
সারাদিন রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে নৌকা পারাপার করেন আশানুর মাঝি। সময় আর স্রোতের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জীবন কাটিয়ে দিচ্ছেন দামুড়হুদার জীরাট ঘাটের আশানুর মাঝি। এটি যেমন বাস্তব জীবনের দুঃখ, তেমনি বাংলা গান ‘জীবনের নৌকা চলে’—এর কথাও মনে করিয়ে দেয়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘খেয়া’ কবিতার বেদনাও যেন এতে ফুটে ওঠে।
খেয়া নৌকা বেয়ে চার গ্রামের মানুষ পারাপার করেন দামুড়হুদার জীরাট গ্রামের আশানুর মাঝি। মানুষ পারাপার করেই চলে তাঁর সংসার। বয়স ৬২ বছর। শরীরজুড়ে বার্ধক্যের ছাপ ফুটে উঠেছে। কোমর সোজা করে দাঁড়াতে পারেন না। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বৈঠা ঠেলে, কখনো রশি টেনে গ্রামের মানুষ ও পথচারীদের নদী পারাপার করেন।
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের জীরাট গ্রামের ঘাটপাড়ার বাসিন্দা আশানুর মাঝি। দীর্ঘদিন ধরে খেয়া নৌকায় নদী পারাপারের কাজ করছেন তিনি।
সরেজমিনে খেয়াঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, আশানুর মাঝির চোখেমুখে যেন অভাব ও হতাশার ছাপ। চামড়ায় পড়েছে বার্ধক্যের ভাঁজ। নৌকার এক কোণে ছই লাগিয়ে শক্ত হাতে কাপড় জড়িয়ে নৌকার রশি ধরে যাত্রী পারাপার করছেন তিনি।
ঘাটপাড় থেকে অসুস্থ রোগীর জন্য জরুরি ওষুধ এনে দেওয়াও তাঁর নিত্যদিনের কাজ। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সংসারের খরচ বেড়ে গেছে। তাঁর আয় বাড়েনি, রয়ে গেছে সাংসারিক টানাপোড়েন। জীবিকার তাগিদে হাতে তুলে নিয়েছেন নৌকার বৈঠা। সেই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তাঁর হাতে থাকে বৈঠা।
কিন্তু দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়াসহ নানা খরচ সামাল দিয়ে এখন আর খেয়া পারাপারের আয় দিয়ে সংসার চালাতে পারছেন না আশানুর মাঝি। প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হয়। এভাবেই খেয়া পার করে চলে তাঁর সংসার।
নৌকা পারাপারের সময় রামনগর দাসপাড়ার শ্রী গিরিবালা বাঘদি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে মানুষ পারাপারের কাজ করছেন আশানুর মাঝি।’
আশানুর মাঝি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, ‘সারাদিন নদী পারাপার করেও অভাব মেটে না। ইজারাদার ও ঘাটের খরচ মিটিয়ে হাতে সামান্য কটা টাকা থাকে। আমার জমিজমা নেই। পরিবারে ছেলেমেয়ে ও নাতি-নাতনিদের নিয়ে বসবাস করি। যা আয় হয়, তা দিয়ে কোনো মতে জীবন-সংসার চলে। বেশির ভাগ সময়ই নৌকায় কাটাতে হয়।’




