
বরগুনার বামনায় বাজারের ব্যাগে ভরে ফেলে যাওয়া নবজাতক কন্যাশিশুটির মায়ের পরিচয় মিলেছে। তবে শিশুটির পিতৃত্ব নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। মায়ের দাবির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট যুবক পিতৃত্ব অস্বীকার করায় বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত ২৪ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে বামনা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সামনে সড়কের পাশ থেকে কান্নার শব্দ পেয়ে একটি বাজারের ব্যাগ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। ব্যাগ খুলে তাঁরা সদ্যোজাত কন্যাশিশুটিকে দেখতে পান। পরে ফায়ার ফাইটার কামরুজ্জামান ও স্থানীয় চা বিক্রেতা তারিক হোসেন শিশুটিকে বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তারিক হোসেন শিশুটিকে নিজের জিম্মায় নেন। বর্তমানে তাঁর বোনের তত্ত্বাবধানে শিশুটির পরিচর্যা চলছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশুটির মা উপজেলার পূর্ব সফিপুর এলাকার শাহিনুর বেগম। তিনি ওমানপ্রবাসী মো. মাসুমের স্ত্রী। তাঁদের নয় বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। শাহিনুরের স্বামী প্রায় দুই বছর ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
শাহিনুর দাবি করেন, তাঁর বাবার বাড়ির পাশের প্রতিবেশী কাঞ্চন হাওলাদারের ছেলে মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল। উদ্ধার হওয়া শিশুটি জাকিরের সন্তান বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সামাজিক লোকলজ্জা ও পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে সন্তান জন্মের পর নবজাতকটিকে ব্যাগে ভরে নির্জন স্থানে রেখে আসা হয়।
তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন। তিনি শাহিনুরের সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগও অস্বীকার করেছেন এবং শিশুটির পিতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এ অবস্থায় শিশুটির প্রকৃত পিতা কে এবং জন্মের পর তাকে কে বা কারা ব্যাগে ভরে ফেলে গেছে—তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঘটনাটির পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও তদন্ত করছে পুলিশ।
বামনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, নবজাতক উদ্ধারের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে।




