
একসময় বিকেল হলেই গ্রামের বাড়ির উঠান, খোলা জায়গা,ছোটখাটো বাজার গুলোতে জমে উঠত প্রবীণদের আড্ডা। কাজের শেষে অবসরে বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম ছিল দেশীয় নানা খেলা। পাড়া-মহল্লার যুবক- প্রবীণ দলবেঁধে খেলত চকচ্ছাল। খেলাকে ঘিরে তৈরি হতো আনন্দ, প্রতিযোগিতা আর বন্ধুত্বের বন্ধন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা।
রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দশক আগেও চকচ্ছাল ছিলো জনপ্রিয় একটি গ্রামীণ খেলা। বিকেল কিংবা ছুটির দিনে বাড়ির উঠান, খোলা জায়গা অথবা মাঠে জড়ো হয়ে খেলায় মেতে উঠত তারা। কোনো আনুষ্ঠানিক আয়োজন ছাড়াই নিজেদের মধ্যে দল তৈরি করে চলত প্রতিযোগিতা।
প্রবীণ ব্যক্তি আবদুল করিম বলেন, “আমাদের ছোটবেলায় চকচ্ছাল খেলা ছিল খুবই জনপ্রিয়। বিকেল হলেই বাড়িতে থাকা যেত না, বন্ধুদের সঙ্গে মাঠে চলে যেতাম। ঘণ্টার পর ঘণ্টা খেলতাম। এখনকার ছেলেমেয়েদের অনেকেই এই খেলার নাম পর্যন্ত জানে না। এটা হারিয়ে যেতে দেখে খুব খারাপ লাগে।”
আরেক প্রবীণ নুরুল হক বলেন, “আগে গ্রামের খেলাধুলার মধ্য দিয়েই ছেলেমেয়েদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হতো। কে কোন পাড়ার, সেটা বড় কথা ছিল না; সবাই একসঙ্গে খেলত। চকচ্ছালসহ অনেক খেলা এখন আর চোখে পড়ে না। মাঠ থাকলেও খেলোয়াড় নেই, আর খেলোয়াড় থাকলেও মোবাইলের কারণে মাঠে আসে না।”
স্থানীয় শিক্ষক মো আরিফুল ইসলাম বলেন, “দেশীয় খেলাগুলো শুধু বিনোদনের বিষয় নয়, এগুলো আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ। চকচ্ছালের মতো খেলাগুলো শিশুদের শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দলগতভাবে কাজ করা, নিয়ম মানা ও প্রতিযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলত। বিদ্যালয়ের ক্রীড়া কার্যক্রমে এসব ঐতিহ্যবাহী খেলা যুক্ত করা গেলে নতুন প্রজন্মের কাছে এগুলো আবার পরিচিত হতে পারে।”
স্থানীয় কিশোর সজীব জানায়, “চকচ্ছাল খেলার কথা আমরা বড়দের কাছ থেকে শুনেছি। এখন মোবাইলে গেম খেলাই বেশি হয়। কিন্তু বন্ধুরা সবাই মিলে মাঠে খেলতে পারলে ভালো লাগবে। বড়রা যদি আমাদের খেলাটা শেখান, তাহলে আমরা খেলতে আগ্রহী।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামের খেলার মাঠগুলো আগের মতো নেই। কোথাও মাঠের জায়গা কমে গেছে, কোথাও আবার মাঠ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার হচ্ছে। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন ও অনলাইন গেমের প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ বাড়ায় মাঠের খেলাধুলায়ও ভাটা পড়েছে।




