ঢাকা, বাংলাদেশ || সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

ছাত্রশিবির ছাড়ার পর মুখ খুললেন ভিপি সাদিক কায়েম

Desk

প্রকাশ : ১৪ জুলাই ২০২৬, ১২:৩১ পিএম

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এক আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

সোমবার (১৩ জুলাই) সংগঠনটির নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ছুটি নেয়ার পর শিবিরের দিনগুলোকে জীবনের ‘সোনালী অধ্যায়’ ও ‘সবচেয়ে প্রোডাক্টিভ সময়’ হিসেবে উল্লেখ করে দীর্ঘ বার্তা দেন তিনি।

ভিপি সাদিক কায়েমের ফেসবুক পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, আমার আবেগ আর ভালোবাসার প্রিয় সংগঠন!

দেখতে দেখতে দীর্ঘ এক সোনালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। সংগঠনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে আজ আমার আনুষ্ঠানিক ছুটি হয়েছে। সবকিছুর জন্য আল্লাহর কাছে অগণিত শুকরিয়া আদায় করছি। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর ও প্রোডাক্টিভ সময়গুলো কেটেছে এই কাফেলার সাথে।

এই প্রিয় কাফেলা আমাকে দেশ ও জাতিকে নিয়ে ভাবতে শিখিয়েছে, জড়তা ভেঙে কথা বলতে শিখিয়েছে, নেতৃত্বের গুণাবলিকে পরম মমতায় বিকশিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরই আত্মিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে পরিপূর্ণ পথনির্দেশনা দিয়েছে।

পেছনে ফিরে তাকালে স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে অসংখ্য প্রিয় মুখ আর সংগ্রামী চিত্র। পুরোটা সময় জুড়ে নিবেদিতপ্রাণ দায়িত্বশীল ও জনশক্তিদের যে সোহবত ও সান্নিধ্য পেয়েছি, তা আমার জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন। জীবনের প্রতিটি বাঁকে আপনাদের কাছ থেকে শিখেছি, অনুপ্রাণিত হয়েছি।

দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা ইসলামী ছাত্রশিবিরের এই সংগ্রাম ও আন্দোলনের কর্মীদের পবিত্র সম্পর্কগুলোকে কবুল করুন। সামনের দিনগুলোতে এই অঞ্চলের মজলুম মানুষের মুক্তি সংগ্রামের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে পথ চলার তাওফিক দিন এবং এই আন্দোলনকে বিজয়ী করার মতো যোগ্য নেতৃত্ব দান করুন। আমীন।

সাবেক জামায়াত নেতা নজরুল ও মরিয়মের বাবার গোপন চুক্তি ফাঁস
দল থেকে সদ্য বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তার ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান। তার অভিযোগ, ওই তরুণীর বাবা মাসুম বিল্লাহকে ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দিয়ে সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়েছিলেন গাজী নজরুল। আশ্বাস দিয়েছিলেন কোটিপতি বানিয়ে দেওয়ার। আর এই প্রলোভন দিয়ে মাসুম বিল্লাহের মেয়ের সঙ্গে ‘অবৈধ’ সম্পর্ক রাখতে এবং বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেছিলেন নজরুল। আর টাকার লোভে ওই তরুণীর মা–বাবা সংসদ সদস্যের সঙ্গে মেয়ের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আপত্তি করেননি বলেও দাবি ওবায়দুলের। জানা গেছে, সম্পর্কে তরুণীটির মামা হন ওবায়দুল। ইতোমধ্যে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে থানায় মামলা করেছেন তিনি। ওবায়দুর জানান, গাজী নজরুল সম্পর্কে মাসুম বিল্লাহর খালু। তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে থেকেই ওই তরুণীর পল্লবীর ভাড়া বাড়িতে গাজী নজরুলের যাতায়াত ছিল। এমপি হোস্টেলে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পাওয়ার পরও গাজী নজরুল ইসলাম ঢাকায় এলে ওই তরুণীর বাড়িতেই থাকতেন। ওবায়দুর জানান, ভাগনির সঙ্গে গাজী নজরুলের সম্পর্কের বিষয়টি জানতে পেরে তিনি বোনজামাই মাসুমবিল্লাহকে জেরা করেন। তখন মাসুম বিল্লাহ তাকে বলেছিলেন, ‘এমপিকে হাতে রাখতে হবে। পাঁচ বছরে আমাদের অনেক কিছু করে নিতে হবে।’ সেই লক্ষ্যে সফলও হন মাসুম বিল্লাহ। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই মাসুম বিল্লাহর নামে প্রথম শ্রেণির ঠিকাদারি লাইসেন্স করিয়ে দেন গাজী নজরুল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম ‘মাসুম এন্টারপ্রাইজ’। মাসুমের কাজ ছিল শুধু দরপত্র জমা দেওয়া। কাজ পাইয়ে দেওয়ার দায়িত্ব নেন গাজী নজরুল নিজেই। এর আগে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে মুহুর্তেই দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে দ্বিতীয়বারের মতো সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির এবং দলটির কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য।
সাবেক জামায়াত নেতা নজরুল ও মরিয়মের বাবার গোপন চুক্তি ফাঁস
জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পরও কি এমপি পদ থাকছে গাজী নজরুলের?
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু দল থেকে এই বহিষ্কারের পর তার জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কি না- তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে। আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের বিধান নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য যদি তার নিজের দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, কেবল তখনই তার আসন শূন্য হয়। দল তাকে বহিষ্কার করলে তিনি ‘স্বাধীন’ সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে বহাল থাকতে পারেন। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি এ বিষয়ে জানান, ‘‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হলে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। তবে পদত্যাগ করলে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য হবে।’’ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের কিছু ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এই ভিডিওগুলো ‘এআই’ দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলো জানায় এগুলো বাস্তব ভিডিও। পরে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে প্রচারিত কাবিননামার সত্যতা ও তারিখ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজী প্রশ্ন তোলায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে। বহিষ্কারের বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পরও কি এমপি পদ থাকছে গাজী নজরুলের?