
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের জালে ধরা পড়েছে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে রাউজান কেরানীরহাটে খুন হওয়া আবদুল করিমের খুনের সাথে জড়িত চারজন।
১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নিবিড় তদন্তের ধারাবাহিক অভিযানে করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ৪ আসামীকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দেশীয় এলজি, এয়ার গান, রক্তমাখা চাপাতিসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত।
এর আগে এই খুনের ঘটনায় তদন্তে নেমে গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় জনসাধারণ, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী, হাটের ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসাবাদপূর্বক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয় বলে তিনি জানান। বলেন জড়িতদের ধরতে প্রথমে সিএমপির চাঁদগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা মোহরা এলাকা থেকে আটক করা হয় আসামী সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মোঃ জাবেদ (২৮) নামের দুজনকে।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয় এই ঘটনায় জড়িত খুন,ডাকাতি,মাদকসহ বহু মামলার পলাতক আসামী পারভেজের (৪৫) এর পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই গ্রামে থাকা পরিত্যক্ত গরুর ফার্ম থেকে। পরে হাটহাজারী উপজেলার দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে সেলিম(৫৫) ও আলামিন (৩০)কে। গ্রেফতার করা সকলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।
করিম খুনের নেপথ্যের কারণ উল্লেখ সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় কেরানীরহাট হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০দিন আগে আসামী পারভেজের মামা আজগরের একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছিল। পারভেজ বাইক চুরির ঘটনায় করিমকে সন্দেহ করে বার বার চাপ দিয়ে আসছিল মোটরসাইকেলটি ফেরত দিতে। চাপে থাকা করিম মোটরসাইকেলটি সে চুরি করেনি বলে পারভেজকে জানালেও পারভেজ তার কথা বিশ্বাস না করে তার উপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এমন অবস্থার মধ্যে করিমের সাথে চলাফেরায় থাকা গ্রেফতার করা আসামীদের মাধ্যমে করিমকে কেরানীর হাটে ডেকে এনে খুন করেছে।
উল্লেখ্য ওই ঘটনায় নিহত করিম রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ শফির ছেলে। তার বিরুদ্ধেও রয়েছে চুরি, মাদক, ডাকাতি, ছিনতাইসহ ১০টি মামলা।




