
শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রায়হান তালুকদার (২৯), নামের এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
সোমবার (২৪ আগস্ট) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোসাইরহাট উপজেলার নাগেরপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ রানীসার এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর সূত্রে জানা যায়, গোসাইরহাট পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ডের মহিষকান্দি গ্রামের ওই কিশোরী বাড়ি।
দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ রানীসার গ্রামের তালুকদার বাড়িতে গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করে আসছিল। সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিশোরী টি বাড়ির পুকুরঘাটে থালা বাসন ধোয়া বা গৃহস্থালি কাজে গেলে পূর্ব থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একই এলাকার মনা তালুকদারের ছেলে রায়হান তালুকদার টিস্যু দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে। পরে তাকে জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে পাশের একটি পান বরজে নিয়ে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণ শেষে অভিযুক্ত রায়হান মেয়েটিকে অচেতন অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজন ও বাড়ির সদস্যরা মেয়েটিকে নিস্তেজ ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে গোসাইরহাট থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে স্থানটি পরিদর্শন করে। ঘটনার পরপরই বাড়ির মালিকের স্ত্রী ও স্থানীয়রা আশঙ্কাজনক অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান শেষে ধর্ষণের আলামত ও বিস্তারিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার (মেডিকেল টেস্ট) এর জন্য তাকে দ্রুত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত রায়হান তালুকদার (২৯) এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তিনি ইতিপূর্বে দুটি বিবাহ করেছেন এবং তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিবাহিত এবং দুই সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও সে এলাকায় নানা অপকর্মের সাথে যুক্ত। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত রায়হান পলাতক রয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ অবিলম্বে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও ধর্ষক রায়হানকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোঃ আজগর আলী জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ভিকটিমকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।




