
টাঙ্গাইলের সখীপুরে বাজার বণিক সমিতির সভাপতি বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। চোরের দল তার গোয়ালঘর থেকে চারটি উন্নতজাতের গাভী ও তিনটি মহিষ নিয়ে গেছে। চুরি যাওয়া গবাদিপশুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
সোমবার (৩১ আগস্ট) ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে পৌর এলাকার ৯ নং ওয়ার্ড প্রতিমা বংকী এলাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
বিল্লাল হোসেনের গরুর খামারে কর্মরত মনির হোসেন জানান, প্রতিদিনের মতো গবাদিপশুগুলো গোয়ালঘরে রেখে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি ঘুমাতে যান। ভোররাত সাড়ে ৩ টার দিকে গরুর পায়ের শব্দ ও গাড়ির শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বুঝতে পারেন, দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো।
পরে তার চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে এসে তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। এরপর গোয়ালঘরে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের পেছনের দিকের দেয়াল ভেঙে চোরচক্রটি চারটি গাভী ও তিনটি মহিষ নিয়ে গেছে।
এদিকে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে প্রতিবেশী ও মুদি দোকানি খোকন মিয়া রাস্তায় বের হয়ে দেখতে পান, একটি ট্রাকে করে গরু-মহিষ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তিনি তাৎক্ষণিক দোকানের সামনে থাকা বাঁশ দিয়ে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। তবে চোরেরা গাড়ি না থামিয়ে তাকে রামদা দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
গবাদিপশুর মালিক বিল্লাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দেড় বছর আগেও আমার বাড়ি থেকে গাভী চুরি হয়েছিল। সেই শোক ভোলার আগেই এবার একসঙ্গে সাতটি পশু চুরি হলো। এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া আমার জন্য অসম্ভব।’
একই বাড়িতে বারবার চুরির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের ধারণা, কোনো সংঘবদ্ধ চোরচক্র এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। দ্রুত চোরচক্রটি শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুরাদ হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। গবাদিপশুগুলো উদ্ধার ও জড়িতদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।’




