
এক দশক আগেও বর্ষায় ময়মনসিংহের ভালুকার বিভিন্ন বিলে দেখা যেত ভিন্ন রকমের মাছ ধরার দৃশ্য। বোরো ধান কাটার পর বিলে জমে থাকা হাঁটুসমান পানিতে একটু বৃষ্টি কিংবা রোদ উঠলেই গ্রামের যুবকেরা শখের বশে নেমে পড়তেন মাছ ধরতে।
কলার ডগা একটির সঙ্গে আরেকটি বেঁধে জালের মতো তৈরি করা হতো। দুজন দুই পাশ থেকে সেটি টেনে নিয়ে যেতেন। মাঝখানে একজন জালি নিয়ে অপেক্ষা করতেন। সেই জালিতে উঠে আসত ছোট ছোট কৈ, টাকি, পুঁটি, টেংরা, ভেটকি ও নানা দেশি মাছের পোনা। কারও কারও মাছ ধরার পদ্ধতিও ছিল ভিন্ন। রশির সঙ্গে ইটের টুকরা বেঁধে জালের মতো করে সেটি টেনে মাছ ধরতেন তাঁরা।
তবে কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে সেই দৃশ্য। এখন গ্রামের বিলগুলোতে আগের মতো দেশি মাছও চোখে পড়ে না। বিলের বিভিন্ন অংশে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ, জলাশয়ের পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবর্তনের কারণে অনেক দেশি মাছের উপস্থিতি কমে গেছে বলে স্থানীয়রা জানান।
প্রবীণদের ভাষ্য, আগে বর্ষা এলেই গ্রামের তরুণেরা দল বেঁধে বিলে মাছ ধরতে যেতেন। মাছ ধরা ছিল একদিকে আনন্দ, অন্যদিকে গ্রামীণ জীবনের একটি অংশ। কলার ডগা, রশি ও ইটের টুকরা দিয়ে মাছ ধরার সেই পদ্ধতি ছিল সহজ ও আনন্দের। এখন এসব শুধু তাঁদের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
ভালুকার এক প্রবীণ বাসিন্দা হারুন বলেন, “আগে বিলে পানি উঠলেই সবাই মাছ ধরতে নামত। কলার ডগা দিয়ে মাছ ধরার মধ্যে আলাদা আনন্দ ছিল। এখন এসব আর দেখা যায় না।”
নতুন প্রজন্মের অনেকে বলেন, তাঁরা বড়দের মুখে এসব মাছ ধরা ও পুরোনো দিনের গল্প শুনেছেন। কিন্তু নিজের চোখে কলার ডগা দিয়ে এভাবে মাছ ধরার দৃশ্য দেখার সুযোগ হয়নি। তাই তাঁদের কাছে এসব অনেকটা গল্পের মতোই মনে হয়।
স্থানীয়দের মতে, হারিয়ে যাওয়া দেশি মাছ ও গ্রামীণ মাছ ধরার ঐতিহ্য ধরে রাখতে বিল-জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশি মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র রক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা।




