ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ফুলবাড়ী কয়লা খনি: জ্বালানি সংকটের সমাধান, নাকি নতুন সংকটের সূচনা?

মো. রজব আলী, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)

  ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০১ পিএম
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:১১ পিএম

দেশের জ্বালানি সংকট যত গভীর হচ্ছে, ততই সামনে আসছে দেশের মাটির নিচে থাকা কয়লা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের প্রশ্ন। শিল্পকারখানায় গ্যাস ও জ্বালানির সংকট, বিদ্যুৎ উৎপাদনে চাপ এবং আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার ব্যয়—সব মিলিয়ে দেশীয় সম্পদ ব্যবহারের দাবি নতুন করে জোরালো হয়েছে। সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এবার এসেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লা খনি।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন


জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ফুলবাড়ী থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রসঙ্গ আসার পর বিষয়টি নতুন করে জাতীয় আলোচনায় এসেছে। রাজধানীর নীতিনির্ধারণী মহল থেকে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর চায়ের দোকান—সবখানেই এখন একই প্রশ্ন:


ফুলবাড়ী কয়লা খনি কি দেশের জ্বালানি সংকটের বড় সমাধান হতে পারে, নাকি সাময়িক জ্বালানি সুবিধার বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক সংকট ডেকে আনবে?


এই প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও বড় কয়েকটি প্রশ্ন—উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হলে তিন ফসলি জমি, ভূগর্ভস্থ পানি, কৃষি, বসতভিটা, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় জনপদের কী হবে? বিদেশি কোম্পানি খনি বাস্তবায়নে এলে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির কতটুকু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা যাবে? প্রকল্প মাঝপথে পরিত্যক্ত হলে দায় নেবে কে? আর সবচেয়ে বড় কথা—দেশের স্বার্থে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর চুক্তি করার মতো সক্ষমতা রাষ্ট্রের আছে কি না?


এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ফুলবাড়ীর বর্তমান বিতর্ককে শুধু একটি কয়লা খনি প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা, বিদেশি বিনিয়োগ, চুক্তি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ সুরক্ষা এবং রাষ্ট্রের নেগোসিয়েশন সক্ষমতার দীর্ঘ ইতিহাস।


ফুলবাড়ী কয়লা খনি উন্মুক্ত পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের বিরোধিতা করে দীর্ঘদিন দুই দশক ধরে আন্দোলন করে আসছে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।


২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট আন্দোলনকারীরা এশিয়া এনার্জির স্থানীয় কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনায় তিন যুবক নিহত হন। নিহতদের স্মরণে প্রতিবছর ২৬ আগস্ট ‘ফুলবাড়ী ট্র্যাজেডি দিবস’ পালন করা হয়।


এরপর তৎকালীন সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ছয় দফা সমঝোতা হয়। আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সেই ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবি আজও বহাল রয়েছে।


দীর্ঘ দুই দশক পর আবার যখন দেশের জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে তখন আবারো ফুলবাড়ী কয়লা উত্তোলনের আলোচনা সামনে এসেছে, এতেকরে পুরোনো ক্ষতও নতুন করে জেগে উঠেছে।


এই পেক্ষাপটে তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে উন্মুক্ত পদ্ধতির বিরুদ্ধে আবারও মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে খনি বাস্তবায়নের পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও বলছেন, দেশে যখন জ্বালানি সংকট তীব্র, তখন মাটির নিচে থাকা নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার না করে শুধু আমদানিনির্ভর হয়ে থাকা কতটা যুক্তিসঙ্গত—সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


অর্থাৎ ফুলবাড়ীতে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুটি অবস্থান জ্বালানি নিরাপত্তা বনাম পরিবেশ ও জনজীবনের নিরাপত্তা।

এ দিকে ফুলবাড়ীর আলোচনায় সবচেয়ে বেশি উঠে আসছে পার্শ্ববর্তী বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অভিজ্ঞতা। দেশের একমাত্র বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। কিন্তু খনি এলাকার ভূমি অবনমন, ক্ষতিগ্রস্ত বসতভিটা এবং পুনর্বাসন নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।


খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য নির্মিত পুনর্বাসন আবাসন নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে এসব আবাসন পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের উপযোগী নয়। ফলে পুনর্বাসনের নামে মানুষকে প্রকৃত অর্থে কতটা নিরাপদ ও টেকসই জীবন দেওয়া গেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।


ফুলবাড়ীর বাসিন্দাদের একটি অংশের কাছে বড়পুকুরিয়ার এই অভিজ্ঞতা তাই নিছক একটি পার্শ্ববর্তী খনির গল্প নয়; বরং ফুলবাড়ীতে সম্ভাব্য খনি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ ঝুঁকির একটি উদাহরণ।


তাদের প্রশ্ন, বড়পুকুরিয়ায় যদি পুনর্বাস ও ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে এতো প্রশ্ন থাকে, তাহলে ফুলবাড়ীর মতো আরও বড় ও ঘনবসতিপুর্ণ কৃষিনির্ভর এলাকায় উম্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের পরিনতি কী হতে পারে?


যদিও কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি, খনির উর্দ্ধতন কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের সাথে গোপন আতায়াত করে, নামস্বর্বস্ব্য যত্রতত্র দালান কোটা বানিয়ে ক্ষতিপুরনের নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও আছে।


ফুলবাড়ী কয়লা খনি নিয়ে বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। খনি বাস্তবায়নের পক্ষে থাকা ব্যক্তিদের যুক্তি হলো, দেশের নিজস্ব কয়লা ব্যবহার করা গেলে আমদানিনির্ভরতা কমতে পারে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি সরবরাহ বাড়তে পারে। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ কমতে পারে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হতে পারে।


কিন্তু বিরোধীদের প্রশ্ন—এই সুবিধা কত বছরের? আর এর বিনিময়ে পরিবেশ ও জনজীবনের ওপর ক্ষতির পরিমাণ কত?


আন্দোলনকারীরা বলছেন উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ জমি খনন করতে হয়। ফলে ভূ-প্রকৃতি পরিবর্তন, ভূগর্ভস্থ পানির স্তরে প্রভাব, কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, বসতভিটা উচ্ছেদ এবং স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরুপ প্রভাবের আশঙ্কা রয়েছে।


তাঁরা বলছেন ফুলবাড়ী এলাকায় কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বও অনেক বেশি। এখানকার বহু পরিবার কৃষিজমির ওপর নির্ভরশীল। একটি জমি শুধু উৎপাদনের জায়গা নয়; একটি পরিবারের অর্থনীতি, বসতি, সামাজিক সম্পর্ক এবং প্রজন্মের উত্তরাধিকারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে। তাই প্রশ্নটি শুধু ‘কত টন কয়লা পাওয়া যাবে’—এতটুকুতে সীমাবদ্ধ নয়।


তাঁদের বড় প্রশ্ন কয়লার অর্থনৈতিক মূল্য হিসাবের সময় তিন ফসলি জমির মূল্য, ভূগর্ভস্থ পানির মূল্য, জীববৈচিত্র্যের মূল্য এবং উচ্ছেদ হওয়া মানুষের সামাজিক ক্ষতির মূল্য কীভাবে নির্ধারণ করা হবে।


ফুলবাড়ী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি কোম্পানির অংশগ্রহণের আন্দোলনকারীরা আরও একটি বিষয় প্রশ্ন তুলেছেন—বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে রাষ্ট্রের চুক্তির সক্ষমতা নিয়ে তাদের দাবি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খনিজ সম্পদ উত্তোলনে বহুজাতিক কোম্পানি কাজ করে। তাদের হাতে থাকে বিপুল অর্থ, প্রযুক্তি, আইনি পরামর্শক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক অভিজ্ঞতা। বিপরীতে আমাদের রাষ্ট্রের প্রধান শক্তি তার প্রাকৃতিক সম্পদ ও সার্বভৌম অধিকার।


এই দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি তাই শুধু বিনিয়োগের দলিল নয়; এটি আসলে ভবিষ্যৎ কয়েক দশকের অর্থনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি। আন্দোলনকারীরা বলছেন বাংলাদেশের অতীত অভিজ্ঞতা এখানে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।


তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণে একাধিক বিদেশি কোম্পানি এসেছে, জরিপ করেছে, কোথাও সম্ভাবনার সন্ধান পেয়েছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেকেই কাজ শেষ না করেই চলে গেছে।


এই ‘আসা-যাওয়া’র ইতিহাস শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিহাসে এমন বহু উদাহরণ রয়েছে, যেখানে বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি, সময়ক্ষেপণ, ক্ষতিপূরণ, প্রতিকার এবং প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যাওয়ার শর্ত নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহবায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল পেট্রোবাংলার এক সুমারীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানায় বাংলাদেশের অফশোর তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের ইতিহাসের শুরু স্বাধীনতার পরপরই।


১৯৭৪ সালে পেট্রোবাংলার বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন বঙ্গোপসাগরকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করে বিদেশি কোম্পানিকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হয়। অ্যাশল্যান্ড, আর্কো, ইউনিয়ন অয়েল, কানাডিয়ান সুপিরিয়র, জাপানের বিওডিসি এবং যুগোস্লাভিয়ার ইনা-নাফতাপ্লিন—বিভিন্ন বিদেশি কোম্পানি তখন বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধানে নামে।


১৯৭৭ সালে কুতুবদিয়ার কাছে ইউনিয়ন অয়েল গ্যাস পাওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা, পরিবর্তিত পরিস্থিতি ও নানা জটিলতায় ১৯৭৮ সালের মধ্যে ওই ছয় কোম্পানিই তাদের ব্লক ছেড়ে চলে যায়। এরপর প্রায় এক দশক সমুদ্রভিত্তিক অনুসন্ধানে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা যায়।

১৯৮৮ সালে আবার দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো কোম্পানি আগ্রহ দেখায়নি। তারপর ১৯৯০-এর দশকে পরিস্থিতি বদলায়। কেয়ার্ন এনার্জি বঙ্গোপসাগরের ১৬ নম্বর ব্লকে কাজ শুরু করে এবং ১৯৯৬ সালে সাঙ্গু গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। এটি বাংলাদেশের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র উৎপাদনশীল অফশোর গ্যাসক্ষেত্র।


একই সময় অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়াম সিলেট অঞ্চলে অনুসন্ধান চালিয়ে জালালাবাদ, মৌলভীবাজার ও বিবিয়ানা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করে। বিবিয়ানা পরবর্তীতে দেশের অন্যতম বৃহৎ গ্যাসক্ষেত্রে পরিণত হয়। কিন্তু সাফল্যের পাশাপাশি আসে বড় বিপর্যয়।


তিনি বলেন ১৯৯৭ সালের ১৪ জুন রাতে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের মাগুরছড়ায় অক্সিডেন্টাল পেট্রোলিয়ামের কূপে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর গ্যাসের আগুন দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলতে থাকে। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বন, রেললাইন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থা, চা-বাগানসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ও পরিবেশ।


ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে সরকারি বিভিন্ন হিসাব ও তদন্তে বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির কথা উঠে আসে। বন ও পরিবেশের ক্ষয়ক্ষতি কতদিনে পূরণ হবে—তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।


তিনি বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল ক্ষতিপূরণ আদায়। অক্সিডেন্টাল পরবর্তীতে বাংলাদেশে তাদের স্বত্ব অন্য কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে চলে যায়। পরে কোম্পানির মালিকানা আরও পরিবর্তিত হয়। ফলে ক্ষতিপূরণ ও দায়বদ্ধতার বিষয়টি দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে।

আজও মাগুরছড়ার ক্ষত পুরোপুরি মুছে যায়নি—বলে ওই এলাকার স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন বলে তিনি দায়ী করেন।

তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির এই নেতা আরো বলেন, সংকটদের দ্বিতীয় ধাক্কাটি আসে আট বছর পর, ২০০৫ সালে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় নাইকো রিসোর্সেসের গ্যাসকূপে বিস্ফোরণ ঘটে। একই বছর আবারও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বহু মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে হয় বলে তিনি দাবি করেন।


তিনি বলেন, পরবর্তীতে ক্ষতিপূরণ ও দায় নির্ধারণ নিয়ে বাংলাদেশ ও নাইকোর মধ্যে দীর্ঘ বিরোধ তৈরি হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক সালিশ ও দুর্নীতির অভিযোগের পর্যায়েও গড়ায়।


আন্দোলকারী এই নেতা বলেন, এই দুটি ঘটনা—মাগুরছড়া ও টেংরাটিলা—বাংলাদেশে বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণ নিয়ে জনমনে যে অবিশ্বাস তৈরি করেছে, তার অন্যতম বড় ভিত্তি। এ কারনে তারা বিদেশী কোম্পানীর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছেন।


আন্দোলনকারীরা জানায়, ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধে বাংলাদেশের পক্ষে রায় আসে। এর ফলে বাংলাদেশ বিপুল সমুদ্রাঞ্চলের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠা করে। দেশজুড়ে তখন ‘সমুদ্র বিজয়’ নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়।

প্রত্যাশা ছিল—এবার বঙ্গোপসাগরের তলদেশে থাকা গ্যাস ও অন্যান্য সম্পদ অনুসন্ধান দ্রুত এগিয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন। সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তির এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অফশোর গ্যাস অনুসন্ধানে প্রত্যাশিত সাফল্য আসেনি।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
X