
রাঙামাটির জুরাছড়িতে ‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন: সবার জন্য, সর্বত্র, প্রতিদিন’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে র্যালি, শান্তির পায়রা উড়ানো ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
পার্টনারশিপ ফর রেজিলিয়েন্ট লাইভলিহুডস ইন সিএইচটি রিজিয়ন (পিআরএলসি) প্রকল্পের আওতায় ইকোসিস্টেমস রেস্টোরেশন অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ইন সিএইচটি (ইআরআরডি-সিএইচটি) প্রজেক্ট আয়োজনে
উপজেলা সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জুরাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইমন চাকমা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য অনিল বরণ চাকমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ হানিফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব ফয়জুন্নেছা হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) পারমিতা চাকমা ও উপজেলা ফ্যাসিলিটেটিং অ্যাসোসিয়েট জয় খীসা। এ ছাড়া ইয়ুথ গ্রুপ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, শান্তি প্রতিষ্ঠা শুধু রাষ্ট্র বা কোনো প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; সমাজের প্রতিটি মানুষেরও এতে দায়িত্ব রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা, আস্থা ও মতের ভিন্নতাকে সম্মান করার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।
পারমিতা চাকমা বলেন, একজন পাহাড়ি নারী ও তরুণ হিসেবে তিনি এমন একটি ভবিষ্যৎ চান, যেখানে পরিচয়, ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা মতের ভিন্নতা কোনো বিভেদের কারণ হবে না। পাহাড়ের প্রতিটি মানুষ যেন নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ব করে বাঁচতে পারে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা।
তিনি আরও বলেন, শান্ত পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাওয়া তরুণ প্রজন্মের অন্যতম বড় চাওয়া। শান্তিপূর্ণ পাহাড়ই আগামী প্রজন্মের জন্য সবচেয়ে সুন্দর উপহার হতে পারে।
বনযোগীছড়া নেচার টিমের সদস্য জেনী চাকমা বলেন, ‘আমরা পাহাড়ের মানুষ। আমরা সংঘাত চাই না, শান্তি চাই। আমাদের শিশুরা যেন ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হয়।’
তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও ভালোবাসা আরও গভীর করতে হবে। এ জন্য তরুণদের পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।




