
রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিলাইছড়ি জোনের ২৯ বীর এর উদ্যোগে আয়োজিত মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিলাইছড়ি সেনা জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী, পিএসসি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুরজিত দত্ত।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের মেডিকেল অফিসার ও নার্সগণ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম জনপদে বসবাসকারী মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত জনবলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই বাস্তবতাকে সামনে রেখে ২৯ বীর, বিলাইছড়ি জোন, রাঙামাটি রিজিয়ন কর্তৃক স্থানীয় জনগণের জন্য গত দুই সপ্তাহব্যাপী মিডওয়াইফ ও নার্সিং প্রশিক্ষণ আয়োজন করেছে। আজ সেই প্রশিক্ষণের সফল সমাপ্তি ঘটছে। এই প্রশিক্ষণ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় পর্যায়ে প্রাথমিক মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা, নিরাপদ মাতৃত্ব, জরুরি পরিস্থিতিতে প্রাথমিক করণীয় এবং মৌলিক নার্সিং সেবা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা।
আমি বিশ্বাস করি, এই দুই সপ্তাহে আপনারা যে জ্ঞান ও ব্যবহারিক ধারণা অর্জন করেছেন, তা শুধু আপনাদের ব্যক্তিগত দক্ষতাই বৃদ্ধি করবে না-বরং নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এই আয়োজন সফল করতে বিলাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, মেডিকেল অফিসার, নার্স ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত ছিল।
তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের বলেন, আজ প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে কিন্তু আপনাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। বরং আজ থেকে আপনাদের অর্জিত জ্ঞানকে মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর নতুন দায়িত্ব শুরু হলো। আপনারা নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করবেন। গর্ভবতী মা ও নবজাতকের যথাযথ পরিচর্যায় সহযোগিতা করবেন এবং প্রয়োজনের সময় রোগীকে দ্রুত উপযুক্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা করবেন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
আজকের এই প্রশিক্ষণ কোনো বিচ্ছিন্ন আয়োজন নয়। স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ৬ সেপ্টেম্বর ২১ জন মহিলা প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। আজ ১৭ সেপ্টেম্বর উক্ত প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।




