
মানবতার মুক্তির দূত, মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্ম ও ওফাত দিবস উপলক্ষে সারাদেশে সরকারি ছুটি।
দিনটি উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে মহানবীর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। বন্ধ রয়েছে নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম।
তবে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। এখানকার কয়েকটি কওমি নূরানী মাদ্রাসায় অব্যাহত রাখা হয়েছে শ্রেনি পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম।
এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অবিভাবক ও সচেতন মহল। তাদের দাবি, মহানবীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নির্দেশনাও যথাযথভাবে পালন করা উচিত।
ভূরুঙ্গামারী মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ নিয়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, একই প্রতিষ্ঠানের নূরানী শাখার শিক্ষার্থীরা অংশ নিচ্ছে নিয়মিত পরীক্ষায়।
একই প্রতিষ্ঠানে এমন দ্বৈত কার্যক্রমের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট গোলাম মোস্তফা জানান মহানবী (সা:) এর শানে মাদ্রাসায় দিনব্যাপী হামদ,নাত, কেরাত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। নূরানী শাখার বাচ্চারা পরীক্ষা শেষে এতে অংশ গ্রহন করবে।
উপজেলা সদরে দারুল ইনসান ক্যাডেট মাদ্রাসার পরিচালক রমজান আলী জানান, তারা নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড, চট্টগ্রাম এর অধীনে পরিচালিত। পরিচালনা বোর্ড থেকে সেরকম কোন নির্দেশনা না থাকায় তারা অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করই প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত কার্যক্রম খোলা রেখেছেন।
এ বিষয়ে নূরানী তালিমুল কুরআন বোর্ড এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রককে মোহাম্মদ আলী কে ফোন করা হলে পাওয়া যায় ভিন্ন ব্যাখ্যা। তিনি ঈদে মিলাদুন নবী উৎযাপনকে বেদাত বলে অবহিত করে বলেন ইসলামের কোথাও এটা নেই।
সরকার ঘোষিত ছুটির দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে কিছু নুরানী মাদ্রাসায় ক্লাস ও পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব জানান, বিষয়টি তিনি অবগত নন।
তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তা।
সরকারি ছুটির দিনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রেখে নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষা কার্যক্রম চালানোর বিষয়টি কতটা নিয়মসঙ্গত, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটাই প্রত্যাশা অবিভাবকদের।




