
ফ্যাসিবাদী সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে সাজাপ্রাপ্ত ও দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি এবং তাঁর দলের বহু নেতাকর্মী ভারতে পালিয়ে আছেন। তাঁরাও সাজাপ্রাপ্ত। ভারতের সঙ্গে আমাদের প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা যোগাযোগ করছি। ভারত সরকার বলেছে, এটি একটি আইনগত বিষয় এবং তাদের বিচার বিভাগ বিষয়টি দেখছে।’
মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এখানে পার্থক্যটা হচ্ছে, তিনি দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। কোথায় বসে কী বলছেন, সেটা বাংলাদেশ সরকারের জন্য বিবেচ্য বিষয় নয়। বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। যখনই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফেরত দেওয়া হবে, তখনই বাংলাদেশের আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং জেলে যেতে হবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।’
মাদারীপুর জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে আয়োজিত এ সভায় মাদারীপুর-২ আসনের এমপি জানদার আলী মিয়া, মাদারীপুর-৩ আসনের এমপি আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার, মাদারীপুর-১ আসনের এমপি সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা এবং সংরক্ষিত আসনের এমপি হেলেন জেরিন খান বক্তব্য দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার। এ সময় পুলিশ সুপারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মকা চুক্তি প্রসঙ্গে
মকা চুক্তি প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এখন এই জোটে বাংলাদেশ যাবে কি না, তা এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো জোটে যুক্ত হওয়ার আগে দেশের নীতি বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নীতি—সবার আগে বাংলাদেশ। যেকোনো গ্রুপে যুক্ত হওয়ার আগে আমরা দেখব, সেটি বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কি না। এর মাধ্যমে দেশের মানুষের উপকার হবে কি না, সেটি বিবেচনা করেই আমরা জোটে যাব।’
মানব পাচার প্রতিরোধে দালালদের শনাক্তের আহ্বান
মানব পাচার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানব পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশের ১৪টি জেলা নিয়ে আমরা কাজ করেছি। ইতোমধ্যে মাদারীপুরও এর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘মাদারীপুরের মানব পাচারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত। দেশে ও বিদেশে এই দালালচক্রের সদস্যরা অবস্থান করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বলব, আপনারা এসব দালালকে শনাক্ত করুন। তাদের নাম-পরিচয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। তাহলে আমরা চেষ্টা করতে পারি, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নিতে।’
শামা ওবায়েদ বলেন, ‘বাংলাদেশি কেউ যদি বিদেশে বসে আমাদের দেশের মানুষকে মানব পাচার করে থাকে বা করছে, সে বিষয়ে আপনাদের কাছে কোনো তথ্য থাকলে অবশ্যই আমাদের জানাবেন। আমাদের সরকার এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সমস্যা সমাধানের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি কমিটি গঠন করেছে। এ কমিটি বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে।’
লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়া ঠেকাতে উদ্যোগ
লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা রোধে নেওয়া উদ্যোগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই প্রবণতা বন্ধ করার জন্য আমরা একাধিকবার ইতালি ও লিবিয়া সরকারের সঙ্গে বসেছি। কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি।’




