
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মানবতা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার পক্ষে এবং অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে ‘নজরুল বর্ষ-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, নজরুল ছিলেন প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি এবং অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে চিরন্তন প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর বিদ্রোহী চেতনার সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বাধীনতাকামী কবিদেরও আত্মিক মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার এ বছর ‘নজরুল বর্ষ’ পালনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু একজন কবিকে স্মরণ নয়, তাঁর সাম্য, মানবতা, অসাম্প্রদায়িকতা, দেশপ্রেম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সরকার একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে, যা নজরুলের দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নজরুলের সাহিত্য ও কর্মে সমাজের খেটে খাওয়া ও সাধারণ মানুষের জীবন-সংগ্রাম এবং শোষণ, অন্যায় ও পরাধীনতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের শক্তিশালী প্রকাশ ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের সময় দেয়ালে দেয়ালে নজরুলের কবিতা লেখা ও প্রদর্শিত হতে দেখা গেছে। এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের দ্রোহ ও বিপ্লবী চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে। নতুন প্রজন্মের আস্থা অর্জনে স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং তাদের প্রত্যাশা ও মানসিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কাজ করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, অবসর গ্রহণের অর্থ অপ্রয়োজনীয় হয়ে যাওয়া নয়। দীর্ঘ কর্মজীবনে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই অভিজ্ঞতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে অবসরপ্রাপ্তদের মর্যাদা যেমন বাড়বে, তেমনি রাষ্ট্রও উপকৃত হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার বলেন, নজরুল ছিলেন সাধারণ মানুষের কবি। তিনি সাধারণ মানুষের কথা বলতেন।
সভায় বক্তারা জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন এবং বাঙালির জাতীয় জীবনে তাঁর অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতির প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




