
ছাত্রীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর কথোপকথন ও যৌন হয়রানির অডিও রেকর্ড ফাঁসের ঘটনায় লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. মুসলিম সরদারকে বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
১৯ আগস্ট (বুধবার) কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওই শিক্ষককে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মো. মুসলিম সরদার ছাত্রীদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর আলাপ ও যৌনতাবিষয়ক কথোপকথনের চেষ্টা করেন। এমন একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কলেজ প্রশাসন তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
এছাড়াও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগ, অব্যাহতি প্রদানের অফিস আদেশ এবং ঘটনার তদন্তসাপেক্ষ প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন কলেজ কর্তৃপক্ষ।
একটি সংবাদ মাধ্যমের বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে ওই শিক্ষককে স্থানীয় জনতা আটক করে চাঁদপুর সদর থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। ওই সময় পুলিশ স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠান। ওই সময় তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সরকারি জসিমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে ছিলেন। এর আগে তিনি চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে শিক্ষকতা করেন। চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে থাকাকালীন সময়ও ওই শিক্ষক বিতর্কিত ছিলেন। ফলে তাকে ওই সময় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সরকারি জসিমুদ্দিন কাজী আব্দুল গণি কলেজে বদলি করা হয়। তার বাড়ি চাঁদপুর জেলার মতলবে। তার স্ত্রী কুলসুমা বেগম পেশায় একজন আইনজীবী।
এদিকে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কলেজ শাখার শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন।
এবিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. মুসলিম সরদার জানান, তিনি তার মায়ের অসুস্থতার কারণে ঢাকার একটি হাসপাতালে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এবং অধ্যক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত অব্যাহতিপত্রের অফিস আদেশ সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি অবগত নয় বলে জানান।
নওয়াব ফয়জুন্নেসা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




