
একজন কর্মকর্তা, দায়িত্ব তিনটি দপ্তরের। ময়মনসিংহের ভালুকায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পৌরসভা ও শিল্পসমৃদ্ধ হবিরবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন মোঃ ইকবাল হোসাইন।
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভালুকা পৌরসভার মেয়র ও হবিরবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হলে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালিয়ে নিতে তাঁর ওপর অতিরিক্ত এ দুটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকে ভূমি অফিসের নিয়মিত কাজের পাশাপাশি পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা করে আসছেন তিনি।
উপজেলা ভূমি অফিসে প্রতিদিন নামজারি, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন ও নথি নিষ্পত্তি, শুনানি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মতো কাজ করতে হয় তাঁকে। এর সঙ্গে পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম, বিভিন্ন সভা এবং সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে হচ্ছে।
একসঙ্গে তিন দপ্তরের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে কাজের চাপ। দাপ্তরিক সময় শেষ হওয়ার পরও অনেক সময় ফাইল ও নথির কাজ শেষ করতে রাত পর্যন্ত অফিসে থাকতে হচ্ছে তাঁকে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি)মোঃ ইকবাল হোসাইন বলেন, ‘নিয়মিত কাজ শেষ করার পরও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে অনেক সময় রাত পর্যন্ত অফিসে কাজ করতে হয়। এর পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সভা, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিতে হয়।’
তিনি বলেন, ‘তিনটি দপ্তরের দায়িত্ব পালন করা কঠিন হলেও জনগণ যাতে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।’
পৌরসভা কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা এক ব্যক্তি বলেন, ‘অফিসে এসে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা পেয়েছি। তবে জনপ্রতিনিধির পদগুলো পূরণ হলে নাগরিক সেবা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের কয়েকজন জানান, জনপ্রতিনিধির পদ শূন্য থাকায় প্রশাসনের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব পড়েছে। একই কর্মকর্তাকে একাধিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় তাঁর ওপর কাজের চাপও বেড়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এটি শুধু একজন কর্মকর্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের বিষয় নয়; জনপ্রতিনিধির পদ শূন্য থাকায় স্থানীয় প্রশাসনের ওপর যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে। নতুন মেয়র ও ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব নিলে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।




