ঢাকা, বাংলাদেশ || রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

পৌরসভা না থাকায় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত কমলনগরবাসী

হাবিবুল বশার, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর)

  ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২১ এএম
ফাইল ছবি

প্রতিষ্ঠার ২০ বছর অতিবাহিত হলেও ৩ লাখের বেশী জনসংখ্যার বসতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলাকে পৌরসভা ঘোষণা না করায় বাড়ছে জনদুর্ভোগ-ক্ষোভ ও অসন্তোষ। উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় জনবসতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অবকাঠামোগত কার্যক্রম বাড়লেও নাগরিক সেবার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে কমলনগরকে পৌরসভা ঘোষণা করার দাবি করে আসছে। আধুনিক ও নাগরিক সুবিধা-সম্বলিত পৌরসভা গড়ে তুলতে স্থানীয় জনগন, সামাজিক সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দীর্ঘ সময় ধরে দাবী জানিয়ে আসছেন।

বুলেটিন অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, কমলনগর উপজেলা এখন আর আগের মতো শুধু গ্রামীণ জনপদ নয়। উপজেলা সদরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে জমজমাট বাজার, ব্যবসা- বাণিজ্য , শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস ও আবাসিক এলাকা। প্রতিদিন বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ উপজেলা সদরে আসেন। ফলে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক নাগরিক সেবার প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়লেও পৌরসভা ঘোষণা না হওয়ায় জনদুর্ভোগ-ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, লক্ষ্মীপুর, রায়পুর, রামগঞ্জ ও রামগতিতে পৌরসভা থাকলেও কমলনগর উপজেলায় পৌরসভা নেই। পৌরসভা হলে সড়কব্যবস্থা, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতা, বাজার ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য নাগরিক সেবা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো ও ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশ ঘটলে কর্মসংস্থানও বাড়বে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, তৎকালীন সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের প্রচেষ্টায় ২০০৫ সালের ১৭ নভেম্বর প্রশাসনিক পূনবিন্যাস জাতীয় কমিটির ৯৩ তম সভায় লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি উপজেলাকে বিভাজন করে “কমলনগর” নামে দেশের ৪৭২তম উপজেলা গঠনের প্রস্তাব অনুমোদন হয়। ২০০৬ সালের ৬ জুন কমলনগর উপজেলা অনুমোদন পায়। ওই বছরের ২০ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ২০২১ সালের দিকে কমলনগর উপজেলার সদর দপ্তর হাজিরহাট, চরলরেন্স, চরকাদিরা, সাহেবেরহাট ও চরফলকন ইউনিয়নের আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা নিয়ে পৌরসভা গঠনের বিষয়ে স্থানীয় পর্যায় একটি রূপরেখা (প্রস্তাব) তৈরী করা হয়। ৯ টি ইউনিয়ন ও ৮১ টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত কমলনগর উপজেলায় জনসংখ্যা প্রায় ৩ লাখের বেশী।

স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, কোনো এলাকাকে পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করতে হলে সাধারণত ওই এলাকায় ন্যূনতম ৫০ হাজার মানুষের বসবাস থাকতে হবে। প্রতি বর্গকিলোমিটারে গড়ে কমপক্ষে ২ হাজার মানুষের বসবাস থাকার বিধান রয়েছে। এলাকাটিকে শহর বা শহরতলির বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হতে হবে; অর্থাৎ অধিকাংশ জনগণ কৃষির বাইরে ব্যবসা, শিল্প, চাকরি বা অন্যান্য অকৃষি পেশায় নিয়োজিত থাকতে হবে। সাধারণভাবে মোট জমির অন্তত ৭০ শতাংশ অকৃষি কাজে ব্যবহৃত হতে হবে। কৃষিজমির পরিমাণ ৩০ শতাংশের বেশি হওয়া যাবে না। সড়ক, ড্রেনেজ, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহসহ মৌলিক নাগরিক সুবিধা থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট এলাকার নিজস্ব রাজস্ব আয়ের সক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু পৌরসভা গঠনের প্রয়োজনীয় সকল শর্ত পূরণ করলেও কমলনগরকে পৌরসভা রুপান্তর না করাই এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় অন্তত ১০ জন বাসিন্দা জানান, উপজেলা সদর হাজিরহাট, চরলরেন্স ও চরফলকন ইউনিয়নকে ঘিরে নগরায়ণ ঘটেছে। পৌরসভা ঘোষিত হলে এখানকার রাস্তাঘাট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন সহজ হবে। মেঘনা উপকূলীয় এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও স্থানীয় অর্থনৈতিক গতিশীলতার জন্য পরিকল্পিত শহর গড়ে তোলা প্রয়োজন। সে লক্ষ্যে পৌরসভা গঠনের প্রাথমিক শর্ত হিসেবে ওই অঞ্চলের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও অবকাঠামোর ভিত্তি উন্নত করা জরুরি। বর্তমানে কমলনগরে ৩ হাজার একশো কোটি টাকা ব্যায়ে মেঘনা নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের মতো বড় মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। রয়েছে মেঘনার তীরে বিশাল পর্যটন এলাকা। প্রতিদিন দেশের দুর-দুরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীরা ছুটে আসেন মেঘনা বীচ দেখতে। এ অঞ্চলকে অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে শক্তিশালী করতে রাস্তাঘাট ও বাজার ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে একটি পৌরসভা গঠনের জন্য সহায়ক হবে।

সুশাসনর জন্য নাগরিকের (সুজন) উপজেলা সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন জুয়েল বলেন, শুধু পৌরসভা ঘোষণা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পৌরসভা গঠনের আগে সম্ভাব্য এলাকার সীমানা নির্ধারণ, জনসংখ্যা, আয়-ব্যয়ের সক্ষমতা, অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সক্ষমতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় সরকারি শর্ত পূরণ করতে হবে। এরপর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে পৌরসভা গঠন করা হলে এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।

কমলনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মজিদ বলেন, বর্তমান সাংসদ ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজানের হাতধরে ২০০৬ সালে কমলনগর উপজেলা প্রতিষ্ঠা লাভ করে। আমরা বিশ্বাস করি, এবারো তার নেতৃত্বে পৌরসভা ঘোষণা হবে।

কমলনগর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. দিদার হোসেন বলেন, পার্শ্ববর্তী রামগতি উপজেলায় একটি পৌরসভা থাকলেও কমলনগরে পৌরসভা নেই। ফলে সমপরিমাণ জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও কমলনগর নাগরিক সুযোগ-সুবিধায় পিছিয়ে রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা কমলনগরকে পৌরসভা ঘোষণার দাবি জানিয়ে আসছি। প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা সহজ করার পাশাপাশি উপজেলা সদরকে শহরে রুপান্তরিত করার জন্য পৌরসভা ঘোষণা করা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার, জনপ্রশাসন, সংস্থাপন, আইন, ভূমি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কমলনগরকে পৌরসভা ঘোষণার দাবি জানান।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাহাত উজ জামান বলেন, কমলনগরকে পৌরসভা ঘোষণার জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি জানিয়ে আসলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে এখন পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোন চিঠি তিনি পাননি।

জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বর্তমান সরকার নাগরিক সেবা সহজ করতে বদ্ধপরিকর। সে লক্ষ্যে কমলনগরকে পৌরসভা করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ২০০৬ সালে বিএনপি সরকারের হাতধরে কমলনগর উপজেলা গঠিত হয়েছে। আশাকরি পৌরসভাও এ সরকারের আমলেই হবে।

গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের জন্য বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতিকে দায়ী করে পিরোজপুরে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেছে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল। একই সঙ্গে সংকটকে পুঁজি করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল তিনটায় স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। পরে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন নেতাকর্মীরা। পিরোজপুর সদর উপজেলা ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজ মাতুব্বর। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মনি, সদস্যসচিব তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাদিম শেখ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নাদিম মল্লিক, সদস্যসচিব আহসান দরানি, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম তুহিন, সদর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ রায়হান ও প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ খানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে নেতারা বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব এবং বিগত সরকারের ভুল অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক নীতির কারণে দেশে গ্যাস ও জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বক্তারা আরও বলেন, কৃষি উৎপাদন ও অর্থনীতি সচল রাখতে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা জরুরি। মজুতদারি ও অতিরিক্ত মুনাফা ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ সফল করতে জনগণকে সচেতন ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তারা।
গ্যাস-জ্বালানি সংকটের জন্য গত সরকারকে দায়ী করে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার গ্রামীন সড়ক ও প্রতিষ্ঠানের ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় উন্নয়নভোগী এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত সদর উপজেলার চরসিরতা ও পরানগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে এসব প্রকল্প উদ্বোধন করেন তিনি। প্রকল্পগুলো হলো- কোনাপাড়া রফিকুলের বাড়ী হতে ঈওগাহ মাঠ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার, চরখরিচা ইদগাহ মাঠ হাত পীরবাড়ী সড়ক ও কালভার্ট সংস্কার, খাজা মাঈন উদ্দিনের বাড়ী হইতে আজিজুল হক সাহেবের বাড়ী মেইন রাস্তা সংস্কার, সিরতা বাজারের দক্ষিন পাড়া রাস্তা সংস্কার, চরভাবানীপুর পশ্চিমপাড়া মসজিদ হতে মাহবুব আলমের বাড়ী পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, সিরতা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ছাত্রীদের নামাজ খানা নির্মাণ, খালেরপার হতে কইট্রার মোড়ের রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ, চরখরিচা আইন উদ্দীনের বাড়ীর পাকা রাস্তা হাফ সলিং, জামিয়া শাহমুদিয়া চরখরিচা মাদরাসার আসবাবপত্র সংস্কার, চরখরিচা মেইন রোড থেকে মামুনের বাড়ী রাস্তা সংস্কার এবং চরসিরতা হাজী সুলতান মহিলা মাদরাসা পাকা রাস্তা হইতে দক্ষিণ পাড়া জামে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সলিং। এদিকে, উদ্বোধন কর্মসূচি শেষে বিকালে চরসিরতা বাজারে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন এমপি আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে যোগসাজসে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাই আসন্ন দুর্গাপূজায় সবাইকে সজাগ থাকতে হবে, কেউ যেন কোনভাবে পূজামন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে। কারণ যে কোন ধর্মীয় আচার, অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। এজন্য প্রতিটি এলাকার র্পূজামন্ডপে বিএনপির নেতাকর্মীদের নজরদারি রাখতে হবে।’  এসব কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি বিএনপির আহবায়ক হেলাল আহম্মেদ, সদস্য সচিব আতাহারুল ইসলাম বুলবুল, জেলা বিএনপির সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহম্মেদ শামীমসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ময়মনসিংহে ১১ উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন করলেন এমপি ওয়াহাব
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
ঢাকের বাদ্য, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছে সিলেটের পূজামণ্ডপগুলো। ফুল, ধূপ ও আগরবাতির সুগন্ধে সৃষ্টি হয়েছে এক আনন্দঘন পরিবেশ। দেবী দুর্গার আগমনকে ঘিরে সিলেটজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। মণ্ডপগুলো সাজানো হয়েছে নানা রঙের আলোকসজ্জা ও দৃষ্টিনন্দন সাজে। পূজার আনন্দ ভাগ করে নিতে বিভিন্ন বয়সের ভক্তরা মণ্ডপে ভিড় করছেন। তাঁরা দেবীর কাছে প্রার্থনা করছেন এবং দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনা করছেন। সিলেট নগরের বিভিন্ন মন্দির ও সার্বজনীন পূজামণ্ডপে চলছে ধর্মীয় সংগীত, পূজা-অর্চনা ও নানা আয়োজন। পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও উৎসবকে ঘিরে বিরাজ করছে আনন্দ-উদ্দীপনা। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। দুর্গাপূজায় নিরাপত্তার চাদরে সিলেট :  এদকি, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে  নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।  প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট জেলা পুলিশের আওতাধীন ১১ টি উপজেলায় ৪৭১ টি পূজা মন্ডপ রয়েছে।  এ সকল পূজা মন্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে  মন্ডপের গুরুত্ব অনুযায়ী পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে।  মন্ডপ ও তার আশেপাশে এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত  করতে থানা এলেকায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি মন্ডপভিত্তিক ৯০ টি মোবাইল টিম গঠন করা হয়েছে, যারা নিয়মিত মন্ডপ পরিদর্শন করছে। থানা এলাকায় অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালিত হচ্ছে।  যে সকল মণ্ডপে জনসমাগম অধিক সেই সকল মন্ডপসমূহ চিহ্নিত করে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে যেন মানুষ ও যান চলাচল নির্বিঘ্ন থাকে।  সাধারণ পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে যারা যেকোনো নাশকতা বা অপতৎপরতা রোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো দুর্ঘটনা প্রতিরোধে দ্রুত সাড়া দান করতে প্রতিটি থানায় গঠন করা হয়েছে কুইক রেসপন্স টিম। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য পুলিশ লাইন্সসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্যান্ডবাই টিম হিসেবে রাখা হয়েছে যেন যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়। সিলেট জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো: যাবের সাদেক শারদীয় দুর্গাপূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সকল পুলিশ সদস্যকে পশোদারত্বিরে সাথে দায়ত্বি পালন করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি আইন-শৃঙ্খলা সমুন্নত রেখে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ সুষ্ঠু ভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।  
সিলেটে পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় কচা নদীর চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীতীরবর্তী বসতভিটা ও জনপদ রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ কর্মসূচি একপর্যায়ে অবরোধে রূপ নিলে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলার চরখালী ফেরিঘাট এলাকায় নদীতীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মো. আল-আমিন হোসেন, মো. মনির হোসেন ও মো. ওহাব মাঝিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। বক্তারা বলেন, চরখালী মোহনায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীতীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ি, বসতভিটা ও জনপদ ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে নদীভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে বহু পরিবার নিজেদের বসতভিটা ও সহায়-সম্বল হারানোর আশঙ্কায় রয়েছেন। তাঁরা অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং নদীতীরবর্তী জনপদ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন। মানববন্ধন চলাকালে একপর্যায়ে কর্মসূচি অবরোধে রূপ নেয়। এতে সড়ক ও নৌপথে চলাচল ব্যাহত হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পরে উপজেলা প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। এরপর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
কচা নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া শাখার আওতাধীন গাজীপুর সদর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত (৭) সদস্যবিশিষ্ট অ্যাডহক কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মো. সেলিম ভূঁইয়া।  তাঁর এ সদস্য পদ পাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সদর উপজেলার নয়াপাড়া  ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের মাঠে তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন, তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়াচর্চার প্রসারে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের। ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে সেলিম ভূঁইয়ার সাফল্য কামনা করে দোয়ার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি গাজীপুর সদর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনকে আরও এগিয়ে নিতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান খান এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন   বৃহত্তর মির্জাপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য সদর উদ্দিন শেখ খোকন, ভাওয়াল টাইগার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি আবু বক্কর সিদ্দিক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাবলুু আহমেদ, সদস্য আলমগীর হোসেন খান, কাজল আহমেদ রিয়াজ, নুরুদ্দিন খন্দকার, আহসানুল্লাহ সরকার ফাহিম প্রমুখ। এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গাজীপুর সদর উপজেলা জেটেব এর সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার ইমরান হোসেন সরকার, গাজীপুর জেলার সাবেক ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল আহমেদ রিয়াজ, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান উৎসব, ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ দপ্তর সম্পাদক রাজীব মোল্লা সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।  
গাজীপুরে ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সেলিম ভূঁইয়াকে ফুলেল শুভেচ্ছা
আরও পড়ুন
কমলনগরে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার জামায়াতে যোগদান
X