
পাকুন্দিয়া উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৩৮টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৯ জন। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের পাশাপাশি নানা অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন সেবাপ্রার্থীরা। দ্রুত এসব সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রবিবার ও সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, টিকিট কাউন্টার থেকে শুরু করে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে রোগীদের ভিড়। বহির্বিভাগে চিকিৎসকদের সামনে দীর্ঘ সারি। প্রতিদিন গড়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন। জরুরি বিভাগেও প্রতিদিন ৯০ থেকে ১২০ জন রোগী সেবা নেন।
হাসপাতালে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন না থাকায় এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাম চালু থাকলেও অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাচ্ছে না। অনেক ফ্যান নষ্ট। বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটরও চালু হয় না। এতে গরমের মধ্যে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বাড়ে।
৫০ শয্যার হাসপাতালে বর্তমানে ৫৮ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জন ডায়রিয়া ও দুজন ডেঙ্গু রোগী। ডায়রিয়া ওয়ার্ডটি পরিত্যক্ত গোডাউন হিসেবে পড়ে আছে। তিনটি কেবিনের একটিও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মালামাল রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ডেঙ্গু ও ডায়রিয়া রোগীদের সাধারণ রোগীদের সঙ্গে একই জায়গায় চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীদের অনেককে বারান্দার মেঝেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ অপারেশন থিয়েটার থাকলেও বর্তমানে তা বন্ধ। ২০২২ সালের ২০ জুন সিজারিয়ান কার্যক্রম চালু হয় এবং ৩০ জুলাই প্রথম সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়। পরবর্তী দুই বছরে ২৩৮টি সিজারিয়ান এবং দেড় হাজারের বেশি নরমাল ডেলিভারি হয়। তবে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর জুনিয়র বিশেষজ্ঞ (গাইনি) চিকিৎসক শাহ মোহাম্মদ হাসানুর রহমান বদলি হয়ে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে যাওয়ার পর সিজারিয়ান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
আঙ্গিয়াদি এলাকার রফিকুল ইসলাম বলেন, তিন বছর আগে তাঁর ছেলের স্ত্রী পপি আক্তারের সিজারিয়ান এই হাসপাতালেই করানো হয়েছিল। তখন সময় ও অর্থ দুটোই বেঁচেছিল। এবার আবার সন্তানসম্ভবা হলে গাইনি চিকিৎসক না থাকায় সিজার করা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে। ফলে জেলা সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে যেতে হবে, এতে বাড়তি অর্থ ও সময় ব্যয় হবে।
রোগীদের অভিযোগ, মাত্র তিনটি কাউন্টারে টিকিট দেওয়া হয়, যা রোগীর চাপের তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। আরও দুটি কাউন্টার চালু করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। ২০১২ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসকের পাশাপাশি তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরও সংকট রয়েছে। আবাসিক চিকিৎসকেরা পালাক্রমে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন।
পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. প্রবাল সরকার বলেন, অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার চালুর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অনুমতি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ডায়রিয়া ওয়ার্ড, কেবিনসহ অন্যান্য সমস্যার বিষয় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে।
কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, তিনি হাসপাতালটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন। ফ্যানগুলো ঠিক করে দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত গাইনি চিকিৎসক হাসপাতালে যোগ দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




