
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার হালিমপুর ইউনিয়নের বামনগাঁও, ছয়পাইকা, কালিকাপুর, ইন্দুরদাইর, মণ্ডলভোগসহ বিভিন্ন গ্রামে পাগলা শিয়ালের কামড়ে গত দুই দিনে অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০-২৫ জন জহুরুল ইসলাম মেডিকেলসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সাইফুল ইসলামের ছেলে মো. সাইম মিয়া (২৫), কুদ্দুস আলীর ছেলে মো. উসমান মিয়া (৩৫), মীর হোসেনের ছেলে টেনাই মিয়া (৪৫), মস্তু মিয়ার ছেলে মো. ইমন মিয়া (২৫), সৈয়দ বুরহান মিয়ার স্ত্রী রুকসানা (৩৫), মোস্তাকিম মিয়ার স্ত্রী সখিনা খাতুন (৩৫), জামাল মিয়ার স্ত্রী আকলিমা খাতুন (৪০), আনোয়ারা মিয়া (৫০) ও মো. জামাল মিয়া (৪৫)।
এ ছাড়া ওই পাগলা শিয়ালটি তিনটি ছাগল ও দুটি গরুকে কামড়িয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে চারটি গ্রামের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরকারি হাসপাতালে রোগী বাড়লেও ডাক্তার-ওষুধ সংকটের অভিযোগ
এদিকে নিকলীসহ হাওর এলাকার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার সংকটের কারণে ভর্তি রোগীরা যথাসময়ে সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব হাসপাতালে ৫-৭ জন ডাক্তার রয়েছেন। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১৫-২০ জন ডাক্তার থাকার কথা।
অভিযোগ রয়েছে, পর্যাপ্ত চিকিৎসাসেবা না পেয়ে রোগীরা বাইরে থেকে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন। এদিকে এসব উপজেলায় নিম্নমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে ওঠায় সরকারি ডাক্তাররা অধিক মুনাফার আশায় সরকারি হাসপাতালে গরিব রোগীদের সঠিকভাবে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন না বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ।
জানা যায়, বাজিতপুর একটি প্রাচীন উপজেলা। এ উপজেলার জনসংখ্যা প্রায় চার লাখ। বাজিতপুর সরকারি হাসপাতালে ১৬-১৭ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ৬-৭ জন। তাঁদের কেউ কেউ আবার ডেপুটেশনেও আছেন।
হাসপাতালে রোগীদের খাবারের মান নিম্নমানের বলেও অভিযোগ করেছেন রোগীরা। বিভিন্ন বিভাগেও পর্যাপ্ত ডাক্তার নেই। বিশেষ করে অর্থোপেডিকস বিভাগে ডাক্তার না থাকায় গরিব রোগীরা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন।
বাজিতপুর সরকারি হাসপাতালটি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হলেও গত দুই দিনে সেখানে ১০২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ছয়জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছেন। তাঁরা হলেন—বলিয়ার্দী ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে সাজু মিয়া (২২), একই ইউনিয়নের সাগর ফেনা গ্রামের আলম মিয়ার ছেলে মহসিন মিয়া (১৬), দিলালপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের আমির মিয়ার ছেলে সাকিব মিয়া (২২), দিঘীরপাড় ইউনিয়নের গিয়াসউদ্দিনের ছেলে ইউনুছ মিয়া (৩৯), একই ইউনিয়নের আবু বক্করের ছেলে আরমান মিয়া (২৮) এবং দিলালপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের কাশেম মিয়ার ছেলে সাজ্জাদ মিয়া (১৪)।
এ ছাড়া নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত দিঘীরপাড় ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের সুমন মিয়ার সাত বছর বয়সী শিশু ছেলে আরিয়ানও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ওষুধ না থাকায় বাইরে থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন।
এদিকে অতিরিক্ত গরমের কারণে দিনে-রাতে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ লোডশেডিং হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। মঙ্গলবার ও বুধবার আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ দুই দিনে গড় তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল।
অন্যদিকে নিকলী, কুলিয়ারচর, অষ্টগ্রাম ও মিঠামইন উপজেলা সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্রও একই ধরনের বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শামসুস সালেহীন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত ডাক্তার রয়েছে এবং ওষুধের কোনো সংকট নেই।”




