
নিত্যদিনের অভাব-অনটন, সংসারে চরম দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেনি রেশমি আক্তার সুমাইয়ার স্বপ্ন। দারিদ্র্যকে পেছনে ফেলে মেধা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে এসএসসি পরীক্ষায় চমৎকার ফলাফল অর্জন করেছে সে—জিপিএ-৫।
কিন্তু ফল প্রকাশের পর আনন্দের সেই মুহূর্তেই যেন স্বপ্নের সামনে এসে দাঁড়ায় বাস্তবতার কঠিন দেয়াল। ভালো একটি কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবে রেশমির সেই স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে। একদিকে অসাধারণ ফলাফলের আনন্দ, অন্যদিকে উচ্চশিক্ষার পথে অর্থনৈতিক সংকট—এই দুই বাস্তবতার টানাপোড়েনে দিশেহারা হয়ে পড়ে রেশমি ও তার পরিবার।
রেশমির এই অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি নজরে আসে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সন্দ্বীপ তালুকদারের। এরপর তিনি রেশমির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন।
বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার রেশমির হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন। তাঁর এই সহযোগিতা শুধু অর্থ সহায়তা নয়—এ যেন একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বপ্নকে এগিয়ে নেওয়ার পথে মানবিকতার একটি হাত বাড়িয়ে দেওয়া।
রেশমির মতো অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখে। কিন্তু অর্থনৈতিক সংকট অনেক সময় সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই জায়গায় প্রশাসনের একজন কর্মকর্তার মানবিক উদ্যোগ একটি পরিবারের মুখে যেমন হাসি ফোটাতে পারে, তেমনি একজন শিক্ষার্থীর মনে নতুন করে সাহস ও আশার জন্ম দিতে পারে।
রেশমির চোখে এখন নতুন স্বপ্ন—ভালো একটি কলেজে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা এবং একদিন পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করা।
রেশমির পাশে দাঁড়িয়ে সেই স্বপ্নকে আরও একটু এগিয়ে দিলেন ইউএনও সন্দ্বীপ তালুকদার। তাঁর এই মানবিক সহযোগিতার জন্য পরিবার ও এলাকাবাসী আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মানুষের কল্যাণে তাঁর এই মানবিক সহযোগিতার হাত আরও প্রসারিত হোক—এ প্রত্যাশা সবার।
কারণ, একটি শিশুর হাতে তুলে দেওয়া সামান্য সহযোগিতাও কখনো কখনো তার ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের ভিত্তি হয়ে ওঠে। আর রেশমির গল্প মনে করিয়ে দেয়—দারিদ্র্য হয়তো পথকে কঠিন করে, কিন্তু মেধা, চেষ্টা ও মানুষের মানবিক সহযোগিতা সেই পথকে আবারও আলোকিত করে তুলতে পারে।




