
বগুড়ার শাজাহানপুরে জামায়াত ইসলামি নেতা ও মাদক ব্যবসায়ী মোঃ মারুফ হাসানকে ইয়াবার চালান সহ গ্রেফতার করে বগুড়া ডিবি পুলিশ।
এ ঘটনাটি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে জনমনে ও এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। বিষয়টি সকল মিডিয়ায় প্রচারও হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ২৮ আগষ্ট রাতে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন এবং মারুফ তাদের রাজনৈতিক দলীয় কেউ নয় বলে দাবী করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন শাজাহানপুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী মোঃ শহীদুল ইসলাম এবং অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আবদুর রহমান। লিখত বক্তব্যে বলেন, মারুফ জামায়াতে ইসলামীর কোন পদে নাম নেই। এটা ভিত্তিহীন সংবাদ।
জানাগেছে, ঈদে মিলাদুন্নবী অনুষ্ঠান চলাকালীন ফার্মেসীতে বসে নীরব পরিবেশে মারুফ ইয়াবা বিক্রি করছিল। এসময় তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে জেলা ডিবি পুলিশ।
মারুফ উপজেলার চক চুপিনগর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। এবং মাঝিড়া বন্দরে ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে এই মাদক ব্যবসা করে আসছিলো।
স্থানীয়রা জানান, মারুফ জামায়াত ইসলামির একজন সক্রিয় কর্মী। সে ডাক্তার না হয়েও বিলাসী ফার্মেসী ও ডাক্তার মারুফ নামে সাইনবোর্ডে লিখে ব্যবসা করছিল। আর রোগীর ছদ্মবেশে ইয়াবাখোর, গাঁজাখোর, ফেন্সিডিল খোর, তার এই ফার্মেসীতে আসতো। এছাড়া চিকিৎসক হিসেবে শারীরিক চেকআপ, প্রেসার মাপ,ও নানা চিকিৎসার আড়ালে প্যাকেটের মধ্যে করে এসব মাদক বিক্রি ও সরবরাহ করে আসছিলো। যা দেখলেও কেউ সন্দেহ করতে পারতো না।
এজন্য তার ঐ দোকানের সামনে কোন মোটর সাইকেল, গাড়ী বা প্রয়োজনে কাউকেই দাড়াতে দিতোনা। শুধু তার নির্দিষ্ট কাষ্টমার এবং দুএকজন রোগী দেখতো। এসবই মাঝিরা বন্দরের সচেতন লোকজন বেশ কিছুদিন থেকে পর্যবেক্ষন করে আসছিলো।
সুত্রটি বলছে, এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে ডিবি দেখতে পায়, মাদক কারবারী মারুফ তার ফার্মেসী থেকে ঔষধের প্যাকেটের ভিতর ৪৫ পিস ইয়াবা বিক্রি করে। এসময় ডিবির সদস্যরা তাকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে।
চুপিনগর এলাকার অনেকে জানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামীর লেবাস ধরে দীর্ঘদিন থেকে সে মাদক ব্যবসা করে আসছে এই মারুফ হাসান। মাঝিড়া বন্দরে সে ছিল ইয়াবা ফেন্সিডিল সাপ্লায়াার। এলাকাবাসী ও মাদক ব্যবসায়ীরা তাকে বাবু নামে চিনে।
বগুড়া ডিবি ইনচার্জ ইকবাল বাহার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।




