
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) উদ্যোগে ৫ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নাচোল সদর ইউনিয়নের আমজোয়ান, ভাতসা পুকুরপাড়ে ও ভাতসা গ্রাম থেকে বাইপুর গ্রাম পর্যন্ত দীর্ঘ সড়কের দুই ধারে এ চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। রোপীত চারার মধ্যে রয়েছে মেহগনি এবং ঔষধি।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) নাচোল জোনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ রোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রিয়াংকা দাস।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার সলেহ্ আকরাম, বিএমডিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম এবং স্থানীয় সুবিধাভোগী দলের সদস্যবৃন্দ।
কর্মসূচির বিষয়ে বিএমডিএ-এর সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম জানান, নিয়ম অনুযায়ী এলাকার ভূমিহীন, দুস্থ, বিধবা ও দরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২৫ সদস্য বিশিষ্ট ‘উপকারভোগী সমিতি’ বা দল গঠন করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিয়ন পরিষদ ও বিএমডিএ-এর মধ্যে উপকারভোগীদের নিয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বৃক্ষ পরিপক্ক হওয়ার পর তা বিক্রয়লব্ধ আয়ের ৭০ শতাংশ পাবেন উপকারভোগীরা, ১০ শতাংশ পাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, ১০ শতাংশ বিএমডিএ এবং ১০ শতাংশ জমা থাকবে পুনঃবনায়ন তহবিলে।
এছাড়া বিক্রির মোট আয় থেকে আলাদা রাখা এই ১০ শতাংশ টাকা পরবর্তীতে উক্ত স্থানে পুনরায় নতুন চারা রোপণের কাজে ব্যবহার করা হবে। ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এই বাগানটি পরিপক্ক হলে টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে শর্ত অনুযায়ী টাকা প্রদান করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা দাস বলেন, “অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে সামাজিক বনায়নের মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং রাস্তার ধারে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করা। এছাড়া সুবিধা ভোগীদের স্বাবলম্বী করে তোলা।
এতে একদিকে যেমন প্রকৃতির সুরক্ষা হবে, অন্যদিকে স্থানীয় দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারগুলো সরাসরি সুফল পাবে। গাছের সঠিক পরিচর্যা ও পাহারার দায়িত্বও এই উপকারভোগীদের ওপর ন্যস্ত থাকে, যা তাদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।”
এছাড়াও উপকার ভোগীরা মধ্যবর্তী ফসল হিসেবে গাছের চারা ছোট থাকা অবস্থায় চারা গাছের ফাঁকে শাকসবজি বা স্বল্প মেয়াদি ফসল চাষ করে তাৎক্ষণিক আয় করতে পারেন। সে সুযোগ রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠান শেষে আমজোয়ান-বাইপুর সড়কের দুপাশে চারা রোপণ কার্যক্রমের শুভ সূচনা করা হয়।




