
দীর্ঘদিনের সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের চিত্র বদলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে রাঙামাটিতে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
এ প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি জেলার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণে ব্যয় হবে প্রায় ২৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মোট ১২টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত প্রকল্প রয়েছে।
অনুমোদিত বৃহৎ প্রকল্পের রাঙামাটি অংশে রয়েছে, বাঙালহালিয়া–রাজস্থলী সড়ক, রানীরহাট–কাউখালী সড়ক এবং বাঘাইহাট–মারিশ্যা সড়ক। প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ২০৩০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সড়ক জোনের আওতায় মোট ১৬টি উপ-প্রকল্প রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর সূত্র অনুযায়ী, রাঙামাটির তিনটি সড়ক উন্নয়নে পৃথকভাবে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, বাঙালহালিয়া–রাজস্থলী সড়কে প্রায় ১৯ কিলোমিটার উন্নয়নে ৭৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা। রানীরহাট–কাউখালী সড়কে ৬ কিলোমিটার উন্নয়নে ৪১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাঘাইহাট–মারিশ্যা সড়কে উন্নয়নে ১২১ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। তিনটি উপ-প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়িছে ২৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাঙামাটির দক্ষিণ, উত্তর ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, প্রকল্পের আওতায় রাঙামাটি সড়ক বিভাগের অধীন বাঙালহালিয়া–রাজস্থলী ও রানীরহাট–কাউখালী সড়ক ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে উন্নীত করা হবে। একইভাবে খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের আওতাধীন বাঘাইহাট–মারিশ্যা সড়কও ১২ ফুট থেকে ১৮ ফুটে প্রশস্ত করা হবে।
তিনি আরো জানান, শুধু সড়কের প্রস্থ বাড়ানো নয়, প্রকল্পের আওতায় সড়কের মানোন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত কাজ করা হবে। কাজ শেষ হলে সড়কগুলো আরও টেকসই ও নিরাপদ হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্পটি কাগজে-কলমে অনুমোদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
তাদের মতে, ২৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকার এই বিনিয়োগ শুধু তিনটি সড়কের প্রস্থ বাড়ানোর প্রকল্প নয়; এটি রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ, স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষিপণ্য পরিবহন, জনসেবা ও পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত একটি বড় অবকাঠামোগত বিনিয়োগ।
এখন প্রত্যাশা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু ও শেষ করা, নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে সড়কগুলো নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে দীর্ঘস্থায়ী করা। তাহলেই একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্প রাঙামাটির প্রত্যন্ত জনপদের মানুষের জন্য বাস্তব সুফল বয়ে আনবে।




