
বরগুনার বামনায় জন্মের পরপরই প্লাস্টিকের ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে ফেলে যাওয়া সেই নবজাতক কন্যাশিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বুধবার বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়ার সরকারি শিশু সদন ‘সোনামনি নিবাস’ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সযোগে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ।
এর আগে গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বামনা উপজেলার সোনাখালী এলাকায় ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সামনে একটি দোকানের পেছনে নারিকেলগাছের পাশ থেকে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় যুবক তারিফ হাওলাদার শিশুটির কান্নার শব্দ শুনে ফায়ার সার্ভিসের ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামানের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় শিশুটির নাড়ি তখনো কাটা হয়নি। নাভির সঙ্গে নাড়ি সংযুক্ত ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পিঁপড়া জড়ানো ছিল। পরে তাকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাড়ি কেটে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।
উদ্ধারের পর স্থানীয় গৃহবধূ মাসুমা বেগম তিন দিন শিশুটিকে নিজের কাছে রেখে মায়ের মতো যত্ন নেন। শিশুটির কান্না থামানো, খাওয়ানো ও পরিচর্যা করেন তিনি। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই শিশুটির প্রতি গভীর মায়া তৈরি হয় তাঁর।
বুধবার উপজেলা প্রশাসন, সমাজসেবা অধিদপ্তর ও পুলিশের কর্মকর্তারা শিশুটিকে সরকারি তত্ত্বাবধানে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এ সময় শিশুটিকে বুকের সঙ্গে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন মাসুমা। তিনি বলেন, ‘শিশুটি আমার, আমি দেব না।’
পরে কর্মকর্তাদের বোঝানো ও আশ্বাসের পর শিশুটিকে বুকে নিয়েই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে আগৈলঝাড়ার ‘সোনামনি নিবাসে’ যান মাসুমা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন তারিফ হাওলাদার ও বামনা থানার দুই পুলিশ সদস্য।
আগৈলঝাড়ায় পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাসুমা ও তারিফকে শিশুটির আইনগত দায়িত্ব নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানান। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে তাঁদের জানানো হয়। পরে তাঁরা বামনায় ফিরে আসেন। বর্তমানে শিশুটি সরকারি তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ বলেন, শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানোর নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া হয়। শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকার বিষয়টি জানানো হলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের পরিবর্তে সড়কপথে উন্নত অ্যাম্বুলেন্সে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আগৈলঝাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও সমাজসেবা কর্মকর্তাসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়।
বরিশাল জেলা প্রশাসক মামুন খন্দকার বলেন, ‘বিভাগীয় কমিশনার স্যারের নির্দেশে বুধবার বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), একজন চিকিৎসক, সমাজসেবা কর্মকর্তা ও একজন নার্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিয়ে শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।’
বামনা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাসিবুর রহমান বলেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী শিশুটিকে সরকারি শিশু সদনে পাঠানো হয়েছে। কেউ আইনগত প্রক্রিয়ায় শিশুটির দায়িত্ব নিতে চাইলে নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আফসারা আজাদ সারা বলেন, উদ্ধারের সময় শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে পিঁপড়ার কামড়ের দাগ ছিল। চিকিৎসার পর তার শারীরিক অবস্থা মোটামুটি ভালো ছিল।




