
চিত্রাপাড়ের মিনি সুন্দরবনে হাতছানি দিচ্ছে সম্ভবনার নানা দিক। এখানকার নদীতে খাচায় মাছ চাষ ও প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা মিনি সুন্দরবনের বিভিন্ন গাছ-পালা থেকে আয়ের উৎস হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে নদীর দু’পাড়ে জন্ম নেওয়া গোলগাছ বড় আয়ের উৎস হতে পারে। এখানকার গোল ফলের চাহিদা বাড়ছে দিন দিন। গ্রামের গণ্ডি পেরিয়ে ফলটি শহরে লোকদের কাছে কদর বাড়ছে বলে জানালেন অনেকে। এছাড়া গোলগাছ থেকে রস বের করে উন্নত মানের গুড় তৈরি করা সম্ভব বলেও আশার বাণী শোনালেন অনেকে।
স্থানীয়দের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, সুন্দরবনের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় শত কিলোমিটার দূরে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে গেছে চিত্রা নদী। এই নদীর দু’পাড়ে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চর ও আশপাশের গ্রাম জুড়ে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নিয়েছে সুন্দর বনের বিভিন্ন গাছপালা। চিত্রার দু’পাড়ে এখন যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজের হাতছানি। এখানে সুন্দরী, কেওড়া, গরান, গোলপাতাসহ অসংখ্য প্রজাতির গাছ মাথা তুলে জানান দিচ্ছে নতুন বনের উপস্থিতি। বিশেষ করে এ বনে গোল গাছের সংখ্যাই বেশি।
বর্তমানে এসব গাছে ঝুলছে গোলফলের কাদি। এ ফলের কাদি থেকে রস বের করে উন্নত মানের গুড় তৈরি করা সম্ভব বলে জানালেন অনেকে। এটি স্বাস্থ্য সম্মত হওয়ায় গোলের গুড়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সুন্দরবন উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক জেলার শত শত মানুষ জীবিকা নির্বাহ করছে গোল গাছের গুড় তৈরি করে। চিত্রাপাড়ে অসংখ্য গোলগাছ থাকায় এখানকার লোকেরা গোল ফল থেকে গুড় তৈরিসহ এ বন থেকে বাড়তি অর্থ আয় করতে পারেন এমনি জানালেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় পরিবেশকর্মী বাবলু মণ্ডল জানান, গোলফল খেতে খুবই সুস্বাদু। তিনি মিনি সুন্দরবন এলাকা থেকে গোল ফল কিনে বাসায় নিয়ে খেয়ে দেখেছেন। এছাড়া প্রাকৃতিক উপায়ে গুড় তৈরিতে গোল গাছের তুলনা নাই। এছাড়া গোলপাতা দিয়ে ঘর তৈরি করলে আরামে বসবাস করা যায়। প্রাচীন কাল থেকে ঘর তৈরিতে গোলপাতা ব্যবহার হয়ে আসছে। গোলগাছ থেকে নানাভাবে অর্থ উপার্জন করা সম্ভব বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ বিষয়ে বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. শাহিন কবির জানান, চিত্রা পাড়ের মিনি সুন্দরবনে সম্ভাবনাময় দিক রয়েছে। এখানে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে উঠেছে সুন্দরবনের বিভিন্ন পাছ-পালা। পাশাপাশি এখানকার গোলগাছ থেকে গুড় তৈরিসহ নানাভাবে উপার্জন করা সম্ভব। এখানকার জীববৈচিত্র রক্ষা করার জন্য সকলকে সচেতন হবার আহবান জানান।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. সিফাত-আল-মারুফ জানান, গোলফল অনেকের কাছে খুবই প্রিয় খাবার। তালের আদলে এর ভেতর শাস রয়েছে এটি খেতে ভিন্নতর স্বাদ পাওয়া যায়। এছাড়া এর থেকে খাঁটি রস বের করে পরিবেশ সম্মত গুড় তৈরি করা সম্ভব। সুন্দরবন উপকূলীয় দাকোপ অঞ্চলে কৃষি অফিসের মাধ্যমে চাষিদের গুড় তৈরিতে প্রশিক্ষণ ও নানা পরামর্ম দেওয়া হয়েছে। এখানকার চাষিরা যদি কেউ বানিজ্যিক ভাবে গোল থেকে গুড় তৈরি করতে চান তাদের নানাভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।




