
জনবল সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম। ফলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে সেবাবঞ্চিত থাকছেন প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষজন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে প্রতিটি ইউনিয়নে জনসংখ্যা অনুযায়ী একটি করে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের দ্বিতল ভবন স্থাপন করেছে সরকার। এসব কেন্দ্রে একজন করে ভিজিটর, একজন সেকমো, একজন ফার্মাসিস্ট, একজন এফডব্লিউভি, একজন আয়া ও একজন করে পিয়ন থাকার কথা। ডোমার উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় স্বাস্থ্যসেবা দিতে ১২টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে পদ অনুযায়ী ৭২ জন কর্মী কর্মরত থাকার কথা থাকলেও রয়েছেন মাত্র ১৬ জন। ফলে অনেক কেন্দ্রই এখন সেবাবঞ্চিত ও অলস পড়ে রয়েছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডোমার উপজেলার ১২টি কেন্দ্রে ১২ জন ভিজিটরের মধ্যে রয়েছেন মাত্র ৪ জন। ১২ জন সেকমোর মধ্যে রয়েছেন মাত্র ২ জন। ১২ জন ফার্মাসিস্টের স্থলে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। ১২ জন এফডব্লিউভির স্থলে রয়েছেন মাত্র ৪ জন। ১২ জন আয়ার পদে রয়েছেন মাত্র ৫ জন এবং ১২ জন পিয়নের স্থলে রয়েছেন মাত্র ২ জন। এ ছাড়া ৪৯ জন এফডব্লিউএর স্থলে রয়েছেন মাত্র ২৮ জন। সরেজমিনে গিয়ে অধিকাংশ কেন্দ্র তালাবদ্ধ দেখা যায়।
ডোমার উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তবিবুর রহমান জানান, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এসব কেন্দ্র থেকে বিভিন্ন সেবা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জন্মনিয়ন্ত্রণ, মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসচেতনতা, কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, বাল্যবিবাহ রোধ, স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবার পরিকল্পনা বিষয়ে পরামর্শ এবং বিনামূল্যে ওষুধপত্র দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি দেওয়া কনট্রাসেপটিভ, খাওয়ার বড়ি, কনডম, ইনজেকশন, আইইউডি ও ইমপ্লান্ট সরবরাহ গত দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে সেবা দেওয়া অনেকটাই কমে গেছে। বিষয়গুলো নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিনিয়ত অবগত করে আসছি।’




