ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর নদীতে শিশুর মরদেহ

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

  ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৬ এএম
ছবি প্রতিনিধি

মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর কথা বলে ১০ বছরের শিশু তাসফিয়াকে রেখে গিয়েছিলেন সৎ বাবা শাফিউল। দুই দিন পর আবার মাদ্রাসায় এসে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান তিনি। ওই রাতেই শাফিউলের মোবাইল ফোন থেকে মাদ্রাসার পরিচালিকার সঙ্গে কথা বলে তাসফিয়া। সেখানে তাকে বিরামপুরে ভর্তি করানোর কথা জানানো হয়। এর পরদিন রাতে করতোয়া নদী থেকে উদ্ধার হয় তাসফিয়ার মরদেহ।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ জুবাইদা বালিকা মাদ্রাসায় তাসফিয়াকে নিয়ে যান শাফিউল। মাদ্রাসার পরিচালিকা রমিছা জানান, ওই সময় শাফিউল নিজেকে তাসফিয়ার সৎ বাবা পরিচয় দিয়ে বলেন, শিশুটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করাবেন। তার ও শিশুটির মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার কথা বলে তাসফিয়াকে সেদিন রাতে মাদ্রাসায় রাখার অনুরোধ করেন তিনি।

“বাচ্চাটা তখন খুব কান্নাকাটি করছিল। আমি ওকে কান্না থামাতে বলি। লোকটিকে আমি চিনিও না, জানিও না। কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাচ্চাটাকে রেখে তিনি দ্রুত বের হয়ে যান”—বলেন পরিচালিকা রমিছা।

শাফিউল চলে যাওয়ার পর তাকে খুঁজতে বাইরে বের হয়েও তাকে পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি।

পরদিন শনিবার (১৫ আগস্ট) শাফিউল মাদ্রাসায় না আসায় তাসফিয়াকে নিয়ে তার ভর্ণাপাড়ার বাড়িতে যান পরিচালিকা। সেখানে শিশুটির সৎ দাদিসহ কয়েকজন নারীকে পাওয়া যায়। তারা তাসফিয়াকে মাদ্রাসায় ভর্তি করাতে কোনো আপত্তি নেই বলে জানান। শাফিউল তখন বাড়িতে ছিলেন না। সেখান থেকেই শিশুটির মায়ের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করেন পরিচালিকা। একাধিকবার ফোন করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

পরে তাসফিয়াকে মাদ্রাসায় ফিরে আসার কথা বললে সে কাপড়চোপড় নিয়ে পরিচালিকার সঙ্গে চলে আসে।

সেদিন সন্ধ্যার পর শাফিউল মাদ্রাসার নম্বরে ফোন করেন। পরিচালিকা তাকে জানান, এভাবে কাউকে না জানিয়ে শিশুকে রেখে যাওয়া সম্ভব নয়। পরে শাফিউল মাদ্রাসায় এসে বলেন, তিনি ইচ্ছা করেই তাসফিয়াকে সেখানে রেখে গিয়েছিলেন। কারণ, তিনি গেলে শিশুটি হয়তো তার সঙ্গে বাড়ি চলে যেতে চাইত।

পরিচালিকার ভাষ্য, ওই সময় শাফিউল তাকে বিশেষভাবে বলেন, তাসফিয়ার মা বা রংপুর থেকে কোনো আত্মীয় এলে যেন শিশুটিকে তাদের সঙ্গে যেতে না দেওয়া হয়। এমনকি কেউ শিশুটির বিষয়ে জানতে চাইলে যেন তাকে জানানো হয়। প্রয়োজনীয় সবকিছু তিনি দেখবেন বলেও জানান।

পরিচালিকা বলেন, রংপুরে তাসফিয়ার মায়ের আগের বিয়ে হয়েছিল। সেখানকার আত্মীয়রা শিশুটিকে নিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা শাফিউল তাকে জানিয়েছিলেন।

এরপর আসে রোববার (১৬ আগস্ট)। দুপুরে শাফিউল আবার মাদ্রাসায় গিয়ে তাসফিয়াকে ৫০ টাকা ও কিছু চকলেট দেন। সন্ধ্যার পর তিনি ফের মাদ্রাসায় যান। সেদিন পরিচালিকা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে থাকায় মাদ্রাসার দায়িত্বে ছিলেন অন্য এক শিক্ষিকা।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, শাফিউল তার নিজের এবং তাসফিয়ার মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্র মাদ্রাসায় রেখে ছবি তোলা ও শিশুটির জন্য ট্রাঙ্ক কেনার কথা বলে তাসফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে যান। মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজেও শিশুটিকে তার সঙ্গে বেরিয়ে যেতে দেখা গেছে বলে জানান পরিচালিকা।

কিন্তু এরপর শাফিউল আর তাসফিয়াকে মাদ্রাসায় ফিরিয়ে দেননি।

রোববার রাত ৯টা ১৬ মিনিটে শাফিউলের মোবাইল নম্বর থেকেই মাদ্রাসার পরিচালিকার নম্বরে ফোন আসে। ফোনে তাসফিয়া কথা বলে জানায়, তার বাবা তাকে বিরামপুরে ভর্তি করে দিয়েছেন। পরিচালিকার দাবি, কথোপকথনের সময় তার মনে হয়েছে, শিশুটির পাশে থাকা কেউ তাকে কথা বলার বিষয়গুলো বলে দিচ্ছিল।

পরে আবার ফোন করা হলে তাসফিয়া জানায়, তার বাবা তাকে নতুন কাপড় কিনে দিয়েছেন। এরপর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের আর যোগাযোগ হয়নি।

পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়নের ভর্ণাপাড়া টঙ্গী ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন করতোয়া নদী থেকে লাল জামা পরা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত করে জানা যায়, মরদেহটি তাসফিয়ার।

মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর মাদ্রাসার পরিচালিকা সিসিটিভি ফুটেজসহ আগের ঘটনাগুলো মিলিয়ে দেখেন। তার দাবি, তাসফিয়াকে সর্বশেষ মাদ্রাসা থেকে শাফিউলই নিয়ে গিয়েছিলেন।

ঘটনার পর শাফিউলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, তাসফিয়ার জন্য ট্রাঙ্ক ও কাপড় কিনে তাকে মাদ্রাসায় দিয়ে এসেছেন। তাকে সিসিটিভি ফুটেজে শিশুটিকে সঙ্গে নিয়ে বের হতে দেখা যাওয়ার কথা জানালে তিনি বলেন, তাসফিয়াকে একাই ভ্যানে করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। নিজে কেন যাননি জানতে চাইলে ইউনিয়ন পরিষদে তার কাজ ছিল বলে জানান। সেখানে গিয়ে চেয়ারম্যানকে পাননি বলেও দাবি করেন তিনি।

আবার মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে কেন বিরামপুরে ভর্তি করানোর কথা বলা হয়েছিল—এ প্রশ্নে শাফিউল জানান, তাসফিয়ার মা ও রংপুরের আত্মীয়রা যেন বিষয়টি জানতে না পারেন, সে জন্য শিশুটিকে সেভাবে কথা বলতে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

অন্যদিকে, শাফিউল বর্তমানে ঢাকায় আছেন বলে জানান। তাসফিয়ার মৃত্যুর খবর কখন জানতে পেরেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, পরে জেনেছেন। তার দাবি, শিশুটির মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ করে দুজন একসঙ্গে আসবেন।

তবে তাসফিয়ার মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঘটনার অনুসন্ধানে শাফিউলের ভর্ণাপাড়ার বাড়িতে গিয়ে তার মা ছালেমা বেগমের সঙ্গেও কথা হয়। তিনি জানান, রোববার রাতে শাফিউল আনুমানিক রাত ১টার দিকে বাড়িতে ফেরেন। এত রাতে সাধারণত তিনি বাড়িতে ফেরেন না। সেদিন তাকে অস্বাভাবিক দেখাচ্ছিল এবং নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

ছালেমা বেগম বলেন, ওই রাতে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করলে সে তাসফিয়াকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিয়ে আসার কথা জানায়। পরে সোমবার রাতে তার স্বামী মোসলেম উদ্দিন নদীতে মাছ ধরতে গেলে শিশুর মরদেহ উদ্ধারের খবর পান। বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানালে শাফিউলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন তারা।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাসফিয়ার মরদেহ নদীতে পাওয়ার কথা জানার পর শাফিউল তাকে মাদ্রাসার খোঁজ নিতে বলেন। পরে মাদ্রাসায় যোগাযোগ করে জানতে পারেন, তাসফিয়াকে শাফিউলই নিয়ে গেছেন।

নিজের ছেলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে ছালেমা বেগম বলেন, “আমি মা হয়ে সাক্ষী দিচ্ছি, ওই বাচ্চার সঙ্গে সে অন্যায় করেছে। আমি ওর কঠিন শাস্তি চাই।”

এদিকে শাফিউলের ভর্ণাপাড়া গ্রামে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। কয়েকজন বাসিন্দা তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় শাফিউলকে সন্দেহ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য দাবি করেন, শাফিউলের বিরুদ্ধে অতীতেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে এবং বিভিন্ন সময় পুলিশ তাকে ধরতে এলাকায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন নথিপত্র এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার রাতে নদীর আশপাশেও শাফিউলকে দেখা গেছে। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তারা প্রকাশ্যে নাম বলতে চাননি। অনুসন্ধানের সময় রাত আনুমানিক ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে শাফিউলকে ডেকে নেওয়া হয়েছিল বলেও কয়েকজনের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যও তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

তাসফিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—১৪ আগস্ট শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাদ্রাসায় রেখে যাওয়ার পর থেকে ১৭ আগস্ট সোমবার রাতে নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত শিশুটি কোথায় ছিল?

মাদ্রাসার সিসিটিভি ফুটেজে ১৬ আগস্ট সন্ধ্যায় তাসফিয়াকে শাফিউলের সঙ্গে বের হতে দেখা গেছে। একই রাতে শাফিউলের মোবাইল থেকে মাদ্রাসায় ফোন করে শিশুটির সঙ্গে কথা বলানো হয়েছে। এরপর সোমবার রাতে নদী থেকে উদ্ধার হয়েছে তার মরদেহ।

এই প্রায় তিন দিনের সময়ের মধ্যে তাসফিয়ার অবস্থান, তার সঙ্গে কারা ছিল এবং কীভাবে তার মরদেহ করতোয়া নদীতে গেল—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

এ বিষয়ে সিংড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এটি একটি নিঃসন্দেহে হত্যাকাণ্ড, এ হত্যার পিছনে কারা কারা দায়ী, প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। আমি মনে করি প্রকৃত অপরাধীকে সনাক্ত করে আইনের আওতায় দ্রুত আনা উচিত।


ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, শিশুটির পরিচয় পাওয়ার আগেই মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। পরে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ওসি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাসফিয়ার মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। তবে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার পর তার গতিপথ এবং শাফিউলের বক্তব্যের অসঙ্গতিগুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ১৪ আগস্ট থেকে ১৭ আগস্ট—এই তিন দিনের অজানা সময়ের উত্তরই হয়তো তাসফিয়ার মৃত্যুর রহস্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
আরও পড়ুন
ঘোড়াঘাটে ৫ম বীর বাহা ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন হৃদয় যুব সংঘ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে টানা ছুটি শুরু, কোন প্রতিষ্ঠানে কতদিন?
ঝাড়ফুঁকের আড়ালে অসুস্থ কিশোরীকে ধ'র্ষণ মাদ্রাসার অধ্যক্ষের
ঘোড়াঘাটে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস পালিত  
X