
ময়লার প্রতিবাদ, এরপরই মারধর-আটকে রাখার অভিযোগ; ৯৯৯-এ ফোন করে রক্ষা।
গাজীপুরের শ্রীপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক নারী ও তাঁর দুই কিশোর ছেলে। গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকার প্রতিবাদ করায় তাঁদের ওপর হামলা, মারধর এবং পরে একটি কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে পার্কের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা চলছে।
শনিবার দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় সালমা মোস্তারী, তাঁর দুই ছেলে জারিফ (১৫) ও মাহিন (১৭) এবং গাড়িচালক রাসেল আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পার্কে প্রবেশের পর নির্ধারিত গাড়িতে ওঠেন সালমা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। গাড়ির ভেতরে ময়লা-আবর্জনা দেখতে পেয়ে বিষয়টি পার্কের কর্মীদের জানান তিনি। অভিযোগ, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে কর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। প্রতিবাদ করতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সালমার লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, চন্দন কুমার, মাসুদ রানা ও ধনজয় ধনাসহ আরও ২০ থেকে ৩০ জন তাঁদের ওপর চড়াও হন। এ সময় স্টিলের লাঠি দিয়ে তাঁদের মারধর করা হয়। পরে সালমা, তাঁর দুই ছেলে ও গাড়িচালককে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানেও তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
৯৯৯-এ ফোন, পুলিশের উদ্ধার: আটকে থাকা অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন সালমা। খবর পেয়ে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। পরে আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
টাকা, স্বর্ণ ও আইফোন নিয়ে অভিযোগ: শুধু মারধর নয়, ঘটনার সঙ্গে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগও করেছেন সালমা। তাঁর দাবি, হামলার সময় গলায় থাকা প্রায় সাড়ে তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার আনুমানিক মূল্য ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, এবং ব্যাগে থাকা ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর ও দুই ছেলের কাছে থাকা তিনটি আইফোন কেড়ে নিয়ে মাটিতে ফেলে ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ছাড়া তাঁকে মারধরের পাশাপাশি পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেছেন সালমা।
ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ: পার্কের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য সালমা মোস্তারীর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্টাফ ফরহাদর হোসেনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর রাতে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সালমা মোস্তারী।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।




