
মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে রক্ষায় সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রামগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় রামগঞ্জ থানা পুলিশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সুধী সমাবেশ ও র্যালিতে এ বার্তা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম। উপস্থিত ছিলেন লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক।
সমাবেশে পুলিশ সুপার মাদকের ভয়াবহতা ও এর বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশ দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দিয়ে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের বিরুদ্ধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
পুলিশ সুপার তরুণ প্রজন্মকে মাদক থেকে দূরে রাখতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবনই ধ্বংস করে না, একটি পরিবার ও সমাজের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই মাদক প্রতিরোধে পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করার পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে হবে।
পরে মাদকবিরোধী র্যালি রামগঞ্জ পৌরসভা এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সুধীজন অংশ নেন।
সমাবেশ থেকে পুলিশের বার্তা ছিল স্পষ্ট—মাদক ব্যবসা, সরবরাহ ও পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হবে।




