
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশনে ট্রেন না থামায় চেইন টানার ঘটনাকে ঘিরে এক শিক্ষার্থীকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে ট্রেনে দায়িত্বরত টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) বিরুদ্ধে। তবে শিক্ষার্থীকে হেনস্তা বা মারধরে করা হয়নি বলে দাবি করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ।
তার দাবি, নিয়ম ভঙ্গের কারণে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। এ সময় তাকে ন্যূনতম পরিমাণ জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টায় সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস ট্রেনে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মৃন্ময় চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রোনমি অ্যান্ড অ্যাগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের শিক্ষার্থী।
মৃন্ময় চক্রবর্তী বলেন, কয়েক দিন ধরে সাগরদাঁড়ী ও তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশন বাজারে রাতে থামছে না বলে জানতে পারি। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমিসহ কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশনে ট্রেনের চেইন টানি। চেইন টানার পর রেলওয়ের কর্মীরা আমাকে ধরে ফেলেন। আমি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাই এবং রেলের নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা বা শাস্তি মেনে নেওয়ার কথা বলি। কিন্তু এর আগে আমাকে কটূক্তি, গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, চেইন টানা আমাদের ভুল হয়েছে, আমরা বারবার ক্ষমা চেয়েছি। রেলের আইনে যে শাস্তি আছে, সেটা মেনে নিতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু সেই ভুলের কারণে কোনও শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, অপমান বা হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মৃন্ময় বলেন, রাবি স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন থামানোর দাবি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের। বিষয়টি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে রেলে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
রেলওয়ের মহাপরিচালক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ বলেন, নিয়ম ভঙ্গ করায় শিক্ষার্থীকে কোনও হেনস্তা নয় বরং আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে কেবল ন্যূনতম জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু ছেলেটি একজন ছাত্র, তাই তার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে জেল বা কঠোর শাস্তি না দিয়ে কেবল শৃঙ্খলা বজায় রাখার খাতিরেই এই লঘু জরিমানা আদায় করা হয়।




