
রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় বন বিভাগের উদ্যোগে ব্যক্তি পর্যায়ে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। অবক্ষয়িত ভূমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় বনায়নের মাধ্যমে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের সুবলং রেঞ্জের উদ্যোগে আয়োজিত চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুবলং রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মুনির হোসেন। অনুষ্ঠানে রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ, জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা, বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা, রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. মরশেদুল আলম, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের “পার্বত্য চট্টগ্রামে জীববৈচিত্র্য ও প্রতিবেশ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে কমিউনিটির সহনশীলতা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের উপজেলা ফ্যাসিলিটেটর সুমন্ত চাকমা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামিনী রঞ্জন চাকমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বন বিভাগের ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম সবুজায়নের মাধ্যমে বন ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ২১ প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসব চারা ব্যক্তি পর্যায়ে অবক্ষয়িত ভূমি ও বসতবিটায় রোপণের জন্য দেওয়া হয়েছে।
চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, পাহাড়ের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিকল্পিত বনায়নের বিকল্প নেই। শুধু চারা রোপণ করলেই হবে না, গাছগুলোকে বড় করে তোলার দায়িত্বও নিতে হবে। বাড়ির আঙিনা, পতিত জমি ও অবক্ষয়িত ভূমিতে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের জন্য ফল, ঔষধি উপাদান ও কাঠের উৎস তৈরি হবে।
বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তোষ বিকাশ চাকমা বলেন, “গাছ আমাদের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গেও জড়িত। তাই প্রতিটি পরিবারকে অন্তত কয়েকটি করে গাছ লাগিয়ে সেগুলোর যত্ন নিতে হবে। শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সামাজিকভাবে বনায়নকে এগিয়ে নিতে হবে।”
রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হামিদ বলেন, “বন বিভাগের পক্ষ থেকে চারা দেওয়া হয়েছে। এখন এগুলো রোপণের পাশাপাশি নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণ করতে হবে। একটি চারা যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সেদিকে প্রত্যেক উপকারভোগীকে দায়িত্বশীল হতে হবে।”
রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মো. মরশেদুল আলম বলেন, “আজকের একটি গাছ আগামী প্রজন্মের জন্য নির্মল বাতাস, ছায়া ও নিরাপদ পরিবেশের নিশ্চয়তা দিতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ পরিচর্যায় এগিয়ে আসতে হবে।”
জুরাছড়ির মতো পাহাড়ি এলাকায় বসতভিটা ও অবক্ষয়িত জমিতে পরিকল্পিতভাবে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর এ উদ্যোগ স্থানীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।




