
নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কিন্তু দল থেকে এই বহিষ্কারের পর তার জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থাকবে কি না- তা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও আইনি আলোচনা শুরু হয়েছে।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনো সংসদ সদস্যের পদ বাতিলের বিধান নেই। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্য যদি তার নিজের দল থেকে পদত্যাগ করেন অথবা সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেন, কেবল তখনই তার আসন শূন্য হয়। দল তাকে বহিষ্কার করলে তিনি ‘স্বাধীন’ সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে বহাল থাকতে পারেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বিএনপির সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি এ বিষয়ে জানান, ‘‘সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দল থেকে বহিষ্কার করা হলে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে না। তবে পদত্যাগ করলে সাতক্ষীরা-৪ আসন শূন্য হবে।’’
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের কিছু ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এই ভিডিওগুলো ‘এআই’ দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থাগুলো জানায় এগুলো বাস্তব ভিডিও।
পরে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। তবে প্রচারিত কাবিননামার সত্যতা ও তারিখ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কাজী প্রশ্ন তোলায় বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।
সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাকে দল থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করা হবে।
বহিষ্কারের বিষয়টি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

