
বগুড়ার নন্দীগ্রামে আমন মৌসুমের শুরুতেই সার বিক্রিতে অনিয়ম ও কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে জানা গেছে, নন্দীগ্রামে বিসিআইসি ও বিএডিসির মোট ৩৬ জন সার ডিলার রয়েছেন। এর মধ্যে বিসিআইসি ডিলার ১৩ জন এবং বিএডিসি ডিলার ২৩ জন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ অনুমোদিত ডিলার সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করলেও কিছু বিক্রেতার বিরুদ্ধে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন বিক্রেতাদের মাধ্যমে সার বিক্রির অভিযোগও পাওয়া গেছে। এতে মৌসুমের শুরুতেই বাড়তি দামের চাপে পড়ছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, নন্দীগ্রামে ৩৬ জন বিসিআইসিও বিএসডিসি ডিলার রয়েছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজারে লাইসেন্স বিহীন প্রায় দুই শতাধিকেরও অধিক অসাধু সার সিন্ডিকেট বিক্রেতারা বাজারে অধিক দামে সার ক্রয় করে আসছে। অভিযোগ সূত্রে সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, ৪নং থালতামাঝগ্রাম ইউনিয়নের ত্রিমহনী বাজারে লাইসেন্স ছাড়াই সার মুজত করে অধিক দামে সার বিক্রয় করছেন ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী অসাধু সার সিন্ডিকেট ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম, কৃষি কর্মকর্তারা বারবার তাকে লাইসেন্স বিহীন সার বিক্রয়ের বিষয়ে নিষেধ করলেও কারোর কথা তোয়াক্কা না করে অবাধে তিনি চওড়া মূল্যে সার বিক্রয় চলমান রেখেছেন।
এছাড়াও ৪নং থালতা মাঝগ্রাম ইউনিয়নের সোনাকানিয়া বাজারের সার ডিলার একরাম হোসেনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রয়ের বিষয়ে নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি অফিস বরাবর অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষকরা।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে সার ডিলার একরাম হোসেন বলেন, আমার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা আমি সরকারি রেটে সকল সার বিক্রয় করছি। এদিকে সরকার কৃষকদের বিভিন্ন প্রণোদনা সহ সারের ডিলার ও কৃষক পর্যায়ে মূল্য তালিকা বেঁধে দিয়েছেন।
কৃষক ও ডিলার পর্যায়ে সারের নির্ধারিত মূল্য (প্রতি কেজি) ইউরিয়া সার: ডিলার পর্যায়ে ২৫ টাকা, কৃষক পর্যায়ে ২৭ টাকা। টিএসপি সার: ডিলার পর্যায়ে ২৫ টাকা, কৃষক পর্যায়ে ২৭ টাকা। ডিএপি সার: ডিলার পর্যায়ে ১৯ টাকা, কৃষক পর্যায়ে ২১ টাকা। এমওপি সার: ডিলার পর্যায়ে ১৮ টাকা, কৃষক পর্যায়ে ২০ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে ইউরিয়া, ডিএপি, এমওপি সরকারি রেটে বিক্রয় করা হলেও টিএসপি বিক্রয় করা হচ্ছে বস্তা প্রতি ৫০০ টাকা করে বেশি। অর্থাৎ এসব অসাধু লাইসেন্সবিহীন সার বিক্রেতারা টিএসপি ১,৩৫০ টাকার জায়গায় ১৭শ' থেকে ১৮শ' টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে নন্দীগ্রামের কিছু অসাধু ডিলার ব্যবসায়ীরা পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুদ রেখে খোলা বাজারে বিক্রয় না করে রাতের অন্ধকারে চওড়া মূল্যে পাইকারি দামে অন্যত্র বিক্রয় করছে।
ইতিমধ্যেই লাইসেন্স বিহীন এসব অসাধু সার ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন। গত সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লাইসেন্সবিহীন ও বিভিন্ন অপরাধে তিনটি সার ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমান আদালতে জরিমানা আদায় করা হয়।
এছাড়াও বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে সার নিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচনা করা হয়।




