
যশোরের জেলায় গ্রাম আদালত কার্যক্রম শুরুর পর থেকে দায়েরকৃত মামলার ১০টি ছাড়া প্রায় দেড় হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তিতে প্রায় ৪ কোটি টাকা ক্ষতি পূরন আদায় হয়েছে।
এতে বাদী-বিবাদীর অর্থ-সময় দু’টিরই সাশ্রয় হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদের সু-সজ্জিত এজলাসে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ শপথ করিয়ে গ্রাম আদালতে দায়েরকৃত মামলার পাশাপাশি বাদী-বিবাদীর উপস্থিতিতে শুনানি শেষে বছরের পর বছর উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলো গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি হচ্ছে।
গ্রাম আদালতে মামলা নিষ্পত্তিতে নজির সৃষ্টি করে চলেছে এ উপজেলা। স্বীকৃতি স্বরুপ গেলো বছর গ্রাম আদালত কার্যক্রমের তদারকিতে অবদান রাখায় শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার লাভ করেছেন ইউএনও মোঃ সম্রাট হোসেন। উপজেলার গ্রাম্য আদালতের কার্যক্রমের দিক দিয়ে শুধু জেলার মধ্যে নয়; খুলনা বিভাগে মডেল উপজেলায় পরিনত হতে চলেছে।
গ্রাম্য আদালত কার্যক্রমের কোঅর্ডিনেটর অনুপম ঘোষ জানান, গ্রাম আদালত কার্যক্রম শুরুর পর এ উপজেলায় ১ হাজার ৪৭১টি মামলা দায়ের হয়। এরমধ্যে ১০টি মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে, বাকীগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দায়েরকৃত ৩১৪টি মামলার মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২৯২টি। যার উচ্চ আদালত হতে এসেছে ৩৭টি। ওই মামলা নিষ্পত্তিতে ক্ষতিপূরণ আদায় হয়েছে ২৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭শ’ টাকা।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়েরকৃত ৬২৬টি মামলার মধ্যে ৩১টি ছাড়া বাকীগুলো নিষ্পত্তি হয়। যার মধ্যে উচ্চ আদালত হতে এসেছে ৩১টি। ক্ষতি পূরন আদায় হয়েছে ১কোটি ৮৭লাখ ২২ হাজার ৫শ’ টাকা। চলতি বছরে ৫২৮টি মামলা নিষ্পতিসহ সব মিলিয়ে ক্ষতি পূরন আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৯৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪শ’ টাকা।
ভুক্তভোগি উপজেলার জালালপুর গ্রামের মুনজিলা খাতুন জানান, গ্রাম আদালতে মামলা দায়ের দুইদিন পরই নিষ্পত্তি হয়। উপজেলার বাকোশপোল গ্রামের জোস্না বেগম জানান, গ্রাম আদালতে মামলা দায়েরের ৪দিন পরই নিষ্পত্তি হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সম্রাট হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতের এজলাস সু-সজ্জিত করে বিচারিক সেবার উপযুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪টি গ্রাম আদালত কার্যক্রম তদারকি করেন।




