি হবে এমন এক পদ, যা শরীরকে উষ্ণ করবে, মনকে ভরিয়ে দেবে। উপকরণ রান্নার তেল ২-৩ টেবিল চামচ ব্রয়লার মুরগি ৬০০ গ্রাম (৪ টুকরা করা) আদা বাটা/থেঁতো করা ১ টেবিল চামচ রসুন বাটা/থেঁতো করা ১ টেবিল চামচ পেঁয়াজ কুচি ১টি মাঝারি আকারের তেজপাতা ১টি দারুচিনি ৩ টুকরা গোলমরিচ ১২-১৩টি লবঙ্গ ৪-৫টি ধনে বীজ ১ চা-চামচ জিরা ১ চা-চামচ মৌরি ১/৪ চা-চামচ সবুজ এলাচ ২টি ভাঙা গোলমরিচ ১ চা-চামচ লবণ স্বাদ অনুযায়ী (প্রায় ১/২ টেবিল চামচ) হলুদ গুঁড় ১/২ চা-চামচ চিকেন কিউব ২টি পানি ২ লিটার (প্রয়োজন অনুযায়ী) সেদ্ধ ডিম পরিবেশনের জন্য ভাঙা গোলমরিচ সাজানোর জন্য যেভাবে তৈরি করবেন প্রথমে একটি হাঁড়িতে তেল গরম করে মুরগির টুকরোগুলো দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে ভাজুন। মাংসের রং পরিবর্তন হলে এতে আদা ও রসুন দিয়ে আরও এক মিনিট রান্না করুন। এরপর পেঁয়াজ, তেজপাতা, দারুচিনি, গোলমরিচ, লবঙ্গ, ধনে বীজ, জিরা, মৌরি, এলাচ, ভাঙা গোলমরিচ, লবণ, কাঁচা হলুদ ও চিকেন কিউব দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এতে পানি দিয়ে ঢেকে দিন। ফুটে উঠলে ওপরে জমে থাকা ফেনা তুলে ফেলুন। এরপর মাঝারি আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না মুরগি নরম হয় এবং ঝোল কমে প্রায় অর্ধেক হয়ে আসে। এতে সময় লাগতে পারে প্রায় দেড় ঘণ্টা। মুরগি সেদ্ধ হয়ে গেলে ছাঁকনি দিয়ে ঝোল ছেঁকে নিন। এবার টুকরাগুলো আলাদা করে রাখুন। আর ঝোল সংরক্ষণ করুন। পরিবেশনের সময় বাটিতে মুরগির টুকরা দিয়ে তার ওপর প্রস্তুত করা ঝোল ঢেলে দিন। ওপরে সেদ্ধ ডিম ও ভাঙা গোলমরিচ ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন। ভাত, রুটি কিংবা পোলাওয়ের সঙ্গে এই বয়লার মুরগির স্যুপ হতে পারে দারুণ এক পদ।
সহজেই যেভাবে বানাবেন ব্রয়লার মুরগির স্যুপ
ফ্যানের পাখায় ময়লা, বাড়বে বিদ্যুৎ বিল? জেনে নিন বাস্তবতা
গরমের সময়  সিলিং ফ্যান প্রায় প্রতিটি বাড়িরই অন্যতম ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক যন্ত্র। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য অনেকেই ফ্যানের গতি কমিয়ে ব্যবহার করেন। তবে একটি বিষয় প্রায়ই নজর এড়িয়ে যায় ফ্যানের পাখায় জমে থাকা ধুলা। তবে, এই ধুলা ফ্যানের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে এবং কিছু ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচও বাড়াতে পারে। সময়ের সঙ্গে জানালা ও দরজা দিয়ে আসা ধুলা ফ্যানের পাখায় জমতে থাকে। বিশেষ করে পাখার প্রান্তে ধুলার স্তর পুরু হয়ে গেলে ফ্যানের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বাতাস কাটার ক্ষমতা কমে যায়। ফলে আগের মতো বাতাস দিতে মোটরকে তুলনামূলক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। এর ফলে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। অনেক সময় দেখা যায়, ফ্যান পূর্ণ গতিতে চললেও আগের মতো বাতাস পাওয়া যায় না। অনেকেই তখন  মোটরের ত্রুটি মনে করেন। কিন্তু বাস্তবে পাখায় জমে থাকা ধুলার স্তর বাতাসের প্রবাহ কমিয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্ষেত্রে শুধু ফ্যান ভালোভাবে পরিষ্কার করলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। পাখায় ধুলা জমে থাকলে মোটরের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে মোটরের কার্যক্ষমতা কমে যেতে পারে এবং এর আয়ুও হ্রাস পেতে পারে। তাই নিয়মিত ফ্যান পরিষ্কার রাখা শুধু ভালো বাতাস পাওয়ার জন্য নয়, যন্ত্রটির দীর্ঘস্থায়ী ব্যবহারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। আরেকটি সমস্যা হলো ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। ফ্যানের একদিকে বেশি ধুলা জমলে চলার সময় সেটি কাঁপতে বা দুলতে পারে। দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় ব্যবহার করলে  মোটর ও মাউন্টিং সিস্টেমের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের যান্ত্রিক সমস্যার কারণ হতে পারে। ফ্যান থেকে অস্বাভাবিক শব্দ আসা, অতিরিক্ত কাঁপা বা চলতে চলতে বারবার বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণকে অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় স্ক্রু ঢিলে হয়ে যাওয়া বা ফিটিং দুর্বল হওয়ার কারণেও এমন সমস্যা দেখা দেয়, যা নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নির্দিষ্ট সময় পরপর ফ্যানের পাখা পরিষ্কার করা এবং এর বিভিন্ন অংশ পরীক্ষা করা উচিত। এতে ফ্যানের বাতাস দেওয়ার ক্ষমতা বজায় থাকে, বিদ্যুৎ অপচয়ের সম্ভাবনা কমে এবং মোটরের ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়ে না। পরিষ্কার করার পরও সমস্যা থাকলে অবশ্যই দক্ষ টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে ফ্যান পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া উচিত।
ফ্যানের পাখায় ময়লা, বাড়বে বিদ্যুৎ বিল? জেনে নিন বাস্তবতা
শুধু এসপিএফ ৫০ লিখলেই কি সানস্ক্রিন নিরাপদ?
বাংলাদেশের উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুর জন্য অনেকেই সানস্ক্রিন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলেন, কারণ এটি ত্বককে তৈলাক্ত বা চিটচিটে করে ফেলে, অথবা ব্যবহারের পর ত্বকে হোয়াইট কাস্ট রেখে যায়। People & Society এছাড়া, অন্য দেশের জলবায়ুর জন্য তৈরি কোনো ফর্মুলা বাংলাদেশের দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য সবসময় স্বস্তিদায়ক নাও হতে পারে। সানস্ক্রিনের আসল কার্যকারিতা তখনই, যখন সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। শুধু ভালো পরীক্ষার ফল থাকলেই হবে না।  তাহলে গ্রাহকরা কীভাবে জানবেন যে একটি সানস্ক্রিন সত্যিই কাজ করে কিনা? প্রথম ধাপ হলো লেবেলের অর্থ বোঝা। এসপিএফ (SPF), বা সান প্রোটেকশন ফ্যাক্টর, ইউভিবি (UVB) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষার মাত্রা পরিমাপ করে, যা মূলত সানবার্নের কারণ। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, একটি এসপিএফ ৫০ (SPF 50) সানস্ক্রিন এই রশ্মিগুলোর প্রায় ৯৮ শতাংশ আটকে দেয়।  কিন্তু এসপিএফ হলো সম্পূর্ণ চিত্রের একটি অংশ মাত্র। পিএ (PA) রেটিং ইউভিএ (UVA) রশ্মির বিরুদ্ধে সুরক্ষা নির্দেশ করে, যা ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে এবং ট্যানিং, পিগমেন্টেশন ও অকাল বার্ধক্যের সাথে সম্পর্কিত। এই দুটি রেটিং একত্রে দেখায় যে একটি সানস্ক্রিন সূর্যের তাৎক্ষণিক এবং দীর্ঘমেয়াদী উভয় ধরনের ক্ষতি থেকে কতটা ভালোভাবে সুরক্ষা দেয়। Sunscreen দ্বিতীয় ধাপটি হলো, এই সংখ্যাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে তা জিজ্ঞাসা করা। সব এসপিএফ (SPF) পরীক্ষা একই রকম নয়। ইন-ভিভো (In-vivo) পরীক্ষায় পণ্যটি মানব স্বেচ্ছাসেবকদের উপর প্রয়োগ করা হয় এবং নিয়ন্ত্রিত ইউভি রশ্মির সংস্পর্শে ত্বক কখন লাল হতে শুরু করে তা পরিমাপ করা হয়; এটি এমন একটি পদ্ধতি যা বেশিরভাগ বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো চূড়ান্ত বলে মনে করে এবং অস্ট্রেলিয়ার গবেষণার ফলাফল বের করার ক্ষেত্রেও এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।  ইন-ভিট্রো (In-vitro) পরীক্ষায় একটি স্পেকট্রোফটোমিটার ব্যবহার করে পণ্যের একটি পাতলা স্তরের মধ্য দিয়ে কী পরিমাণ ইউভি রশ্মি প্রবেশ করে তা পরিমাপ করা হয়েছিল। এটি দ্রুততর, সাশ্রয়ী এবং শিল্পজুড়ে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যদিও এটি মানব গবেষণার পরিবর্তে একটি পরীক্ষাগারভিত্তিক বিকল্প পদ্ধতি।  কিন্তু মূল বিষয় হলো কোনো পদ্ধতিই চূড়ান্ত নয়, এবং এমনকি একই পণ্যের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের ফলাফল ভিন্ন হতে পারে, যা অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন খতিয়ে দেখছে। ভোক্তাদের উচিত যে ব্র্যান্ডগুলো তাদের পরীক্ষাগার, পদ্ধতি এবং ফলাফল উল্লেখ করতে ইচ্ছুক সেই পণ্যগুলো কেনা, শুধুমাত্র নামী ব্র্যান্ডের বোতলের উপর একটি ছাপানো লেবেল দেখে না কেনা।  বিশ্বব্যাপী সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা নিয়ে বাড়তি নজরদারির পর, কিছু স্থানীয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডও এখন বাহ্যিক পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পণ্যের কার্যকারিতা প্রমাণে গুরুত্ব দিচ্ছে। স্কিন ক্যাফে এমনই একটি উদাহরণ। এই বাংলাদেশী ব্র্যান্ডটি তাদের ‘স্কিন ক্যাফে সানস্ক্রিন এসপিএফ ৫০ পিএ+++ উইথ ভিটামিন সি’ পণ্যটি তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষার জন্য ঢাকা-ভিত্তিক আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত আইএসও/আইইসি ১৭০২৫:২০১৭ (ISO/IEC 17025:2017) স্ট্যান্ডার্ডে স্বীকৃত ল্যাবরেটরি ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে জমা দিয়েছে।  এএনএ-২৪০৭২৪০০২/১ (ANA-240724002/1) রিপোর্ট রেফারেন্স অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় ল্যাবভিত্তিক ইউভি স্পেকট্রোফোটোমেট্রি পদ্ধতি ব্যবহার করে সানস্ক্রিনের সুরক্ষা ক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। কোম্পানির শেয়ার করা ল্যাবরেটরি রিপোর্ট অনুযায়ী, সানস্ক্রিনটির এসপিএফ মান ৫২.৫১ পাওয়া গেছে , যা এর প্যাকেজিংয়ে উল্লিখিত এসপিএফ ৫০-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কোম্পানিটির মতে, পরীক্ষায় এসপিএফ ৫০-এর সামান্য বেশি ফল পাওয়া মানে এই নয় যে পণ্যটি দাবির চেয়ে বেশি কার্যকর। বরং এটি প্রমাণ করে যে প্যাকেজিংয়ে উল্লেখ করা এসপিএফ ৫০-এর দাবিটি সঠিক। কারণ এসপিএফ পরীক্ষায় এ ধরনের সামান্য পার্থক্য স্বাভাবিক বলে ধরা হয়।   স্থানীয়ভাবে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্তটি আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও তুলে ধরে। একটি  সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা শুধু পরীক্ষাগারের ফলাফলের ওপর নির্ভর করে না, বরং এটি নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর মানুষ তখনই প্রতিদিন  সানস্ক্রিন ব্যবহার করবে, যখন সেটি তাদের দেশের আবহাওয়ায় আরামদায়ক লাগবে।  শীতল ও শুষ্ক বাজারের জন্য তৈরি কোনো পণ্যকে মানিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে, বাংলাদেশের আবহাওয়ার উপযোগী করে ফর্মুলেশন ও পরীক্ষা করাস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর জন্য এমন একটি উদ্যোগ, যা পরীক্ষাগারের ফলাফল এবং বাস্তব জীবনের ব্যবহার, এই দুইয়ের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পারে।    তবে কোন পরীক্ষার ফলকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া উচিত স্বাধীনভাবে পরীক্ষা করা একটি পণ্যের প্রতি আস্থা তৈরির গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও, সেটিই শেষ কথা নয়। একজন ভোক্তা হিসেবে কোন পদ্ধতিতে, কখন এবং কোন প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করা হয়েছে, তা জানার ও প্রশ্ন করার অধিকার সবারই রয়েছে। কারণ, অস্ট্রেলিয়ার বিতর্কটি দেখিয়ে দিয়েছে যে, আকর্ষণীয় মোড়ক এবং উচ্চ এসপিএফ-এর দাবি এখন আর এককভাবে যথেষ্ট নয়। সানস্ক্রিনটি আমদানি করা হোক বা স্থানীয়, ভোক্তাদের পরীক্ষার প্রমাণ ও স্বচ্ছতা জানার অধিকার রয়েছে, আর ব্র্যান্ডগুলোরও তা নিশ্চিত করা উচিত।
শুধু এসপিএফ ৫০ লিখলেই কি সানস্ক্রিন নিরাপদ?
শাড়ি কিনে না দেওয়ায় প্রেসার কুকার দিয়ে পিটিয়ে স্বামীকে হত্যা
পছন্দের শাড়ি কিনে না দেয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্বামীকে প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে পিটিয়ে ও পরবর্তীতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে।  ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলায় স্বামীকে হত্যা করার অভিযোগে ওই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রথমে ঘটনাটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু বলে দাবি করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হত্যার তথ্য উঠে আসে।Law Enforcement পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার নারী সুনীতাদেবী হরেরাম সিংহ (৩০) বিহারের রোহতাস জেলার বাসিন্দা। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ জুলাই থানে জেলার বাদলাপুর পূর্ব এলাকার বাসায় স্বামী হরেরাম কিশুনজি সিংহ (৩৫) ও সুনীতাদেবীর মধ্যে শাড়ি কেনা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডায় রূপ নেয়। পুলিশের ভাষ্য, বিরোধের এক পর্যায়ে সুনীতাদেবী প্রেসার কুকারের ঢাকনা দিয়ে স্বামীকে আঘাত করেন। পরে তার শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ঘটনার পর সুনীতাদেবী পুলিশকে জানান, স্বামীর মৃত্যু দুর্ঘটনাজনিত। তার বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রথমে একটি অপমৃত্যুর মামলা (এডিআর) নথিভুক্ত করা হয়। তবে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধজনিত অস্বাভাবিক মৃত্যুর তথ্য উঠে আসে। এরপরই ঘটনার তদন্তের মোড় ঘুরে যায়। তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, ময়নাতদন্তে সহিংস উপায়ে শ্বাসরোধের প্রমাণ পাওয়ার পাশাপাশি নিহতের স্বজন ও বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলার পর স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্দেহ আরও জোরালো হয়। বাদলাপুর পূর্ব থানার জ্যেষ্ঠ পরিদর্শক নীতিন পাতিল বলেন, ‘চিকিৎসা প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া গেছে, শ্বাসরোধের ফলে অস্বাভাবিকভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে নিহতের পরিবারের সদস্য ও বাড়ির মালিকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্ত্রীর বিরুদ্ধে সন্দেহের যথেষ্ট ভিত্তি পাওয়া যায়।’ মামলাটি আদালতে উপস্থাপনের পর স্থানীয় আদালত অভিযুক্ত সুনীতাদেবীকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনার বিস্তারিত কারণ ও অন্যান্য বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ।
শাড়ি কিনে না দেওয়ায় প্রেসার কুকার দিয়ে পিটিয়ে স্বামীকে হত্যা