
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ঘোষেরহাট বাজারসংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটি ভেঙে পড়ার প্রায় দুই বছর পার হলেও এখনো নতুন করে নির্মাণ করা হয়নি। এতে জিয়ানগর উপজেলার উত্তর ভবানীপুর, পত্তাশী ইউনিয়নের খেজুরতলাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের চলাচলে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি মোড়েলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষও এই ব্রিজ দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
ঘোষেরহাট বাজারকে কেন্দ্র করে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে এই সড়ক ব্যবহার করেন। উত্তর ভবানীপুর ও হোগলাবুনিয়া গ্রামের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত ঘোষেরহাট বাজারটি স্থানীয়দের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি যোগাযোগকেন্দ্র। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় কয়েকটি গ্রামের মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও স্থায়ীভাবে মেরামত বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ব্রিজের একাংশ চলাচলের উপযোগী করেছেন। ঝুঁকি নিয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করলেও ব্রিজের পশ্চিম পাশের সড়কটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় যানবাহন চলাচল করতে পারছে না।
উত্তর ভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, “এই সড়ক দিয়ে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। ব্রিজটি ভেঙে পড়ার পর সরকারি উদ্যোগে মেরামত বা নতুন ব্রিজ নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোনো রকমে পায়ে হেঁটে চলাচল করছেন। ব্রিজ না থাকায় অনেকটা পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে।”
ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ঘোষেরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “উত্তর ভবানীপুর, খেজুরতলা, পত্তাশী, চরহোগলা ও বুনিয়াসহ আশপাশের গ্রামের শিক্ষার্থীরা এই সড়ক দিয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করে। ব্রিজটি ভেঙে পড়ায় নারী ও শিশুদের চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ব্রিজটি নির্মাণ করে স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জিয়ানগর উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী ওবায়েদুল হক বলেন, “ব্রিজটির বিষয়ে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে। গুরুত্ব বিবেচনায় ব্রিজটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার দেওয়া হয়েছে।”
জিয়ানগর উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী লিখন হালদার জানান, ব্রিজটি সংস্কারের জন্য আপাতত উপজেলা রাজস্ব খাত থেকে ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ দিয়ে যতটুকু সংস্কার করা সম্ভব, তা করে আপাতত ব্রিজটি চলাচলের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি নতুন করে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রকল্পে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।




