
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসভার বাজারে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যানজট এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। পৌর সদরের পাকুন্দিয়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ গেটের সামনে থেকে উপজেলা পরিষদ ও হাসপাতাল রোড, থানার সামনে থেকে প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল পর্যন্ত, থানার মোড় থেকে পৌরসভা ভবন, গরুর হাট ও নামা বাজার টিঅ্যান্ডটি অফিস পর্যন্ত সড়কে সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে।
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অব্যবস্থাপনা ও তদারকির ঘাটতির কারণেই এ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত ও রাস্তার দুই পাশে গড়ে উঠেছে ভ্রাম্যমাণ ও অস্থায়ী দোকান। অন্যদিকে সড়ক দখল করে চলছে সিএনজি, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও চার্জার রিকশা। অতিরিক্ত অটোরিকশা চলাচল এবং এগুলোর ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিদিনই বাজারে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পৌর বাজারে অবস্থান করে দেখা যায়, পুরো সড়ক রিকশা ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঠাসা। থেমে থেমে অটোরিকশার জটলা তৈরি হচ্ছে। যাত্রী দেখলেই অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ছে। এতে মুহূর্তেই অটো ও চার্জার রিকশার দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
উপজেলা পরিষদের সামনে ও হোসেনপুর সড়কের ওপর সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাণিসম্পদ হাসপাতালের সামনে সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড, সততা ফার্মেসির সামনে থেকে ইন্দিরাপাড় সড়কের ওপর অটোরিকশার স্ট্যান্ড এবং থানার মোড় সড়কের ওপর অটোরিকশা ও ফলপট্টি এলাকায় সড়কের ওপর ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে গেছে।
উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে পৌরসভা ভবন পর্যন্ত পাঁচ মিনিটের হাঁটাপথ। অথচ অটোরিকশায় গেলে সময় লাগে প্রায় আধঘণ্টা।
উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির একাধিক সভায় পৌরসভার সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করে যানজটের কারণ চিহ্নিত ও সমাধানের সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়নে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।
অটোরিকশাচালক হানিফ মিয়া বলেন, ‘বাইপাস সড়ক হওয়ার আগে বাজারের ভেতর দিয়ে বড় গাড়িগুলো চলাচল করত। তখন অটোরিকশা ও সিএনজিগুলো রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকত। বাইপাস চালু হওয়ার পর বড় গাড়িগুলো বাইপাস দিয়ে চলাচল করছে। ফলে ছোট গাড়িগুলো যত্রতত্র পার্কিং করে রাখে। পাশাপাশি যাত্রী ওঠানামার কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এ যানজটের কারণে আমাদের আয়-রোজগারও কমে গেছে।’
ভ্রাম্যমাণ দোকানে ফুটপাত দখল
বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ দোকানের কারণে ফুটপাত এখন দখল হয়ে গেছে। পথচারীদের হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বেশির ভাগ পথচারীই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে যানজটও সৃষ্টি হচ্ছে।
ফুটপাতে ক্রোকারিজ ব্যবসায়ী কিশোরগঞ্জ সদরের বাসিন্দা মাসুম মিয়া ফুটপাতের দোকানের কারণে পথচারী ও যানবাহন চলাচলে অসুবিধার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান নিয়ে বসি। এ দোকানের আয় দিয়েই আমার সংসার চলে।’
পাকুন্দিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বলেন, পৌর বাজারে কয়েক লাখ টাকা অগ্রিম এবং হাজার হাজার টাকা দোকান ভাড়া দিয়ে তারা ব্যবসা করছেন। কিন্তু ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও অটোরিকশা পার্কিংয়ের কারণে বাইরে থেকে আনা পণ্যের গাড়ি নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে রাখতে পারেন না।
বাজারের দোকানপাটে গাড়ি পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্রেতারা মার্কেটের সামনের সড়কে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে যানজট আরও তীব্র হয়।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, ‘সিএনজি অটোরিকশার কোনো নির্ধারিত স্টেশন না থাকায় চালকেরা বাজারে যত্রতত্র পার্কিং করে রাখেন। আমরা নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জরিমানা করি। তবে এগুলো বন্ধ করতে চাইলে তারা অন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে পারে। যদি তাদের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড করে দেওয়া হয়, তাহলে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। এখানে সচেতনতা তৈরি না করে শুধু আইন প্রয়োগ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।’
পাকুন্দিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফুটপাত দখলকারী হকার ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে। একাধিকবার উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবারও তারা বসে পড়েন। স্ট্যান্ড না থাকায় সিএনজি ও অটোরিকশাগুলো সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। পৌরসভার পক্ষ থেকে অটোরিকশা ও সিএনজির জন্য স্ট্যান্ড তৈরির জায়গা খোঁজা হচ্ছে। জায়গা পাওয়া গেলে সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।




