
নওগাঁর মান্দায় নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চারটি বিগ ক্যান্টিলিভার (পথ নির্দেশক সাইনবোর্ড) স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণকাজ চলাকালে কাজের সময়, নির্মাণসামগ্রী ও কারিগরি মান নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্ন ও আপত্তি উঠলেও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা ও সমন্বয়ের পর কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ডের গোলচত্বরের দক্ষিণ পাশে স্থাপন করা হয়েছে এসব বিগ ক্যান্টিলিভার। ব্যস্ত মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ এলাকায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের দিকনির্দেশনা সহজ করা এবং সড়ক ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত করতেই এগুলো স্থাপন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চারটি বিগ ক্যান্টিলিভারের বেইজ তৈরিতে আরসিসি ঢালাই দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বেইজের দৈর্ঘ্য চার ফুট, প্রস্থ চার ফুট এবং গভীরতা ছয় ফুট। ঢালাইয়ের নিচে দেওয়া হয়েছে ইটের সোলিং। প্রথম বিগ ক্যান্টিলিভারের ঢালাইয়ের সময় স্থানীয় একটি দোকান থেকে সিমেন্ট নেওয়া হয়। পরে সাইট ইঞ্জিনিয়ার ও কার্যসহকারীর পরামর্শে নির্মাণকাজের জন্য অধিক ক্লিংকারসমৃদ্ধ সিমেন্ট অন্য দোকান থেকে সংগ্রহ করা হয়। পরবর্তী দুটি বিগ ক্যান্টিলিভার স্থাপনের কাজে ওই সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়।
কাজটি বাস্তবায়ন করেছে আমিনুল হক প্রাইভেট লিমিটেড। পরে প্রতিষ্ঠানটির সাব-ঠিকাদার আহসানের মাধ্যমে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়। নির্মাণকাজ চলাকালে গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে কাজ করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন কাজের মান ও নির্মাণসামগ্রী নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। একই সঙ্গে রাতে সরকারি প্রকল্পের কাজ করার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও তারা জানতে চান। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে গিয়ে মান্দা থানার ওসি খোরশেদ আলম দুই প্রতিবাদকারীকে ধমক ও হুমকি দেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেন ওসি।
ওসি খোরশেদ আলম বলেন, ‘হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছি। সরকারি কাজে সাধারণ লোকজনের বাধা দেওয়ার এখতিয়ার কারও নেই।’
সওজের এসডিও সুলতানা খানম বলেন, ‘ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানজট ও জননিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিগ ক্যান্টিলিভার স্থাপনের কাজ করা হয়েছে। নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যানজটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন রাতে কিছু কাজ করেছিলেন। তবে সিডিউল অনুযায়ী রাতে কাজ করা ঠিক নয়।’
প্রকল্প ব্যবস্থাপক আরিফ বলেন, ‘সিডিউল অনুযায়ীই কাজ হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম করার সুযোগ নেই। কিছুটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে কাজ নিয়ে আপত্তি তৈরি হয়েছিল। পরে বিষয়টির সমাধান হয়েছে।’
নির্মাণকাজের শেষ পর্যায়ে একটি বিগ ক্যান্টিলিভার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে স্থাপনের সময় স্থানীয়ভাবে বাধার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সেই জটিলতারও অবসান হয়। এরপর নির্ধারিত চারটি বিগ ক্যান্টিলিভারের নির্মাণ ও স্থাপনকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের এ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথ নির্দেশক সাইনবোর্ড স্থাপন হওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চালকদের দিকনির্দেশনা পেতে সুবিধা হবে। একই সঙ্গে ফেরিঘাট বাসস্ট্যান্ড এলাকার সড়ক ব্যবস্থাপনাও আরও গোছানো হবে বলে তারা মনে করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু স্থাপন করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; দীর্ঘদিন কার্যকর রাখতে বিগ ক্যান্টিলিভারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও প্রয়োজন। বিশেষ করে মহাসড়কের ব্যস্ত এলাকায় এগুলোর কাঠামোগত নিরাপত্তা, সাইনবোর্ডের দৃশ্যমানতা এবং প্রয়োজনীয় মেরামত নিয়মিত নজরদারিতে রাখলে এর সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে।
নির্মাণকাজ নিয়ে শুরুতে স্থানীয় পর্যায়ে যে প্রশ্ন ও আপত্তি উঠেছিল, আলোচনার মাধ্যমে তার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত চারটি বিগ ক্যান্টিলিভার স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন এসব সাইনবোর্ড সঠিকভাবে ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে মহাসড়কের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল চলাচলে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখে, সেটিই দেখার বিষয়।




