
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ৫ জন মৃত ব্যক্তিসহ ২২ জনকে আসামি করার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঐ এলাকার স্থানীয়রা। ক্ষোভে এবং উত্তেজনার একপর্যায়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে তার ইউনিয়ন ভুমি অফিসেই অবরুদ্ধ করে পঞ্চগড় তেতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয় যানজট ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ভজনপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের অভিযোগে ৩ টি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে মামলা করা হয়। ওই মামলায় ফয়জুল নামে একজনকে প্রধান আসামি করাসহ মোট ২২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আসামিদের মধ্যে ৫ জন বহু আগেই মারা গেছেন বলেও দাবি করেন উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা।
তাদের অভিযোগ, মামলায় মৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার নিরীহ মানুষকেও আসামি করা হয়েছে। অথচ এলাকায় ড্রেজার দিয়ে নদী থেকে যারা পাথর ও বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এমন কি জব্দকৃত ড্রেজার মেশিন মালিকদেরও মামলার আসামি না করে মামলায় মৃত ও নিরীহ ব্যক্তিদের আসামি করার অভিযোগে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ক্ষুব্ধ হয়ে ফুসে ওঠে ভজনপুর ইউনিয়নবাসী। তারা প্রথমে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করেন। পরে জাতীয় মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন যানবাহন আটকে দেন। এতে ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, প্রকৃতপক্ষে যারা ড্রেজার দিয়ে পাথর-বালু উত্তোলন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে মৃত ও নিরীহ মানুষের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে এবং যাদের আসামি করা হয়েছে তারা অনেক সভ্রান্ত পরিবার। তাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোড় দাবি জানান।
এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৎক্ষনাৎ ঘটনাস্থলে যান উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ। তাঁর হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ ভূমি কর্মকর্তাকে মুক্ত করা হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস এম আকাশ বলেন, মামলাটি প্রত্যাহার করে প্রকৃত অর্থে যারা অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত, তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এদিকে মামলার বাদী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জানান- লোকমুখে শুনে আসামিদের নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যারা প্রকৃতপক্ষে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে পাথর ও বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত তাদের বাদ দিয়ে কীভাবে এবং কোন ষড়যন্ত্রে মৃত ও নিরীহ ব্যক্তিদের নামে মামলা করা হলো।
এমতাবস্থায় মামলা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রতির আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ ও অবরোধ প্রত্যাহার করলেও বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোড় দাবি জানান তারা।




