
“আল্লাহ আমারে বাঁচাও, আমি প্রতিবন্ধীরে নিয়া ঘরে পইড়া রইছি”—এমন হৃদয়বিদারক আর্তনাদ ছড়িয়ে পড়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অসহায় বৃদ্ধ সাজু শেখ ও তাঁর স্ত্রীর কষ্টের সেই ভিডিও নজরে আসে বিভিন্ন মহলের। এবার সেই বৃদ্ধ দম্পতির পাশে দাঁড়িয়েছে শেরপুর জেলা প্রশাসক মিস ফরিদা ইয়াসমিন।
শেরপুর সদর উপজেলার খুনুয়া গ্রামের অসহায় এই দম্পতিকে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার অংশ হিসেবে তাঁদের ছোট ছেলের কর্মসংস্থানের জন্য একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো সহায়তার জন্য অপেক্ষা না করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্যানটি কিনে সরাসরি সাজু শেখের বাড়িতে নিয়ে যান শেরপুরের জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা ইয়াসমিন। পরে তিনি পরিবারের হাতে ভ্যানটি তুলে দেন।
এ সময় পরিবারটির জন্য নতুন কাপড়ও উপহার দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাৎক্ষণিক সহায়তার পাশাপাশি পরিবারটিকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সাজু শেখের ছোট ছেলেকে ভ্যানটি দেওয়া হয়েছে। ভ্যান চালিয়ে আয় করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণে ভূমিকা রাখতে পারবেন—এমনটাই প্রত্যাশা জেলা প্রশাসনের।
শুধু কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নয়, পরিবারটির বসতঘর মেরামতের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ঘর সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় টিনসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ইতোমধ্যে তাদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে অসহায় পরিবারটির মধ্যে। স্থানীয় বাসিন্দারাও জেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
তারা বলছেন, অসহায় মানুষের পাশে শুধু এককালীন সহায়তা নিয়ে দাঁড়ানো নয়, বরং কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়ে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর। জেলা প্রশাসনের দেওয়া ভ্যানটি এই পরিবারটির জীবনে নতুন আশার আলো দেখাবে বলে মনে করছেন তারা।
একসময় যে বাড়ি থেকে ভেসে এসেছিল অসহায় বৃদ্ধের “আল্লাহ আমারে বাঁচাও” আর্তনাদ, সেই বাড়িতেই এখন পৌঁছেছে নতুন ঘর মেরামতের সামগ্রী আর ছেলের হাতে উঠেছে জীবিকার নতুন অবলম্বন ব্যাটারিচালিত ভ্যান।
পরিবারটির আশা, এই সহায়তার মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা হলেও কমবে এবং নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।




