
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার সোনালী ব্যাংক এলাকা থেকে কমলাপুর ব্রিজ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি অটোরিকশার যত্রতত্র অবস্থান ও যানজটে প্রায়ই অচল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানোয় সড়কের একটি বড় অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলে আসছে। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংবাদ প্রকাশ হলেও পরিস্থিতির স্থায়ী কোনো পরিবর্তন হয়নি। ব্যস্ত সময়ে চৌরঙ্গী মোড়সহ আশপাশের সড়কে অটোরিকশার জট তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সোনালী ব্যাংক থেকে কমলাপুর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াতের অন্যতম পথ। ফলে প্রতিদিন রোগী ও তাঁদের স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ এ সড়ক ব্যবহার করেন। কিন্তু সড়কের বিভিন্ন অংশে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চৌরঙ্গী মোড়ের বিভিন্ন স্থানে সারিবদ্ধ ও পাশাপাশি অটোরিকশা দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেক চালক সড়কের ওপরই যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। এতে একদিকে সড়কের জায়গা কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে পেছনে থাকা যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে। ব্যস্ত সময়ে একাধিক দিক থেকে আসা যানবাহন একই জায়গায় আটকে গিয়ে যানজট আরও বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড বা যাত্রী ওঠানামার স্থান না থাকায় চালকেরা সুবিধামতো জায়গায় দাঁড়াচ্ছেন। এতে যানজটের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, ‘এই সড়কে প্রতিদিনই অটোরিকশার কারণে যানজট হয়। এ নিয়ে আগেও সংবাদ হয়েছে। কিছু সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়। স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’
আরেক পথচারী বলেন, ‘হাসপাতালের দিকে যাওয়ার এই সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ।
যানজটের কারণে রোগী বহনকারী গাড়িকেও অনেক সময় ধীরগতিতে যেতে হয়। ব্যস্ত সময়ে রাস্তা পার হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন সড়কের ওপর অবস্থান করায় তাঁদের দোকানের সামনে চলাচল ব্যাহত হয়। যানজটের কারণে সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত সময় নিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, সড়কের অব্যবস্থাপনার সঙ্গে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত অবস্থান মিলিয়ে সমস্যাটি আরও প্রকট হচ্ছে। সড়কের যেসব অংশ ভাঙাচোরা বা চলাচলের জন্য সংকুচিত, সেসব জায়গায় যানবাহনের চাপ বাড়লে দ্রুত যানজট তৈরি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্ধারিত স্থান ছাড়া সড়কের ওপর অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
তাঁরা আরও বলেন, শুধু সাময়িকভাবে যানজট নিয়ন্ত্রণ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। হাসপাতালমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ ও অটোরিকশা সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের এই সমস্যা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সড়কের অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার, অটোরিকশার নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা করবে। এতে সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি রোগী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে।




