
প্রাইভেট কারের গতি রোধ করতে প্রথমে এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করেন দূর্বৃত্তরা। পরে হত্যার উদ্দেশ্যে যত্রতত্র কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফকে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) দিবাগত রাত ১২ টার দিকে উপজেলার জয়নগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় গুরুতর আহত শরীফকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি দেখে তার উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় শরিফুল ইসলাম তার ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার চালিয়ে জয়নগর নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে জয়নগর কিন্ডারগার্টেনের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার গাড়ীর গতিরোধ করতে চেষ্টা করে। ব্যর্থহয়ে তারা গাড়ীতে এলাপাথারি গুলি চালায়। হামলায় দিকবিদিক হারিয়ে গাড়িটি থামিয়ে দিলে শরিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে শরিফের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
গুলির শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এসে গুরুতর অবস্থায় শরিফকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশাদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। আহত শরিফকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরিফ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। সম্প্রতি উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।
শরিফ ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদপ্রত্যাশী ছিলেন। তবে অন্য একজন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে উদ্দেশ্য করে ‘কত টাকায় সভাপতির পদ বেচলেন’ এমন মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দেন বলে জানা যায়।
এ ছাড়া শরিফসহ উপজেলা বিএনপির ছয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে চিঠি দেন। এরপর থেকেই হাবিবপন্থীদের সঙ্গে শরিফের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয় বলে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
তবে শরিফের ওপর হামলার সঙ্গে ওই রাজনৈতিক বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বলছে, হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।




