
নীলফামারীর ডিমলা সদরের ইসলামিয়া ডিগ্রী কলেজ মোড় এলাকার একটি নির্মানাধীন বাড়িতে নিয়মিত মাদকসেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সম্প্রতি সেখানে ডিমলা থানা পুলিশের এক সদস্যসহ মাদক সেবনের ঘটনায় একটি ভিডও ভাইরাল হওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কলেজ মোড় থেকে প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে মোঃ মোতাহার হোসেন সোহেল (পিতা: মশিয়ার রহমান)-এর একটি নির্মাণাধীন নতুন বাড়ির কাজ চলমান রয়েছে। বাড়ীটিতে প্রতিনিয়ত বাইরে থেকে অপরিচিত লোকজনকে এনে ভেতরে অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশে নিয়মিত মাদক সেবন ও অসামাজিক কাজ চালানো হতো। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন আশপাশের বাসিন্দারা।
শুক্রবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ ঘটিকার সময় নির্মাণাধীন ওই বাড়িতে সন্দেহভাজন লোকজনের উপস্থিতি টের পান স্থানীয়রা। স্থানীয়রা একজোট হয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় ওই পুলিশ সদস্যসহ চারজন ব্যক্তিকে সরাসরি মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখতে পান তারা। এলাকাবাসীর উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
অভিযুক্তদের আটকানোর চেষ্টা করলে জানা যায়, মাদক সেবনকারীদের মধ্যে একজন ডিমলা থানার কর্মরত কনস্টেবল মোঃ রমজান আলী (কনস্টেবল নম্বর(বিপি) ৪২০)। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে উপস্থিত লোকজনদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এলাকাবাসী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, "এই জায়গায় শুধু মাদক সেবনই নয়, মাঝে মাঝে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশ্যে মেয়েদেরও নিয়ে আসা হয়।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় এলাকাবাসীরা বলেন, "যাদের ওপর সাধারণ মানুষদের নিরাপদে রাখার দায়িত্ব, সেই পুলিশ সদস্য নিজেই যদি মাদক সেবন করেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায় ? যুবসমাজকে রক্ষা করবে কে?"
এলাকাবাসীর জোর দাবি, ডিমলা থানার বিতর্কিত ওই পুলিশ কনস্টেবলসহ মাদক চক্রের মূল হোতাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।
পুলিশ কনেষ্টেবলের মাদক সেবনের বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপার সৃষ্টি হয়।
মাদক সেবনে পুলিশের প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে ইতিমধ্যে নীলফামারী পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে বলে বিষযটি নিশ্চিত করেন ডিমলা থানার ওসি আশরাফুল ইসলাম।




