
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরে এলাকাবাসীর বিক্ষোভের মুখে একটি কোচিং সেন্টার সিলগালা করে বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ মঙ্গলবার সকালে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের ফুলবাড়ী বাজারের "দ্যা নিউ কনটেস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কোচিং" সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এ সময় কোচিং সেন্টারটির পরিচালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, ফুলবাড়ী বাজারের একপাশে হরিণা রোড সংলগ্ন একটি ভবনে ২০০৬ সালে 'দ্যা নিউ কনটেস্ট মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কোচিং' প্রতিষ্ঠা করা হয়। বর্তমানে নয়ন কুমার রায় নামের একজন এটি পরিচালনা করে আসছেন। সম্প্রতি ওই কোচিং সেন্টারে পড়তে আসা কয়েকজন শিক্ষার্থীর একটি আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হলে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এরই জেরে মঙ্গলবার সকালে এলাকাবাসী ফুলবাড়ী বাজারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং কোচিং সেন্টারটি বন্ধের দাবি জানান। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করে দেন।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায়, এই কোচিং সেন্টার এর আগে অন্য জায়গায় ছিলো তখন এরকম বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। তারপর এখানে আসার পর এরকম ছোট বিভিন্ন অঘটন ঘটেছে। তবে এবারের অঘটন সবগুলো ঘটনাকে ছাড়িয়ে গেছে। পড়াশোনা শিখতে এসে যদি তারা এসব বাজে জিনিস শিখে তাহলে কেমনে হয়। আমরা এই কোচিং সেন্টার পরিচালকের শাস্তি দাবি করছি।
কোচিং সেন্টারের পরিচালক নয়ন কুমার রায় বলেন, শিক্ষার্থীরা যে বাজে অঙ্গভঙ্গি করছে এটা আমার জানা ছিলো না৷ আমি যখন দেখি তারা এরকম করছে তাদের তখন ছুটি দিয়ে বাড়িতে যেতে বলি। আমার যে ভিডিওটা দেখা যাচ্ছে ওটা এ আই দিয়ে করা। এটা দুই দিন আগের ঘটনা এটা ইডিট করে কিছু লোক আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। আমি সেই চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে এই ভিডিওটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.ফ.ম আছাদুজ্জামান বলেন, এ ভিডিওটি আমি দেখার পর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আমার উর্ধ্বতন স্যারদের কাছে পাঠিয়ে দেয়। ফুলবাড়ি বিটের অফিসার ও টহলরত পুলিশ সদস্যদের সেখানে পাঠিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে বলি। এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে ঘটনাস্থলে আসি। স্হানীয়দের দাবির মুখে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করেন। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে শান্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস.এম মিকাইল জানান, যে কোন ধরনের অগ্রহনযোগ্য কার্যক্রমকে আমরা না বলি। যেটি অগ্রহণযোগ্য বিষয় সেটি কেউই গ্রহন করবে না। আমরা খুবি মর্মাহত এ ধরনের ঘটনা কোথাও ঘটা উচিৎ না। যেহেতু একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে সেহেতু থানা পুলিশের সহযোগিতায় আমরা ব্যাবস্হা নিয়েছি। যে ভিডিওটি আমরা দেখেছি তার আলোকে এ কোচিং সেন্টারটি সিলগালা করা হয়েছে। এই কোচিং সেন্টারের কার্যক্রম চালানোর আপাতত আর কোন সুযোগ নাই।




