ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

রামগতিতে জেলা পরিষদ মার্কেটের দোকান দখল-বেচাকেনার হিড়িক

রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:১৩ পিএম
ছবি প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে জেলা পরিষদের মালিকানাধীন মার্কেট দখল ও চড়া দামে বেচাকেনার অভিযোগ উঠেছে দখলদারদের বিরুদ্ধে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারি সম্পত্তি ব্যক্তি মালিকানার মতো ব্যাবহার, ভাড়া দেওয়া, হাতবদল ও স্ট্যাম্পের মাধ্যমে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে রাজস্ব ফাঁকি ও সরকারের অন্তত অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদ প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। বর্তমানে ওই মার্কেট জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি দখলবাজদের কবজায় রয়েছে।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

অভিযোগ ওঠেছে , জেলা পরিষদের নীতিমালার শর্ত ভঙ্গ করে দোকানগুলো অন্যের কাছে হস্তান্তর, স্ট্যাম্পে চুক্তি করে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় দখলস্বত্ব অন্যের কাছে বিক্রি, দোকানগুলোর মালিকানায় একাধিক হাত বদল, নামে-বেনামে দখলে নেওয়ায় সহ নানান অভিযোগ ওঠে। এতে প্রকৃত ইজারাদার নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। কাগজপত্রকে পাশ কাটিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা মার্কেট দখলে নেন। এ যেন, সরকারি সম্পদ দখলের এক মহোৎসবে মেতে উঠেছে। জেলা পরিষদ মার্কেট এখন লুটের কদু।

লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদ সুত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে জেলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে রামগতি পৌর আলেকজান্ডার বাজারে শতবর্ষী পুকুর দখল করে দোতলা ও টিনসেট বিশিষ্ট দুইটি মার্কেট নির্মাণ করে। পাকা ভবনে ৫৩, টিনশিট মার্কেটে ৩২ টি মিলে মোট ৮৫ টি দোকান তৈরী করা হয়। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষে পরিষদের নীতিমালা উপেক্ষা করে দলীয় বিবেচনায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পছন্দের লোকজনের মাঝে দোকানগুলো বন্টন করা হয়। এ ক্ষেত্রে দোকান বরাদ্দের কোন নীতিমালা মানা হয়নি। যে কারণে একজনের নামে একাধিক দোকান, আবার এক পরিবারের স্বামী, স্ত্রী, ভাই- বোন ও ছেলের নামেও দোকান রয়েছে।

নীতিমালায় বলা হয় , দোকান বরাদ্দ দেওয়ার আগে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বরাদ্দের জন্য দরপত্রের আহবান করবে। পরে যাচাই বাচাই করে প্রকৃত অসহায় ও গরিব ব্যবসায়ীদেরকে মাসিক ১ হাজার ২৫০ টাকা ইজারা ফি পরিশোধ করে এক বছরের জন্য (একসনা) বন্দোবস্ত দিবেন। প্রতি বছর বন্দোবস্ত নবায়ন করতে হবে। এসব নীতিমালার কোন তোয়াক্কা না করে সম্পুর্ন রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রভাবশালীদের থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে স্টাম্পের মাধ্যমে দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পরে তারা ওই দোকান বেশী দামে অন্যের কাছে বিক্রি করে। এতে একেকটি দোকান কয়েকবার বিক্রি করা হয়।

জেলা পরিষদের একাধিক সুত্র ও স্থানীয়রা জানান, মার্কেট নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দের সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন জেলা পরিষদের তৎকালীন সদস্য ও আলেকজান্ডার ইউনিয়ন আ. লীগের সভাপতি আমজাদ হোসেন। তিনি মার্কেট নির্মাণ ও দোকান বরাদ্দের নামে সাধারণ মানুষ থেকে অন্তত ৫ থেকে ৮ কোটি টাকার বাণিজ্য করেন বলে অভিযোগ উঠে। কয়েকটি দোকানের ভাড়া নিচ্ছেন আমজাদের স্ত্রী নাজনে আরা রিতাও। সরেজমিনে মার্কেট ঘুরে দেকান মালিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আমজাদ হোসেনকে ঘিরে জেলা পরিষদের দোকান দখল, নামে-বেনামে বরাদ্দ, কথিত ভুয়া কাগজপত্র তৈরি, স্ট্যাম্পের মাধ্যমে দোকান হস্তান্তর ও তৃতীয় পক্ষের কাছে দোকান বিক্রির অভিযোগ এখন সবার মুখে মুখে। মার্কেটের ৮৫ দোকানের মধ্যে প্রায় ৮০ দোকান হাতবদল হয়ে একাধিকবার বিক্রির খবর পাওয়া গেছে। একজনের দখলে একাধিক দোকান, একজনের দোকান অন্যজনে ভাড়া তোলারও অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ওই মার্কেট এখন জেলা পরিষদের নিয়ন্ত্রণে নেই। এটি দখলবাজদের কবজায় চলে গেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এদিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে মার্কেট নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যায়ের কাগজপত্র থাকলেও দোকান ইজারা (বরাদ্দ) নেওয়া ব্যবসায়ীদের কোন তালিকা সংরক্ষিত নেই। ফলে প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্তদের নামের তালিকাও জানা যায়নি। যে কারণে ৫ আগস্টের পর ২ বছরের বেশী জেলা পরিষদের ফান্ডে মার্কেট থেকে কোন রাজস্ব জমা হয়নি বলে জানা গেছে।

আলেকজান্ডার বাজারের অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ী জানান, জেলা পরিষদের নীতিমালা উপেক্ষা করে আমজাদ হোসেন স্ট্যাম্পের মাধ্যমে পজিশনভেদে প্রতিটি দোকান থেকে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। জেলা পরিষদের রসিদ ছাড়াই নগদে টাকা নিয়েছেন আমজাদ। মার্কেটের ৮৫ দোকান থেকে প্রায় ৫ থেকে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। যদিও আমজাদের দাবি, এসব টাকা তিনি মার্কেট নির্মাণে ব্যয় করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, হাতিয়ে নেওয়া টাকা আমজাদ ও জেলা পরিষদের তখনকার কর্তাব্যক্তিরা ভাগাভাগির মাধ্যমে আত্মসাৎ করেন। জেলা পরিষদ মার্কেট সরকারি সম্পত্তি হলেও বর্তমানে কিছু ব্যক্তি নিজেদের পারিবারিক সম্পত্তির মতো ব্যবহার করছে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২৩ জুলাই লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের নব নিযুক্ত প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাব উদ্দিন সাবু সরেজমিনে এসে আলেকজান্ডার বাজারের ওই মার্কেটটি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে ব্যবসায়ী ও ভাড়াটিয়াদের সাথে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পান তিনি। তখন ব্যবসায়ীদেরকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে ভাড়া না দিতে নির্দেশনা দেন তিনি।

স্ট্যাম্পে দোকান বেচাকেনার অভিযোগ:সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্ট্যাম্পে দোকান বেচাকেনা নিয়ে। ভাড়াটিয়ারা জানান, সরকারি দোকানের মালিকানা হস্তান্তরের সুযোগ না থাকলেও ৮০ টির মত দোকান স্টাম্পের মাধ্যমে একাধিকবার হাত বদল (বিক্রি) হয়েছে। এতে মুল মালিক চিহ্নিত করা যাচ্ছেনা। সরকারি সম্পত্তির দখল পরিবর্তন হলেও জেলা পরিষদ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন তদারকি নেই। এতে রাজস্ব আদায়ের বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

ভাড়া তুলছেন অন্যরা, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার?:অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু দোকান মালিক পালিয়ে গেলে অন্যরা এসে দোকানগুলো দখলে নিয়ে কেউ ব্যবসা করছেন, কেউ অন্যজনের কাছে ভাড়া দিয়েছে। বর্তমানে ওই মার্কেটের প্রতিটি দোকানের ভাড়া ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত। ৫ আগস্টের পর থেকে ২ বছরের বেশী মার্কেট থেকে জেলা পরিষদের ফান্ডে কোন টাকা জমা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন পরিষদ সংশ্লিষ্টরা। এতে বিপুল পরিমাণের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি মার্কেটের দোকানগুলো নিয়মিত পরিদর্শন, ভাড়া আদায় ও বরাদ্দের শর্ত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন না করলে সরকারি সম্পত্তি ধীরে ধীরে ব্যক্তি স্বার্থে ব্যবহার হবে।

কাগজপত্র যাচাইয়ের দাবি:স্থানীয়রা বলছেন, জেলা পরিষদের মালিকানাধীন এ মার্কেটের মূল বরাদ্দপ্রাপ্ত ব্যক্তির নাম, বর্তমান দখলদার, ভাড়াটিয়া, মাসিক ভাড়া, বকেয়া ভাড়া, দোকান হস্তান্তরের অনুমতি এবং স্ট্যাম্পে কোনো ধরনের লেনদেন হয়েছে কি না-এসব তথ্য প্রকাশ্যে আনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরেজমিন পরিদর্শন করে বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তারা। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সরকারি সম্পত্তি উদ্ধারের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

আলেকজান্ডার বাজারের বিসমিল্লাহ ফার্মেসীর মালিক তসলিম জানান, তিনি ১৩ লাখ টাকা দিয়ে আমজাদ থেকে স্টাম্পের মাধ্যমে ২ টি দোকান নিয়েছেন।

মোস্তফা মিয়া জানান, তিনিও আমজাদ থেকে স্টাম্পের মাধ্যমে ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে দুটি দোকান কিনেছেন।

জেলা পরিষদের সাবেক মহিলা সদস্য রোফেনা আক্তার জানান, তিনিও আমজাদ থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে স্ট্যাম্প চুক্তির মাধ্যমে ১ টি দোকান ক্রয় করেছেন। তবে বাজারের একমাত্র সরকারি পুকুর দখল করে দোতলা ভবন নির্মাণের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আমজাদ হোসেন বলেন, তখনকার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নির্দেশে তিনি মার্কেট নির্মাণের দায়িত্ব নেন। জনগন থেকে নেওয়া টাকা দিয়ে মার্কেট নির্মাণ করেছেন। লুটপাটের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে এবিষয়ে সংবাদ প্রকাশ না করতে এ প্রতিবেদককে ম্যানেজের লোভ দেখান।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী আশরাফুন নাহার বলেন, তিনিও এসব অভিযোগের কথা শুনেছেন। ইতিমধ্যে প্রশাসক মহোদয় মার্কেট পরিদর্শন করে এসেছে। আমরা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নতুন করে টেন্ডারের মাধ্যমে দরপত্র আহবান করে দোকান বরাদ্দের ব্যবস্থা করবো।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু বলেন, এ মার্কেটটি জেলা পরিষদের বলা যাচ্ছেনা। কারণ: জেলা পরিষদের ফাইলে মার্কেটের বিস্তারিত কাগজপত্র নেই। বিগত স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে অবৈধ ভাবে মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। এতে কোন ধরনের স্টিমেট, টেন্ডার, নকশা ও মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন।নেওয়া হয়নি। সম্পুর্ন নিয়মবহির্ভূত এটি করা হয়। দোকান ঘর দেওয়ার কথা বলে লোকজন থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও আমরা পেয়েছি। একেকজনের দখলে ৫ থেকে ১০ টি পর্যন্ত দোকান রয়েছে। এটা কোনো নিয়মের ভিতরে পড়ে?। যারা এ মার্কেট নির্মাণের সাথে জড়িত থেকে এ ধরনের মহা বাণিজ্য করেছে, দোকান বিক্রি করেছে, তাদেরকে আইনের আওতা আনা হবে। এখন যারা মার্কেট দখল করে আছে, তাদের সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হবে। আমি কিছুদিন আগে মার্কেটটি পরিদর্শনে গিলে এসব অনিয়মের কথা শুনে অবাক হয়েছি। অনিয়ম বা লুটপাটেরও একটা সীমা থাকা উচিত।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
X