
স্ত্রী শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে না আসায় কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার ২৭ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানের বাবা ওমর ফারুক। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পর রাতে আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে বুধবার ভোরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ওমর ফারুক রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের হলদীবাড়ি গ্রামের মৃত জিল্লুর রহমানের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের বরাত দিয়ে কাউনিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজ গোপাল কর্মকার জানান, পারিবারিক কলহের জেরে ওমর ফারুক ও তার স্ত্রী মুকতা বেগমের মধ্যে মনোমালিন্য দেখা দেয়। পাঁচ দিন আগে রাগ করে স্ত্রী মুকতা লালমনিরহাটের তিস্তায় বাবার বাড়িতে চলে যান। স্বজন ও প্রতিবেশীদের মাধ্যমে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন ওমর।
শ্বশুরবাড়ি থেকে স্ত্রী ফিরে না আসায় মঙ্গলবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নিজ বাড়িতে কীটনাশক পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওমর ফারুক। বিষয়টি টের পেয়ে স্বজনেরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে রাত ১১টার দিকে বাড়ি ফেরেন তিনি।
পরে বুধবার ভোর ৬টার দিকে বাড়িতেই আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন ওমর। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওমর ফারুক ও মুকতা দম্পতির পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) চিকিৎসক মেহেদী হাসান জানান, মঙ্গলবার বিকেলে কীটনাশক পান করে অসুস্থ অবস্থায় এক ব্যক্তিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। পাকস্থলী পরিষ্কার করার পর তাঁকে পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। রাত ১১টার দিকে স্বজনেরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে গভীর রাতে অসুস্থ হলে আবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, কীটনাশকজাতীয় ওষুধ পান করা রোগীরা অনেক সময় প্রাথমিকভাবে সুস্থ বোধ করার পর আবার অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। এ কারণে স্বজনদের রোগীকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পরও পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
কাউনিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) মোহাম্মদ শিহাব উদ্দিন বলেন, জেদি ও রাগী স্বভাবের ওমর ফারুক স্ত্রী শ্বশুরবাড়ি থেকে না আসায় কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে স্বজনেরা পুলিশকে জানিয়েছেন। মঙ্গলবার চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে মারা যান।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। এ ঘটনায় ওমরের বড় ভাই শাকিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। তবে তদন্ত করে যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।




