
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া এলাকায় পুরাতন লোহালক্কড় ও ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে চোরাই মালামাল কেনাবেচার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চুরি হওয়া মোটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, লোহার সামগ্রীসহ লাখ লাখ টাকার পণ্য নিয়মিত এসব দোকানে কেনাবেচা হচ্ছে। চুরি করা অর্থের বড় একটি অংশ মাদক সেবনে ব্যয় হওয়ায় এলাকায় সামাজিক অপরাধও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তবে এত অভিযোগের পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কিছু দোকান থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু সদস্যদের নিয়মিত মাসোয়ারা দেওয়ার কারণে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে না।
সরেজমিনে কালাকচুয়া এলাকায় গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকায় অন্তত ১৫ থেকে ১৬টি ভাঙারি দোকান রয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত। ফলে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে চুরি করা মালামাল সহজেই এখানে আনা সম্ভব বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এসব দোকানে দুই দফায় মালামাল হাতবদল হয়। প্রথমে টোকাইরা বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা পরিত্যক্ত লোহা ও অন্যান্য সামগ্রী এনে বিক্রি করে। পাশাপাশি চুরি করা মালামালও এসব দোকানে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
দায়িত্বশীল একটি সূত্রের দাবি, ময়নামতি ইউনিয়নের হরিণধরা, দেবপুর, শরীফপুর ও রামপুর এলাকার কয়েকটি পরিত্যক্ত স্টিল মিল থেকে দেয়াল কেটে মোটর ও লোহার সামগ্রী চুরির একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। চুরি করা এসব মালামালের একটি অংশ কালাকচুয়ার ভাঙারি দোকানগুলোতে বিক্রি করা হয় বলে অভিযোগ।
সূত্রটি আরও জানায়, টোকাই ও বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করা মালামাল সপ্তাহ বা মাস শেষে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সম্প্রতি আশপাশের কয়েকটি চুরির ঘটনার পর খোঁজ নিয়ে এসব ভাঙারি দোকানে চুরি হওয়া মালামাল বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এর মধ্যে মাধাইয়া জলা এলাকার প্রয়াত আলী আশরাফ কন্ট্রাক্টরের ডিপ মেশিনের দুটি ট্রান্সফরমার চুরি, প্রবাসী সোলাইমানের পানির পাম্প, সবেদার শাহজাহানের লোহার কল, মধ্যম শাহদৌলতপুর মসজিদের লোহার কল এবং ময়নামতির শেষেশপুর, ঝুমুর ও রামমাল এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বৈদ্যুতিক মোটর ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা উল্লেখ করেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চোরাই মালামাল কেনাবেচা বন্ধে নিয়মিত অভিযান, ভাঙারি দোকানগুলোর মালামালের উৎস যাচাই এবং চুরি হওয়া পণ্য শনাক্তে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাদের মতে, এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না গেলে চুরি ও মাদকসহ সংশ্লিষ্ট সামাজিক অপরাধ আরও বাড়ছে।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফুর রহমান বলেন, ভাঙারি ব্যবসার আড়ালে চোরাই মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ের বিষয়ে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। বুড়িচং সদর এলাকা থেকে এ ধরনের চক্র নির্মূল করা হয়েছে। মহাসড়কের পাশেও একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “এ বিষয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া আছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। অভিযুক্তদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”




