
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টদের অবহেলা, লুটপাট ও মেশিনপত্র কেনার নামে অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে দেশের পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্টরা অবহেলা, লুটপাট ও মেশিন কেনার নামে চুরিসহ টোটাল স্বাস্থ্যসেবাটাকে ভঙ্গুর করে দিয়ে গেছে। বেশিরভাগ হাসপাতালে জনবল সংকট রয়েছে। গত ১৭ বছরে এই জনবল সংকটেরও কোনো সমাধান হয়নি। তারা স্বাস্থ্যসেবার দিকে লক্ষ্য করেনি। তাদের লক্ষ্য ছিল শুধু টাকা উপার্জন করা এবং মানুষকে মেরে ক্ষমতায় টিকে থাকা।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে সবার জন্য সুস্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতে গত বাজেটের তুলনায় দ্বিগুণ বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা সারা বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে কোথায় কী সমস্যা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করছি এবং সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছি।
এদিকে মন্ত্রীর আকস্মিক পরিদর্শনের খবর পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুরবস্থার কথা তার কাছে তুলে ধরেন। তারা হাসপাতালের চিকিৎসক সংকট, জনবল সংকট, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশসহ নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীকে জানান।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ শুনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চান। অভিযোগের ভিত্তিতে হাসপাতালের তিনজন সিনিয়র সেবিকা-রিনা রানী বিশ্বাস, সুস্মিতা কীর্তনীয়া ও শামীমা আক্তারকে অন্যত্র বদলির নির্দেশনা দেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাসেবা, জনবল, ওষুধ সরবরাহ ও পরিবেশসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নেন। এ সময় হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের রোগীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন তিনি।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ মাহমুদুল হাসান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ শাওন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোমিনুর রহমান সরকার, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবদুল্লাহ আল মামুন শাহ, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কাজী বদরুতজ্জামান বদু, সদস্যসচিব তরিকুল ইসলাম কবির মোল্যা সহ আরো অনেকে।




